কবিতার খাতা ছেড়ে ভোটের লড়াইয়ে নেমেছিলেন বিদ্রোহী কবি
লাইফ টিভি 24
প্রকাশিত: ২২:১৭ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে আমরা চিনি বিদ্রোহের কবি হিসেবে। তিনি লিখেছেন অন্যায় আর শোষণের বিরুদ্ধে, মানুষের অধিকার নিয়ে, সাম্য আর মানবতার কথা বলে গেছেন সারা জীবন। জীবন। কুসংস্কার, ধর্মান্ধতা আর সংকীর্ণতার বিরুদ্ধে তার লেখা ছিল ধারালো। কিন্তু তার জীবনের একটি অধ্যায় অনেকেরই অজানা। এক সময় তিনি জনপ্রতিনিধি হতে চেয়েছিলেন। সত্যিই তিনি নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলেন এবং ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট চেয়েছিলেন।
১৯২৬ সালের ঘটনা। ভারতবর্ষ তখনো ব্রিটিশ শাসনের অধীনে। সেই বছরের শেষ দিকে ভারতীয় কেন্দ্রীয় আইনসভা নির্বাচনের আয়োজন করা হয়। নজরুল তখন সারা বাংলায় অত্যন্ত জনপ্রিয় এক নাম। সেই সময় ঢাকা বিভাগ থেকে আইনসভায় দুজন মুসলিম প্রতিনিধির আসন ছিল। নজরুল ঠিক করলেন তিনি নির্বাচনে অংশ নেবেন। শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের অধিকারের কথা আইনসভায় পৌঁছে দেওয়াই ছিল তার মূল লক্ষ্য। তিনি কংগ্রেস সমর্থিত স্বরাজ দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে দাঁড়ান। তার নির্বাচনি এলাকাটি ছিল বিশাল। বর্তমান ঢাকা, ফরিদপুর, বাকেরগঞ্জ ও বৃহত্তর ময়মনসিংহ নিয়ে গঠিত একটি আসন থেকে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
নজরুল যখন নির্বাচনে লড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন, তখন তার মনে ছিল অগাধ আত্মবিশ্বাস। তিনি ভাবতেন বাংলার মানুষ যেভাবে তাকে এবং তার কবিতাকে ভালোবাসে, নির্বাচনে তারা তাকে ঠিক সেভাবেই দুহাত ভরে ভোট দেবে। নির্বাচনের প্রচারে কবি যখন ফরিদপুরে যান, তখন সেখানে দেখা হয় পল্লিকবি জসীমউদ্দীনের সাথে। নজরুল খুব হাসিমুখে জসীমউদ্দীনকে বলেছিলেন, জসীম তুমি কোনো চিন্তা কোরো না। নিশ্চয়ই সবাই আমাকে ভোট দেবে। আমি তো ঠিক করেছি ঢাকা থেকে শতকরা নিরানব্বইটি ভোট পাব। তোমাদের ফরিদপুরের ভোট যদি অল্প কিছু পাই তবেই কেল্লাফতে। নির্বাচনে জিতলে আমাকে মাঝে মাঝে দিল্লি যেতে হবে, তখন তোমরাও আমার সাথে যাবে।
কিন্তু ভোটের মাঠে নামতেই বাস্তবতা বদলে যায়। রাজনীতি আর সাহিত্য এক জিনিস নয়। নির্বাচনে টাকা লাগে, সংগঠন লাগে, কর্মী লাগে। কবিতার জগত আর ভোটের মাঠের হিসাব যে সম্পূর্ণ আলাদা, তা কবি খুব দ্রুতই বুঝতে পারলেন। এখনকার সময়ে নির্বাচনে যেমন জলের মতো টাকা খরচ হয়, সেই সময়েও খরচ করার মতো সামর্থ্য সবার থাকত না। নজরুলের সম্বল ছিল কেবল মানুষের ভালোবাসা। নির্বাচন করতে কেমন টাকা লাগে সে বিষয়ে তার কোনো ধারণাই ছিল না। স্বরাজ দলের নেতা বিধানচন্দ্র রায় তাকে নির্বাচনের খরচের জন্য মাত্র ৩০০ টাকা দিয়েছিলেন। এই সামান্য টাকা নিয়ে বিশাল নির্বাচনি এলাকায় প্রচারণা চালানো ছিল প্রায় অসম্ভব। প্রচারের লোকবল কম থাকায় কবি নিজেই দ্বারে দ্বারে ঘুরতে শুরু করেন।
ঢাকার বেচারাম দেউড়ির ৫২ নম্বর বাড়িতে পীর সৈয়দ শাহ মোহাম্মদ ইউসুফ কাদেরীর আস্তানায় তিনি কিছুদিন অবস্থান করে প্রচার চালান। ফরিদপুরেও কয়েক দিন মাঠে কাজ করেন। কিন্তু অর্থের অভাবে সব জায়গায় পৌঁছাতে পারেননি। নজরুলের এই নির্বাচনি যাত্রা সহজ ছিল না। সেই সময় রক্ষণশীল মুসলিম সমাজ নজরুলের ওপর বেশ ক্ষিপ্ত ছিল। তার নামে কাফের ফতোয়াও দেওয়া হয়েছিল। তবে কবি দমে যাওয়ার পাত্র ছিলেন না। ফরিদপুরের পীর বাদশা মিয়া কবিকে সমর্থন করে একটি ফতোয়া লিখে দিয়েছিলেন যাতে মানুষ তাকে ভোট দেয়। সেই ফতোয়ার কাগজ নিয়ে নজরুল খুব উৎসাহের সাথে ফরিদপুরে প্রচার চালান। জসীমউদ্দীন কবির সাথে থেকে এই প্রচারণার সাক্ষী ছিলেন।
একটি মজার কিন্তু কষ্টের স্মৃতি জসীমউদ্দীন তার লেখায় তুলে ধরেছেন। কবি যখন ফরিদপুরের প্রভাবশালী নেতা তমিজউদ্দীন খানের বাড়িতে ভোট চাইতে গেলেন, তখন সেখানকার এক সভাসদ কবিকে কাফের বলে অপমান করেন। নজরুল সেই অপমান গায়ে না মেখে কেবল হাসলেন। তিনি বললেন, আপনারা আমাকে কাফের বলছেন এর চেয়েও কঠিন কথা আমাকে শুনতে হয়েছে। আমার গায়ের চামড়া অনেক পুরু। তবে আমি খুশি হবো যদি আপনারা আমার দু একটি কবিতা শোনেন। এরপর কবি যখন তার মহররম কবিতাটি আবৃত্তি করলেন, তখন দেখা গেল যে মানুষটি তাকে অপমান করেছিলেন তার চোখ দিয়েই সবার আগে পানি পড়ছে। কবিতা শুনে সবাই মুগ্ধ হলেও রাজনীতির মারপ্যাঁচে তারা কবির পাশে দাঁড়াতে রাজি হননি। তমিজউদ্দীন সাহেব তাকে আড়ালে ডেকে নিয়ে জানিয়ে দিলেন যে তারা অন্য এক জমিদার প্রার্থীকে সমর্থন করবেন। এমনকি সেদিন কবিকে সেই বাড়িতে দুপুরবেলা খাওয়ার জন্য কেউ একবার অনুরোধ পর্যন্ত করেনি। ক্ষুধার্ত কবিকে নিয়ে জসীমউদ্দীন পরে এক সাধারণ হোটেলে খাবার খেয়েছিলেন।
নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে এলে নজরুল বুঝতে পারলেন যে মানুষের ভালোবাসা আর ভোট পাওয়া এক বিষয় নয়। তার প্রতিদ্বন্দ্বী তিনজনই ছিলেন প্রভাবশালী জমিদার। তাদের টাকা ও ক্ষমতার দাপটের কাছে সাধারণ এক কবির প্রচার ছিল খুবই ম্লান। ১৯২৬ সালের ২৩ নভেম্বর নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হলো। দেখা গেল মোট ১৮ হাজার ১১৬ জন ভোটারের মধ্যে নজরুল পেয়েছেন মাত্র ১ হাজার ৬২টি ভোট। পাঁচজন প্রার্থীর মধ্যে তিনি হয়েছিলেন চতুর্থ। তার প্রাপ্ত ভোট এতই কম ছিল যে তার জামানতের টাকা বাজেয়াপ্ত হয়। এই পরাজয় কবিকে এক বড় শিক্ষা দিয়েছিল। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে কাব্য আর রাজনীতি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। ভোটের মাঠে কবিখ্যাতি খুব একটা কাজে আসে না।
ব্রিটিশ আমল থেকেই অনেক কবি লেখক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মোহাম্মদ আকরম খাঁ, সৈয়দ আবুল মনসুর আহমদ ও অধ্যাপক শাহেদ আলী নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। কিন্তু নজরুলের অভিজ্ঞতা ছিল ভিন্ন। এরপর তিনি আর কখনো নিজে নির্বাচনে দাঁড়াননি। রুটির দোকানে কাজ করা থেকে লেটো গানের দলে যোগ দেওয়া, সৈনিক জীবন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, সাহিত্য ও সংগীত সৃষ্টি সব মিলিয়ে নজরুলের জীবন ছিল বৈচিত্র্যে ভরা। ভোটে তিনি হেরেছিলেন, কিন্তু মানুষের মনে তিনি অনেক আগেই জিতে গিয়েছিলেন।
- ভাত রান্নার আগে চাল ভালো করে ধুতে বলা হয় কেন?
