ঢাকা, ২১ এপ্রিল রোববার, ২০১৯ || ৮ বৈশাখ ১৪২৬
LifeTv24 :: লাইফ টিভি 24
৪৮

গর্ভাবস্থায় কতবার আল্ট্রাসাউন্ড করাবেন?

প্রকাশিত: ২২:৪৪ ২৬ জানুয়ারি ২০১৯  


গর্ভাবস্থায় শিশুর নিরাপদ অবস্থানসহ অন্যান্য দরকারি নানা তথ্য জানা খুবই জরুরি। মূলত এ কারণেই গর্ভবতী মায়েদের আল্ট্রাসাউন্ডের জন্য পরামর্শ দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞরা। তবে কতবার আল্ট্রাসাউণ্ড করা যায় - এ নিয়ে রয়েছে অনেক ধরনের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য। রয়েছে ভুল ধারণাও।

সাধারণত গর্ভাবস্থায় শিশুর ফটো, অ্যামনিয়োটিক স্যাক, গর্ভফুল এবং ডিম্বাশয়ের ছবি প্রদর্শনের জন্য আল্ট্রাসাউন্ড করা হয়। শিশুর বিশেষ শারীরিক অস্বাভাবিকতা বা ত্রুটিগুলি এতে দৃশ্যমান হয়।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থায় আল্ট্রাসাউন্ড চামড়া পৃষ্ঠের ওপরে করা হয়। বিশেষ এক ধরনের জেল ব্যবহার করা হয় এক্ষেত্রে। মাতৃগর্ভে থাকা সবকিছু স্পষ্টতর বোঝা যায় এতে।

আরেকটি বিকল্প পদ্ধতি ট্রান্সভ্যাজাইনাল আল্ট্রাসাউন্ড। নলাকার প্রোব যোনিপথে দিয়ে আল্ট্রাসাউন্ড করা হয়। এ পদ্ধতিতে গর্ভের শিশুর ছবির কোয়ালিটি অনেক ভালো পাওয়া যায়।

জরায়ু ও ওভারিতে কোনো সমস্যা আছে কি-না তা শনাক্ত করতে প্রেগন্যান্সির শুরুর দিকে পরীক্ষাটি করা হয়। এছাড়া কত দিনের প্রেগন্যান্সি তাও নিরুপণ করা সম্ভব।

আল্ট্রাসাউন্ড কতটা নিরাপদ ?

চিকিৎসার যে কোনো পদ্ধতিতেই সামান্য ঝুঁকি থাকতেই পারে। তবে, গর্ভাবস্থায় আল্ট্রাসাউন্ড করানো নিজের বা গর্ভের সন্তানের জন্য ক্ষতিকর - এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অবশ্য কমমাত্রার রেডিয়েশন ব্যবহার করে প্রশিক্ষিত সোনোগ্রাফার দিয়ে আল্ট্রাসাউন্ড করানো উচিৎ। এক্স-রের মতো উচ্চমাত্রার রেডিয়েশন আল্ট্রাসাউন্ডে ব্যবহার করা হয় না।

যেসব কারণে আল্ট্রাসাউন্ড করাবেন :

প্রেগন্যান্সি শুরুর দিকে একবার -

১. এক বা একাধিক ভ্রূণ নিশ্চিতকরণে

২.  প্রসবের তারিখ নির্ধারণ বা ভ্রূণের বয়স নিরুপণে

পরে আরেকবার -

১. গর্ভজাত শিশুর সুস্থতা সুনিশ্চিতে

২. গর্ভফুলের সঠিক অবস্থান নিশ্চিতকরণে

৩. এমনিওটিক ফ্লুইড পরিমাণ যাচাইয়ে

৪. বাচ্চার সঠিক অবস্থান নিশ্চিতকরণে

৫.  বাচ্চার ওজন পরিমাপ করতে

কতবার করানো উচিত ?

হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের অবস্টেট্রিক্স এবং গাইনোকোলজি বিভাগের ইন্সট্রাক্টর মেন্ডিওলার মতে, বেশিরভাগ গর্ভবতীর দু-বার আল্ট্রাসাউন্ড যথেষ্ট। কবে নাগাদ প্রসব হবে সেজন্য গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসের মধ্যে এবং ১৮-তম সপ্তাহের মধ্যে গর্ভজাত শিশুটির সুস্থ স্বাভাবিক গঠন নিশ্চিতকরণে দ্বিতীয়বার এটি করানো যেতে পারে। এসময় গর্ভের শিশুটি ছেলে নাকি মেয়ে জেনে নেয়া যায়।

তিনি বলেন, প্রথমবার কোনো সমস্যা দেখা দিলে অথবা ভ্রূণের সাইজে গরমিল মনে হলে ফের আল্ট্রাসাউন্ডটি করানো উচিত। এছাড়া গর্ভবতী মায়ের ডায়াবেটিস বা হাইপারটেনশন থাকলে দু’বারের বেশি আল্ট্রাসাউন্ড করানো লাগতে পারে।

আল্ট্রাসনোগ্রাম বিশেষজ্ঞ সিনিয়র চিকিৎসক ডা. মোজাম্মেল হক বকুল বললেন, আল্ট্রাসাউন্ড গর্ভের শিশুর ক্ষতি করে না। আসলে এটি এক্স-রে নয়। আল্ট্রাসাউন্ড হচ্ছে অতি উচ্চ কম্পনসম্পন্ন শব্দ তরঙ্গ, যা সাধারণ শ্রবণ ক্ষমতার বাইরে। তাই এটি মা বা শিশু, কারো জন্যই ক্ষতিকর না।


এই বিভাগের আরো খবর