ঢাকা, ০৮ আগস্ট শনিবার, ২০২০ || ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭
good-food
৫৯

ফেলনা নয় কুমড়োর বীজ, বহু রোগের মহৌষধ (ভিডিও)

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২১:২৫ ২৩ জুলাই ২০২০  

করোনাকালে আরও বেশি করে রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সবাইকে নজর দিতে বলছেন চিকিৎসকেরা। অধিক হারে শাকসবজি খেতে বলছেন তারা। তবে এমন একটি সবজি রয়েছে, যেটির বীজ ফেলে দেন অনেকে। কিন্তু পুষ্টিবিদরা বলছেন, খাবারে সেটি থাকলে তা ম্যাজিকের মতো কাজ করবে।
কুমড়ো খেতে চান না অনেকেই। এ সবজিটির অন্যতম উপাদান বীজ। কেউ আবার কুমড়ো খেলেও বিচি ফেলে দেন। কিন্তু এতেই রয়েছে শরীরের অপরিহার্য ফ্যাট। ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের অন্যতম উৎস এ বীজ। শরীরে যা নিজে থেকে তৈরি হয় না। তাই খেয়াল রাখতে হবে খাবারের মাধ্যমে যেন এটি দেহে প্রবেশ করে।
প্রতিদিন অল্প কুমড়োর বীজ খেলে হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। ভিটামিন বি, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন সমৃদ্ধ এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। প্রদাহ কমাতে এবং ওবেসিটি বা স্থূলত্ব রুখতেও সহায়তা করে।
কুমড়োর বীজে প্রচুর পরিমাণে ডায়েটারি ফাইবার থাকে। মাত্র ১০০ গ্রাম বীজে বিদ্যমান থাকে ১৮ গ্রাম ফাইবার। এটি একজন মানুষের দৈনিক চাহিদার ৭২ শতাংশই পূরণ করে। কোলনের ভালো ব্যাকটেরিয়ার খাদ্যের জোগান দেয় ফাইবার। ‘মাইক্রোবিয়াল ব্যালান্স’ বা অণুজীবের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। ক্রনিক রোগেরও উপশম করে এ বীজ।
ভালো কোলেস্টেরল অর্থাৎ হাই ডেনসিটি লিপোপ্রোটিন (এইচডিএল) এবং খারাপ কোলেস্টেরল, মানে লো ডেনসিটি লিপোপ্রোটিন (এলডিএল)-দুটিই তৈরি হয় লিভারে। ধমনীর প্রাচীরে তৈরি হয় এলডিএল। ফলে ব্লকেজ হয়ে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক পর্যন্ত হতে পারে। খারাপ কোলেস্টেরল সরিয়ে রিসাইকেলে সাহায্য করে এইচডিএল। কুমড়োর বীজ এ দুইয়ের ভারসাম্য রক্ষা করে।
এ বীজে থাকে পিইউএফএ ও লিপোফিলিক অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট। তাই এটি স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি। এতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট থাকে। সঙ্গত কারণে এটি র‌্যাডিক্যাল ধ্বংস করে। 
ভারতীয় পুষ্টিবিদ সোমা চক্রবর্তী বলেন, অক্সিডেশনের মাধ্যমে কোষের প্রোটিন, ডিএনএ, সেল মেমব্রেনের ইলেকট্রন ‘চুরি’ করে ফ্রি র‌্যাডিক্যাল। এর মোকাবেলা করে অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট।
দেশটির মেডিসিন চিকিৎসক অরিন্দম বিশ্বাস বলেন, বীজে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট থাকায় তা রোগ-প্রতিরোধ শক্তি বাড়ায়। বিশেষ করে বর্ষার সময় ঠাণ্ডা লাগা, ফ্লু, ক্লান্ত হয়ে পড়া-এ সমস্যাগুলোর হাত থেকে রক্ষা করে।
কুমড়োর বীজে থাকে সেরোটনিন। এ নিউরোকেমিক্যালকে বলা হয় প্রাকৃতিক ঘুমের ওষুধ। তাই ঘুমাতে যাওয়ার আগে ওষুধের পরিবর্তে এটি খেতে পারেন। এছাড়া আর্থারাইটিসের ব্যথায় এ বীজের তেল মালিশ করলে উপশম পাওয়া যায়। 
এতে প্রচুর পরিমাণে জিঙ্ক থাকে। সেটি প্রস্টেটের সমস্যা দূরে রাখে। ইনসুলিনের কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রয়েছে কুমড়োর বীজের। কারণ, এটি অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে।
আরও একটা কারণে এ বীজের গুরুত্ব আছে। এটিতে রয়েছে কিউকারবিটিন। এছাড়া ভিটামিন সি থাকার কারণে চুলের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে কুমড়োর বীজ।
কীভাবে খেতে হবে এটি?
সোমা চক্রবর্তী বলেন, কম ক্যালরি, ভরপুর পুষ্টিতে ভরা কুমড়োর বীজ ফেলে দেবেন না। বরং এটি বেটে রান্নায় ব্যবহার করতে পারেন। ব্যবহার করতে পারেন কাঁচা সালাদে কিংবা সুপেও। তবে বীজ অল্প সেঁকে স্ন্যাক্স হিসেবে ব্যবহার করতে পারলে সব থেকে ভালো।