ঢাকা, ১৬ ফেব্রুয়ারি সোমবার, ২০২৬ || ৪ ফাল্গুন ১৪৩২
good-food

আত্মসম্মান গড়ে তুলুন ৫ সহজ অভ্যাসে

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৬:২৯ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  

পৃথিবীতে প্রতিটি মানুষই চায় অন্যেরা তাকে সম্মান করুককিন্তু আমরা অনেক সময় একটি বড় সত্য ভুলে যাই আর তা হলো অন্যেরা আপনাকে কতটা সম্মান করবে তা নির্ভর করে আপনি নিজেকে কতটা সম্মান করেন তার ওপর।

এখনকার সময়ে আমরা অনেকেই নিজের মূল্য বুঝতে চাই অন্যের প্রতিক্রিয়া দিয়ে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইক, কমেন্ট, প্রশংসা, কিংবা অন্যকে খুশি করার চেষ্টা আমাদের জীবনের অংশ হয়ে গেছে। কিন্তু সত্যিকারের আত্মমর্যাদা বাইরে থেকে আসে না। এটি শুরু হয় নিজের ভেতর থেকেই। আত্মসম্মান কমে গেলে মানুষের ক্লান্ত লাগে, সম্পর্ক নিয়ে বিরক্তি জন্মায়, জীবন আটকে গেছে মনে হয়।

অনেকে মনে করেন আত্মসম্মান মানে বড় কিছু অর্জন করা, বড় পদ পাওয়া বা অন্যের প্রশংসা পাওয়া। আসলে বিষয়টি ঠিক উল্টো। আত্মসম্মান তৈরি হয় ছোট ছোট দৈনন্দিন অভ্যাস থেকে। এমন কিছু কাজ, যা বাইরে থেকে খুব সাধারণ মনে হয়, কিন্তু ভেতরে ভেতরে আপনাকে শক্ত করে তোলে। আসুন জেনে নিই সেই সহজ ৫টি অভ্যাস সম্পর্কে।

নিজেকে করা ছোট প্রতিজ্ঞাগুলো পূরণ করুন

আত্মসম্মান একদিনে তৈরি হয় না। ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে। তাই নিজেকে এমন প্রতিশ্রুতি দিন যা রাখা সম্ভব। যেমন প্রতিদিন সকালে মাত্র পাঁচ মিনিট নিজের ডায়েরিতে এমন তিনটি বিষয়ের কথা লিখুন যার জন্য আপনি সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞ। অথবা বন্ধুদের এমন কোনো আড্ডায় যেতে বিনয়ের সাথে ‘না’ বলুন যা আপনার সময় নষ্ট করে বা আপনাকে মানসিকভাবে ক্লান্ত করে দেয়। এই ছোট ছোট কথাগুলো যখন আপনি রাখতে শুরু করবেন তখন আপনার মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে নিজেকে বিশ্বাস করতে শিখবে। অভ্যাস বিশেষজ্ঞরা বলেন যে ছোট ছোট কাজগুলো যখন বারবার করা হয় তখন সেগুলো আমাদের ব্যক্তিত্বের অংশ হয়ে যায়। যখন আপনি দেখবেন যে আপনি নিজের দেওয়া কথা রাখছেন তখন আপনি আগের চেয়ে অনেক বেশি সুখী ও শক্তিশালী অনুভব করবেন।

নিজের প্রতিশ্রুতির হিসাব রাখুন

আমরা অন্যদের দেওয়া কথা রাখার জন্য অনেক বেশি সচেতন থাকি কিন্তু নিজের দেওয়া প্রতিশ্রুতি আমরা অবলীলায় ভুলে যাই। এটি আত্মমর্যাদা কমানোর একটি বড় কারণ। তাই আপনি নিজের কাছে যে সব ছোট ছোট প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা পালন করছেন কি না সেটির একটি তালিকা তৈরি করুন। প্রতিবার যখন আপনি আপনার লক্ষ্য পূরণ করবেন তখন সেটি ডায়েরিতে বা মোবাইলের নোটে লিখে রাখুন। দিনের শেষে বা সপ্তাহের শেষে এই তালিকাটি যখন আপনি দেখবেন তখন আপনার নিজের প্রতি এক ধরণের ভরসা তৈরি হবে। আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে নিজের কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করলে মানুষের কাজের প্রতি আগ্রহ বাড়ে এবং নিজের প্রতি দায়িত্ববোধ তৈরি হয়। এই অভ্যাসটি আপনাকে একজন নির্ভরযোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে।

