ঢাকা, ২০ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার, ২০২৬ || ৮ ফাল্গুন ১৪৩২
good-food

কেন খেজুর দিয়ে ইফতার করতে বলেছেন নবী (সা.)

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২০:১৪ ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  

সারাদিন সিয়াম সাধনার পর ইফতারের মুহূর্তটি মুমিনের জন্য এক পরম আনন্দের সময়। টেবিলে হরেক পদের খাবার সাজানো থাকলেও রোজাদারের হাত সবার আগে চলে যায় খেজুরের দিকে। কিন্তু কেন? শুধুই কি ঐতিহ্য, নাকি এর পেছনে রয়েছে প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর কোনো বিশেষ নির্দেশনা?

দেড় হাজার বছর ধরে মুসলিম বিশ্বে ইফতারের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছে খেজুর। হাদিস ও বিজ্ঞানের আলোকে এর গুরুত্ব অপরিসীম।

রাসুল (সা.)-এর স্পষ্ট নির্দেশনা

ইফতারে খেজুর খাওয়া কেবল আরবদের সংস্কৃতি নয়, বরং এটি স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশ। তিনি উম্মতকে খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করার জন্য বিশেষভাবে উৎসাহিত করেছেন।

হাদিস শরীফে এসেছে, বিশিষ্ট সাহাবী হযরত সালমান ইবনে আমির (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

“যখন তোমাদের কেউ ইফতার করে, সে যেন খেজুর দিয়ে ইফতার করে। কেননা তাতে বরকত রয়েছে। যদি খেজুর না পায়, তবে যেন পানি দিয়ে ইফতার করে, কেননা তা পবিত্রকারী।” (তিরমিজি: ৬৯৫, সুনানে আবু দাউদ: ২৩৫৫)

এই হাদিস থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, খেজুর দিয়ে রোজা ভাঙা নবীজির পছন্দ এবং এটি বরকত লাভের মাধ্যম।

নবীজির সা: যে ইফতার করতেন

বিশ্বনবী (সা.) নিজে কীভাবে ইফতার করতেন, তার এক চমৎকার বর্ণনা দিয়েছেন সাহাবী হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.)। তিনি বলেন:

“রাসুলুল্লাহ (সা.) মাগরিবের নামাজের আগে কয়েকটি তাজা খেজুর (রুতাব) দিয়ে ইফতার করতেন। যদি তাজা খেজুর না থাকত, তবে শুকনা খেজুর (তামার) দিয়ে ইফতার করতেন। আর যদি তাও না থাকত, তবে কয়েক ঢোক পানি পান করতেন।”(সুনানে আবু দাউদ: ২৩৫৬)

এখান থেকে আমরা শিখতে পারি যে, ইফতারে ভাজাপোড়া বা ভারী খাবারের আগে সামান্য খেজুর বা পানি দিয়ে রোজা ভাঙাই হলো সুন্নাত পদ্ধতি।

কেন খেজুর দিয়ে ইফতার করবেন?

নবীজির প্রতিটি সুন্নাতের পেছনেই রয়েছে আধ্যাত্মিক ও শারীরিক কল্যাণ।

১. বরকত লাভ: রাসুল (সা.)-এর নির্দেশ পালন মানেই আল্লাহর রহমত ও বরকত লাভ করা।

২. তাৎক্ষণিক শক্তি: সারাদিন না খেয়ে থাকার ফলে শরীরে গ্লুকোজের ঘাটতি দেখা দেয়। খেজুরে থাকা প্রাকৃতিক চিনি (ফ্রুক্টোজ) রক্তে মিশে দ্রুত শক্তি জোগায় এবং ক্লান্তি দূর করে।

৩. পাকস্থলী প্রস্তুত করা: দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকার পর হঠাৎ ভারী খাবার খেলে হজমে সমস্যা হতে পারে। খেজুর পাকস্থলীকে পরবর্তী খাবারের জন্য প্রস্তুত করে।

ইফতারের সময় খেজুর মুখে দেওয়া কেবল ক্ষুধা নিবারণ নয়, বরং এটি প্রিয় নবীর সুন্নত পালনও। আজ যখন ইফতারের সময় হবে, তখন একটি খেজুর হাতে নিয়ে মনে করুন—এই সুন্নাতটি পালন করার মাধ্যমে আপনি দেড় হাজার বছরের এক বরকতময় ঐতিহ্যের অংশ হচ্ছেন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সুন্নাত মোতাবেক ইফতার করার তৌফিক দান করুন।

ধর্ম বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর