ঢাকা, ২৭ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার, ২০২০ || ১৫ ফাল্গুন ১৪২৬
good-food
১২২

সিটি ভোটের কারণে পেছালো বইমেলা

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৮:৪২ ১৯ জানুয়ারি ২০২০  

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য এবার পেছালো বাংলা একাডেমি আয়োজিত অমর একুশে গ্রন্থমেলা উদ্বোধনের সময়। নতুন সময়সূচি অনুযায়ী একদিন পিছিয়ে আগামী ২ ফেব্রুয়ারি এই বইমেলা উদ্বোধন করা হবে। 

আয়োজক সংস্থা বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবিবুল্লাহ সিরাজী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 
বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক বলেন, এবারের অমর একুশে গ্রন্থমেলা ১ ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে ২ ফেব্রুয়ারি উদ্বোধন করা হবে।

২০১৯ সালের ২২ ডিসেম্বর ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তফসিল অনুযায়ী ৩০ জানুয়ারি ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু একই দিনে সরস্বতী পূজা হওয়ার কারণে ওই তারিখ পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে আসছিল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন। সময় পরিবর্তনের দাবির মুখে শনিবার (১৮ জানুয়ারি) ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের নতুন তারিখ ঘোষণা করে ইসি। নতুন সময়সূচি অনুযায়ী ভোটগ্রহণ হবে ১ ফেব্রুয়ারি।

সরস্বতী পূজাকে কেন্দ্র করে নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তনের ফলে বাংলা একাডেমিও অমর একুশে গ্রন্থমেলা উদ্বোধনের দিন এক দিন পিছিয়ে দেয়।

প্রথা অনুযায়ী প্রতিবছর ১ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে গ্রন্থমেলার উদ্বোধন করা হয়। প্রতিবছর বইমেলা উদ্বোধন করেন সরকার প্রধান।

হাবিবুল্লাহ সিরাজী জানান, ২ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৩টায় প্রধানমন্ত্রী একুশে গ্রন্থমেলার উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনী মঞ্চে অতিথি থাকবেন পশ্চিমবঙ্গের কবি শঙ্খ ঘোষ এবং মিসরের লেখক, গবেষক ও সাংবাদিক মোহসেন আল-আরিশি।
এ মঞ্চ থেকেই ২০১৮ সালের বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার বিজয়ীদের হাতে পদক তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
ওই দিন বিকাল ৫টার পর সাধারণ দর্শক-পাঠকের জন্য খুলে যাবে বইমেলার দরজা।
২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বেলা ৩টা থেকে রাত ৯টা, ছুটির দিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা এবং ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত বইমেলা চলবে।
মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব জালাল আহমেদ জানান, বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ এবং একাডেমির সামনের ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রায় তিন লাখ বর্গফুট জায়গায় এবারের মেলা অনুষ্ঠিত হবে। মেলার এলাকা গতবারের চেয়ে প্রায় ২৫ হাজার বর্গফুট বেশি।
হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, বাহান্নর চেতনা থেকে একাত্তর, যার ভেতরে জড়িয়ে আছে ৫৪, ৬২, ৬৬ ও ৬৯- বাঙালির স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতা অর্জনের এই পথচলাকে এবার উদ্যাপন করা হবে মেলাজুড়ে। এর জন্য এবারের মেলার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘বিজয়: বাহান্ন থেকে একাত্তর (নব পর্যায়)’।
সেই সঙ্গে ২০২০ সালে জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ এবং ২০২১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপনের যাত্রাও শুরু হবে এ মেলা থেকে।
গতবারের মতো এবারও মেলায় ‘লেখক বলছি’ মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। সেখানে প্রতিদিন পাঁচজন করে লেখক নিজেদের নতুন বই নিয়ে পাঠকদের সঙ্গে কথা বলবেন।
শিশু-কিশোরদের মধ্যে যারা লেখালেখি করে, সেই খুদে লেখকদের উৎসাহিত করার জন্য এবার বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে। এবার শিশু চত্বরে ‘তারুণ্যের বই’ নামে একটি বিষয় যুক্ত হয়েছে। সেখানে শিশু-কিশোরদের বইপাঠে উৎসাহিত করা হবে।
মেলার বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণের নামকরণ করা হয়েছে ভাষা শহীদ বরকতের নামে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণকে চারটি চত্বরে ভাগ করে উৎসর্গ করা হয়েছে ভাষা শহীদ সালাম, রফিক, জব্বার ও শফিউরের নামে।
পাঁচ ভাষা শহীদের নামে উৎসর্গীকৃত এবারের মেলার দুই প্রাঙ্গণের পাঁচটি চত্বরের প্রতিটি চত্বরের সাজসজ্জায় থাকবে পৃথক রঙের ব্যবহার। লাল, নীল, সবুজ, হলুদ ও ম্যাজেন্টা রঙের প্রাধান্যে সাজবে এ চত্বরগুলো।
একাডেমি প্রাঙ্গণে ১০৪টি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ১৫০টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৩৯৫টি প্রকাশনা সংস্থাকে ৬২০টি ইউনিট; মোট ৪৯৯টি প্রতিষ্ঠানকে ৭৭০টি ইউনিট এবং বাংলা একাডেমিসহ ২৪টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে ২৪টি প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। লিটল ম্যাগাজিন চত্বরে ১৮০টি লিটলম্যাগকে ১৫৫টি স্টল দেওয়া হয়েছে।
২৫টি স্টলে দুটি করে লিটল ম্যাগাজিনকে স্থান দেওয়া হয়েছে। অন্য ১৩০টি প্রতিষ্ঠান পৃথক স্টল পেয়েছে। একক ছোট প্রকাশনা সংস্থা এবং ব্যক্তি উদ্যোগে যারা বই প্রকাশ করেছেন, তাদের বই বিক্রি ও প্রদর্শনের ব্যবস্থা থাকবে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের স্টলে।
গ্রন্থমেলায় বাংলা একাডেমি এবং মেলায় অংশগ্রহণকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ২৫ শতাংশ কমিশনে বই বিক্রি করবে। এবারও শিশু চত্বর মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে থাকবে।
এই কর্নারকে শিশু-কিশোর বিনোদন ও শিক্ষামূলক অঙ্গসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে। মাসব্যাপী গ্রন্থমেলায় এবারও ‘শিশুপ্রহর’ ঘোষণা করা হবে।
গ্রন্থমেলায় টিএসসি ও দোয়েল চত্বর উভয় দিক দিয়ে দুটি মূল প্রবেশপথ, বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে তিনটি পথ, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশ ও বাইরের মোট ছয়টি পথ থাকবে।
মেলায় নানা বিষয়ে গুণীজনদের নামাঙ্কিত পুরস্কার প্রদান করা হবে সমাপনী দিনে।