ভুলের জন্য নিজেকে ক্ষমা করতে শিখুন

পৃথিবীর কোনো মানুষই নিখুঁত নয় আর আপনিও তার ব্যতিক্রম নন। আমরা প্রায়ই কোনো ভুল করলে নিজেকে প্রচণ্ডভাবে তিরস্কার করি বা গালি দিই। এই কঠোর সমালোচনা আপনার আত্মমর্যাদাকে তিলে তিলে ধ্বংস করে দেয়। যখন আপনি কোনো কাজে ব্যর্থ হবেন বা নিজের দেওয়া কোনো নিয়ম ভাঙবেন তখন নিজের সাথে একজন ভালো বন্ধুর মতো কথা বলুন। নিজেকে বোঝান যে ভুল হওয়াটা স্বাভাবিক এবং এখান থেকেই নতুন কিছু শেখার আছে। এই ধরণের মানসিকতা আপনাকে অনেক বেশি ধৈর্যশীল করে তুলবে এবং আপনার ভেতরের অপরাধবোধ কমিয়ে দেবে। যখন আপনি নিজেকে ক্ষমা করতে শিখবেন তখন আপনার জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তনের পথ প্রশস্ত হবে। মনে রাখবেন নিজের প্রতি মমতা দেখানো মানে দুর্বলতা নয় বরং এটি মানসিকভাবে শক্তিশালী হওয়ার একটি বড় ধাপ।

নিজের মূল্যবোধের সঙ্গে মিল রেখে চলুন

আপনার আত্মমর্যাদা তখন অনেক বেশি মজবুত হয় যখন আপনার কাজগুলো আপনার ব্যক্তিগত আদর্শ বা মোরাল ভ্যালুর সাথে মিলে যায়। বাইরের জগতের কোনো প্রশংসাই এই অনুভূতির সমান হতে পারে না। প্রথমে আপনার জীবনের কিছু প্রধান নীতি খুঁজে বের করুন যেমন সততা, দয়া বা দায়িত্বশীলতা। এরপর আপনার প্রতিটি কাজে এই নীতিগুলো মেনে চলার চেষ্টা করুন এমনকি যখন আপনাকে দেখার মতো কেউ পাশে নেই। আপনি যখন নিজের মানদণ্ড অনুযায়ী জীবনযাপন করবেন তখন আপনার মনে এক ধরণের অনাবিল শান্তি বিরাজ করবে। আপনি জানবেন যে আপনি কোনো অন্যায়ের সাথে আপস করছেন না। এই চারিত্রিক দৃঢ়তাই আপনাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করবে এবং আপনাকে এক জন আত্মমর্যাদাশীল মানুষ হিসেবে পরিচিত করবে।

আত্মমর্যাদাকে প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত করুন

আত্মমর্যাদা বাড়ানো কোনো গন্তব্য নয় যেখানে একবার পৌঁছে গেলেই কাজ শেষ। এটি একটি নিরন্তর প্রক্রিয়া যা আপনাকে প্রতিদিন চর্চা করতে হবে। আপনার দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো রক্ষা করা, নিজের কাজের হিসাব রাখা এবং নিজের প্রতি সদয় থাকা এই সব কিছুই হতে হবে আপনার জীবনের অংশ। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের এক গবেষণায় দেখা গেছে যে একটি নতুন অভ্যাস গড়ে তুলতে গড়ে ১৮ থেকে ২৫৪ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তাই শুরুর দিকে কিছুটা কষ্ট হলেও হাল ছেড়ে দেবেন না। দিনের পর দিন এই ইতিবাচক কাজগুলো করতে থাকলে এক সময় এটি আপনার ব্যক্তিত্বের অংশ হয়ে যাবে। তখন আর আপনাকে আলাদা করে চেষ্টা করতে হবে না বরং আপনি স্বাভাবিকভাবেই একজন আত্মবিশ্বাসী মানুষ হিসেবে নিজেকে আবিষ্কার করবেন।

মনে রাখবেন আপনি নিজেকে যেভাবে দেখবেন পৃথিবীও আপনাকে ঠিক সেভাবেই দেখবে। নিজের যত্ন নেওয়া এবং নিজের গুরুত্ব বোঝা মোটেও স্বার্থপরতা নয়। বরং এটি একটি সুন্দর এবং অর্থবহ জীবন যাপনের প্রথম শর্ত। আপনি যখন উপরে বলা এই পাঁচটি অভ্যাস নিজের জীবনে প্রয়োগ করবেন তখন আপনার ভবিষ্যৎ সংস্করণ আপনাকে ধন্যবাদ দেবে।