- মোটরসাইকেলের সামনেও নম্বর প্লেট রাখা বাধ্যতামূলক
- বিএসএফের হাতে আটক দুই পুলিশ সদস্যকে ফেরত আনল বিজিবি
- এডিস মশা শনাক্ত করবে ‘স্মার্ট ফাঁদ’
- এনআইডিতে নাম, বয়স ও ঠিকানা সংশোধনে যেসব কাগজপত্র লাগবে
- ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডে কমবে দারিদ্র্য, ধারণা বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের
- বয়স্করা যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন
- বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ
- বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের সূচি পরিবর্তন
- ঢাকার বায়ুদূষণ দেশের জন্য লজ্জার বিষয়: প্রধানমন্ত্রী
- ‘বাংলাদেশ পথ দেখিয়েছে’, নেহার ভিডিও নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ বিজেপির
- প্রক্রিয়া শুরু
মালয়েশিয়ায় যেভাবে হবে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ - দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহারে চোখে জ্বালাপোড়া, সমাধান কী?
- ওষুধ কারখানার আগুনে ক্ষয়ক্ষতি হলেও প্রাণহানি নেই
- নোবেল পুরস্কারের ফেসবুক পেজে রবীন্দ্রনাথ ও রাসেলের ১১৪ বছরের চিঠি
- ক্যারিয়ার সেরা র্যাঙ্কিংয়ে হাসান মাহমুদ
- রাশিয়ায় নিয়ে যুদ্ধে পাঠানো ৩০ বাংলাদেশির ২০ জনের মৃত্যু
- অপারেশন ক্লিন হার্টের মতো অভিযানের পরিকল্পনা নেই
- দূষণজনিত মাথাব্যথা নাকি মাইগ্রেনের সমস্যা? বুঝবেন যেভাবে
- সমুদ্র তীরে দাঁড়িয়ে দৈত্যাকার দানব
- নিউটনের ঢের আগে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টের পান দা ভিঞ্চি!
- সেরা ঘুমের প্রতিযোগিতা, পুরস্কার ১৪ হাজার ডলার
- নাফ নদীতে ইয়াবা পাচারের ‘ডুবন্ত সাবমেরিন’ উদ্ধার
- বাংলাদেশ থেকে জয় ছিনিয়ে ড্র আফগানিস্তানের
- বন্ধুর চেয়ে শত্রুর নাম বেশি মনে থাকে কেন?
- সারাদেশে ২ দিন এলপিজি বিক্রি বন্ধ থাকবে
- অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন রবার্ট ই হল ও মাইকেল উডফোর্ড
- বাংলাদেশসহ কয়েক দেশের শিক্ষার্থী ভর্তিতে কঠোর যুক্তরাজ্য
- বিধবা কার্ড দিলে সবার আগে এমপির বউ নেবে: হাসনাত আবদুল্লাহ
- মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে রেমিট্যান্স কমার শঙ্কা, নতুন শ্রমবাজারে নজর
- সন্দেহের বশে বাংলাদেশি তকমা দিয়ে পুশইন নয়: কলকাতা হাইকোর্ট
- বিয়ের জন্য যেমন ছেলে চান মিমি
- যেসব খাবার একসঙ্গে খেলে বেশি পুষ্টি মিলে
- বিমানবন্দরে ‘সোনার ডিম’ উদ্ধার: ৫ দিনের রিমান্ডে আসামি
- রূপপুরের বিদ্যুৎ দ্রুত জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ: রোসাটম
- শান্তিতে নোবেলজয়ী কে এই নাভি পিল্লাই
- হ্যাটট্রিক করে ইতিহাসে হাসান মাহমুদ
- দূষণজনিত মাথাব্যথা নাকি মাইগ্রেনের সমস্যা? বুঝবেন যেভাবে
- হঠাৎ চুল পড়া বাড়লে কি করবেন?
- দুর্গাপূজা: বাঙালি হিন্দুদের বড় ধর্মীয় উৎসবে পরিণত যেভাবে
- অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন রবার্ট ই হল ও মাইকেল উডফোর্ড
- বন্ধুর চেয়ে শত্রুর নাম বেশি মনে থাকে কেন?
- সারাদেশে ২ দিন এলপিজি বিক্রি বন্ধ থাকবে
- একটি দৃশ্যের জন্য এখনো বারবার মহড়া দেন অমিতাভ
- সেরা ঘুমের প্রতিযোগিতা, পুরস্কার ১৪ হাজার ডলার
- জনগণের অর্থের প্রতিটি পয়সা জাতীয় স্বার্থে ব্যয়ের নির্দেশ
- মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে রেমিট্যান্স কমার শঙ্কা, নতুন শ্রমবাজারে নজর
- দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহারে চোখে জ্বালাপোড়া, সমাধান কী?
- সমুদ্র তীরে দাঁড়িয়ে দৈত্যাকার দানব
- বাংলাদেশসহ কয়েক দেশের শিক্ষার্থী ভর্তিতে কঠোর যুক্তরাজ্য




