ঢাকা, ১৮ জুন শুক্রবার, ২০২১ || ৪ আষাঢ় ১৪২৮
good-food
৯৫

যে হাটে ‘বিক্রি হন’ দরিদ্র মানুষ

নান্দাইল প্রতিনিধি

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২২:৫৬ ১৭ মে ২০২১  

এই হাটে কোনো পণ্য বিক্রি হয় না। তাই বলে ক্রেতা-বিক্রেতারও অভাব নেই। কেনাবেচা চলে দেদার। যেখানে ‘বিক্রি হন’ দরিদ্র মানুষ। প্রতিদিন সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জড়ো হন তাঁরা। সকাল শুরু হয় সারাদিনের জন্য শ্রম বিক্রির অপেক্ষায়। এই হাটকে কামলার হাটও বলা হয়।

 

নান্দাইল পৌরসদরের ঝালুয়া পুরোনো ব্রিজে প্রতিদিন বসে এই হাট। সেখানে স্থানীয় ও পাশের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার নিম্নআয়ের মানুষ শ্রম বিক্রি করেন। করোনা পরিস্থিতিতেও তা বন্ধ নেই। রুটি–রুজির জন্য ঝুঁকি নিয়েই এখানে আসেন তাঁরা।

 

চুক্তিতে এ হাট থেকে মৌসুমি ফসল কাটতে যান অনেকে। কেউ মাটিকাটা, নির্মাণসামগ্রী বহনকারী, রাজমিস্ত্রি, রংমিস্ত্রি, কাঠমিস্ত্রি, স্যানিটারি ও টাইলস মিস্ত্রি হিসেবেও কাজ করতে যান। বেশির ভাগ মানুষেরই নির্দিষ্ট কোনো পেশা নেই। আবার অনেকে সারাদিন কোনো কাজ না পেয়ে বাড়ি ফিরে যান।

 

নান্দাইলের কামলার হাটে দেখা যায়, বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রম বিক্রি করতে জড়ো হয়েছেন দিনমজুরেরা। এর মধ্যে উপজেলার ভাটি সাভার, চারি আনিপাড়া, ভাটিকান্দা, পাঁচপাড়া, চামটা, বলদার চর; ঈশ্বরগঞ্জের দত্তগ্রাম, তারাটি গ্রামের শ্রমিকেরা ব্রিজে বসে আছেন। কারো হাতে কাস্তে, দা, কোদাল, নিড়ানি রয়েছে। বেশির ভাগ লোকের গলায় গামছা, হাতে বা ব্যাগে লুঙ্গি। সারা দিন কাজ শেষে নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক নিয়ে সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরেন। এই আয় দিয়েই কোনোরকমে চলে যায় তাঁদের। আর কাজ না পেলে পরের দিন বিক্রির অপেক্ষায় থাকেন।

 

বিভিন্ন এলাকা থেকে কাজের জন্য শ্রমিক নিতে এ হাটে আসে লোকজন। এমনই একজন তারাটি গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস। তিনি এসেছেন বাড়ি তৈরির জন্য পাঁচজন শ্রমিক নিতে। আব্দুল কুদ্দুস জনপ্রতি ৫০০ টাকা করে শ্রমিক নিয়েছেন।

 

দিনমজুর রহিম বলেন, ‘প্রতিদিন কাজের সন্ধানে কামলার হাটে জড়ো হই। এখন বোরো মৌসুম ধান কাটার সময় দৈনিক ৫০০ টাকা পাই। চুক্তির ভিত্তিতে করলে ১০ শতাংশ জমির ধান কাটলে ৬০০ টাকা।’

 

পৌরসদরের কাকচর এলাকার আশরাফ উদ্দিন বলেন, ‘বয়স হয়েছে। এখন আর ভারী কাজ করতে পারি না। বয়স বেশি দেখে অনেকে কাজে নেয় না। কিন্তু জীবিকার তাগিদে এখনো আমাকে এখানে আসতে হয়। অপেক্ষায় থাকি, কেউ যদি কিনে নেয়। তাহলে কয়টা টাকা হলে চারটা খাবার জোটাতে পারব।’