ঢাকা, ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার, ২০২৬ || ৩০ মাঘ ১৪৩২
good-food
২৭

খুলনায় ভোটকেন্দ্রে উত্তেজনা, বিএনপি নেতার মৃত্যু

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৩:১৭ ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  

খুলনা সদরের আলিয়া মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও হট্টগোলের মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মহিবুজ্জামান কচি নামের এক বিএনপি নেতার মৃত্যু হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ১০ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মহিবুজ্জামান কচি খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক ছিলেন। তিনি নগরীর হাজী মহসিন রোড বাই লেনের বাসিন্দা।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, সকাল ৮টার দিকে আলিয়া মাদ্রাসা একাডেমিক ভবন কেন্দ্রের সামনে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় হট্টগোলের একপর্যায়ে মহিবুজ্জামান কচি অসুস্থ হয়ে পড়েন।

খুলনা সদর থানা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইউসুফ হারুন মজনু অভিযোগ করে বলেন, “সকাল থেকেই কেন্দ্রে উত্তেজনা ছিল। আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জামায়াতের প্রচারণায় ছিলেন। তাকে বাধা দিলে তিনি বিএনপি নেতা কচিকে ধাক্কা দেন। এতে তিনি গাছের সঙ্গে মাথায় আঘাত পেয়ে মারা যান।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জামায়াতের কেন্দ্র পরিচালক মাহবুবুর রহমান বলেন, “আমাদের নারী কর্মীদের বিএনপির লোকজন বের করে দিচ্ছিল। আমি বাধা দিলে তাদের একজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। কাউকে ধাক্কা বা মারধরের ঘটনা ঘটেনি। মাদ্রাসায় সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে, যাচাই করলে সত্য বেরিয়ে আসবে।”

কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘‘ঘটনাটি কেন্দ্রের বাইরে ঘটেছে এবং এটি তার আওতাভুক্ত বিষয় নয়।’’

ঘটনাস্থলে দায়িত্বে থাকা সদর থানার এসআই খান ফয়সাল রাফি বলেন, “উত্তেজনার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। তখন একজনকে সিএনজিযোগে বাইরে নিয়ে যেতে দেখা যায়। এখানে ধাক্কাধাক্কি বা হাতাহাতির কোনো ঘটনা ঘটেনি।”

খুলনা-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু অভিযোগ করে বলেন, “আলিয়া মাদ্রাসায় জামায়াত নেতার ধাক্কায় বিএনপি নেতা কচি নিহত হয়েছেন। আমরা অধ্যক্ষ ও জামায়াত নেতা মাহবুবের গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।”

অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থীর প্রধান এজেন্ট শেখ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এ ঘটনায় জামায়াতকে জড়ানো দুঃখজনক। আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জামায়াতের কেউ নন।”

আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি আব্দুর রহিম মিয়া বলেন, “আমি অন্য কেন্দ্র থেকে ভোট দিয়ে ফিরছিলাম। তখন দেখি কয়েকজন নারী ভোটারকে বের করে দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি শান্ত করতে বলেছি, কাউকে ধাক্কা দেইনি।”

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ভোট শুরুর দিকে কয়েকজন নারী ভোটারকে ঘিরে কথা-কাটাকাটির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলে উত্তেজনা আরও বাড়ে। ওই সময় বিএনপি নেতা মহিবুজ্জামান কচি অতিরিক্ত উত্তেজিত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

পরে তাকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, নৌবাহিনী ও মোবাইল কোর্ট ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।