ঢাকা, ১৫ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার, ২০২৬ || ১ মাঘ ১৪৩২
good-food
৪৭

অফিসে ব্যক্তিগত আলাপ: কতটা বলবেন, কোথায় থামবেন?

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২১:৪১ ১৪ জানুয়ারি ২০২৬  

সকালের চা-টা হাতে নিয়ে সহকর্মীর ডেস্কে ঢুঁ মারা, কিংবা লাঞ্চের পর করিডোরে দাঁড়িয়ে দুটো কথা বলা-কর্মজীবনের অত্যন্ত পরিচিত এক চিত্র। “বাচ্চার স্কুল কেমন চলছে?” থেকে শুরু করে “কাল রাতের খেলাটা দেখেছেন?” কাজের শত চাপের মাঝে এই ছোট ছোট ব্যক্তিগত আলাপগুলো যেন এক ঝলক তাজা বাতাস।

সহকর্মীর সঙ্গে সম্পর্কটা যখন কেবল পেশাদারিত্বের গণ্ডি পেরিয়ে একটু উষ্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, তখন কাজের পরিবেশটাও হয়ে ওঠে অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক।

কিন্তু এই উষ্ণতা কখন অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়? মুদ্রার অপর পিঠের মতো, ব্যক্তিগত আলাপেরও রয়েছে একটি সীমারেখা। সেই সীমা অতিক্রম করলেই বন্ধুত্বের সম্পর্ক পেশাদারিত্বের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তাই কর্মক্ষেত্রে ব্যক্তিগত আলোচনার সঠিক রসায়নটা জানা জরুরি।

বন্ধুত্বের উষ্ণতা যখন কাজের টনিক

মানুষ সামাজিক জীব। দিনের প্রায় আট ঘণ্টা আমরা যাদের সঙ্গে কাটাই, তাদের সঙ্গে কেবল কাজের সূত্রে বাঁধা একটি রোবোটিক সম্পর্ক বজায় রাখা কঠিন। হালকা ব্যক্তিগত আলাপচারিতার বেশ কিছু ইতিবাচক দিক রয়েছে:

সহজ হয় কাজের পরিবেশ: সহকর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ভালো হলে কাজের পরিবেশ প্রাণবন্ত থাকে। একে অপরের সুবিধা-অসুবিধা বুঝতে পারলে দলগত কাজে সমন্বয় বাড়ে।

মানসিক চাপ কমে: কাজের চাপের মাঝে সহকর্মীর সঙ্গে কিছুক্ষণ ব্যক্তিগত সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করলে মানসিক ভার অনেকটাই হালকা হয়। এটি এক ধরনের অলিখিত ‘স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট’ হিসেবে কাজ করে।

গড়ে ওঠে আস্থা: যখন আমরা সহকর্মীদের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে কিছুটা জানি, তখন তাদের প্রতি এক ধরনের আস্থা তৈরি হয়। এই আস্থা দলগত বিশ্বাসকে আরও মজবুত করে।

কখন বাজবে সতর্কঘণ্টা?

ব্যক্তিগত আলাপ যখন সীমা ছাড়িয়ে যায়, তখনই শুরু হয় বিপত্তি। কিছু লক্ষণ দেখলে বুঝবেন, এবার লাগাম টানার সময় এসেছে:

পরচর্চা বা গুজব: অন্যের ব্যক্তিগত জীবন, বিশেষ করে যিনি উপস্থিত নেই, তাকে নিয়ে আলোচনা কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ বিষাক্ত করে তোলে। এটি পেশাদারিত্বের সবচেয়ে বড় শত্রু।

সময়ের অপচয়: কাজের সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যক্তিগত গল্পগুজব করলে স্বাভাবিকভাবেই আপনার এবং আপনার সহকর্মীর উৎপাদনশীলতা কমে যায়।

অতিরিক্ত ব্যক্তিগত তথ্য: নিজের আর্থিক সংকট, দাম্পত্য জীবনের জটিলতা বা গভীর পারিবারিক সমস্যার কথা কর্মক্ষেত্রে অতিরিক্ত শেয়ার করা উচিত নয়। এতে সহকর্মীরা যেমন অস্বস্তিতে পড়তে পারেন, তেমনই আপনার দুর্বলতার সুযোগও কেউ নিতে পারে।

নেতিবাচকতার চর্চা: সারাক্ষণ শুধু নিজের সমস্যা বা প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে অভিযোগ করলে আপনার চারপাশে একটি নেতিবাচক আবহ তৈরি হয়। মানুষ ধীরে ধীরে আপনাকে এড়িয়ে চলতে শুরু করবে।

ভারসাম্য আনবেন যেভাবে

কর্মক্ষেত্রে ব্যক্তিগত আলোচনা বন্ধ করার কোনো প্রয়োজন নেই। বরং স্মার্টলি এর ভারসাম্য বজায় রাখাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।

স্থান-কাল-পাত্র বুঝুন: আপনার বসের সঙ্গে যে বিষয়ে কথা বলবেন, খুব কাছের সহকর্মীর সঙ্গে তার চেয়ে বেশি ব্যক্তিগত কথা বলাই যায়। তাই কার সঙ্গে, কোথায় এবং কোন সময়ে কথা বলছেন, সেদিকে খেয়াল রাখুন।

আলোচনা হোক হালকা: আড্ডার জন্য খেলাধুলা, সিনেমা, বই, ভ্রমণ বা শখের মতো নিরাপদ বিষয়গুলো বেছে নিন। ধর্ম বা রাজনীতির মতো সংবেদনশীল বিষয় এড়িয়ে চলাই ভালো।

ভালো শ্রোতা হোন: কেবল নিজের কথা না বলে অন্যের কথা মন দিয়ে শুনুন। এতে সম্পর্ক আরও গভীর ও সম্মানজনক হয়।

সীমা টানতে শিখুন: যদি কোনো সহকর্মী আপনাকে অস্বস্তিকর প্রশ্ন করেন বা এমন আলোচনায় জড়াতে চান যা আপনি এড়িয়ে চলতে চান, তবে বিনয়ের সঙ্গে প্রসঙ্গটি পাল্টে দিন অথবা কাজের কথা বলে উঠে আসুন।

দিন শেষে সহকর্মীর সঙ্গে একটি ছোট্ট বন্ধুত্বপূর্ণ আলাপই হতে পারে আপনার কর্মক্ষেত্রের সেরা মুহূর্ত। শুধু জানতে হবে, কোথায় এবং কখন সেই ইতিবাচকতার চর্চা করতে হবে।

লাইফস্টাইল বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর