ঢাকা, ১৮ মার্চ বুধবার, ২০২৬ || ৪ চৈত্র ১৪৩২
good-food

ইরান যুদ্ধে হতাহতের সংখ্যা ২৬ হাজার ছাড়াল

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৭:২৫ ১৮ মার্চ ২০২৬  

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের ১৯তম দিনে এসে সংঘাতের মাত্রা ও ভয়াবহতা ও হতাহতের সংখ্যা আশংকাজনক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী চলমান সংঘাতে এখনও পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৫০০ সামরিক-বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। সব দেশ মিলিয়ে আহতের মোট সংখ্যা ২৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে হাজার হাজার মানুষের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এর মধ্যে ইরানেই সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ১ হাজার ৪৪৪ জন নিহত এবং ১৯ হাজার ৩২৪ জন আহত হয়েছেন। তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক রেডক্রিসেন্ট জানিয়েছে, ইরানের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

কেবল ইরান নয়, মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে লাশের সারি এবং হাসপাতালের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যুদ্ধের অন্যতম ফ্রন্টলাইন হিসেবে লেবাননে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯১২ জনে। বুধবার সকালেও বৈরুতের কেন্দ্রস্থলে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ৬ জন নিহত এবং ২৪ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইসরায়েলে এখনও পর্যন্ত ২১ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৯ জন বেসামরিক নাগরিক এবং ২ জন সেনাসদস্য। দেশটিতে আহতের সংখ্যা ৩ হাজার ৫০০ ছাড়িয়েছে। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলায় ১৩ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত এবং প্রায় ২০০ জন আহত হয়েছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, সংঘাত না থামলে এবং চিকিৎসা সহায়তার করিডোর খুলে না দিলে আহতদের একটি বড় অংশকে বাঁচানো সম্ভব হবে না। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় জরুরি চিকিৎসা সামগ্রী পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

ইসরায়েলি হামলায় ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি এবং বাসিজ কমান্ডার গোলামরেজা সোলেইমানি নিহত হওয়ার পর ইরানের অভ্যন্তরে শোকের আবহ বিরাজ করলেও থেমে নেই ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা। তেহরানের আশেপাশে বাসিজ বাহিনীর অবস্থান, কমান্ড সেন্টার এবং ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে বুধবার ব্যাপক বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে।

তেহরানের পাশাপাশি ভোরের দিকে লেবাননের রাজধানী বৈরুতের কেন্দ্রস্থলে এবং দক্ষিণ শহরতলিতেও কোনও সতর্কবার্তা ছাড়াই ব্যাপক বিমান হামলা চালানো হয়েছে। একই সময়ে পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রনালি সংলগ্ন ইরানের বিভিন্ন ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে লক্ষ্যভেদী হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পেন্টাগন জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে ইরানের ‘চোখরাঙানি’ বন্ধ করতেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে।

এর জবাবে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি বর্ষণ করেছে ইরান। ইসরায়েলের তেল আবিবের কাছে রামাত গান এলাকায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২ জন নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলের পাশাপাশি সৌদি আরব, কুয়েত এবং জর্ডানের আকাশসীমায় নিয়মিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে ইরান।

পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় মুসলিম দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের জরুরি বৈঠক ডেকেছে সৌদি আরব। এ ছাড়া আকাশসীমা অনিরাপদ হওয়ায় ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ দোহাগামী ফ্লাইট ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত স্থগিত করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এই যুদ্ধ গভীর সংকটের সৃষ্টি করেছে। ইরানের যুদ্ধের বিরোধীতা জানিয়ে মঙ্গলবার মার্কিন শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা জো কেন্ট পদত্যাগ করেন। ইসরায়েল এবং তাদের শক্তিশালী লবিং গ্রুপের চাপেই যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে জড়িয়েছে বলে অভিযোগ তুলেন তিনি।

এদিকে হরমুজ প্রণালীতে সামরিক সহযোগীতা পাঠাতে অনীহা প্রকাশ করায় ন্যাটো মিত্র, জাপান এবং অস্ট্রেলিয়ার ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট বিশ্বের সব মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটকে তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অবিলম্বে পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছে।

বিশ্ব বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর