ঢাকা, ১৬ ফেব্রুয়ারি সোমবার, ২০২৬ || ৪ ফাল্গুন ১৪৩২
good-food

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৪১ বছর পর জামায়াতের প্রত্যাবর্তন

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৬:৪২ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  

১৯৮৬ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে জামায়াত বিজয়ী হয়েছিল। এর দীর্ঘ ৪১ বছর পর হারানো আসন পুনরুদ্ধার করেছে জামায়াতে ইসলামী। ১৯৮৬ সালের তৃতীয় জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী মীম ওবায়দুল্লাহ এখানে বিজয়ী হয়েছিলেন। চারদশক পর এবারের নির্বাচনে ড. মিজানুর রহমানের জয়ের মধ্য দিয়ে হারানো আসনে আবারও প্রত্যাবর্তন করেছে দলটি। এছাড়াও, ৩৫ বছর পর চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসন পুনরুদ্ধার ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে অভিষেক ঘটিয়েছেন জামায়াতের প্রার্থীরা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁপাইনবাবগঞ্জে তিনটি আসনেই দীর্ঘ চার দশকের রাজনৈতিক ধারাবাহিকতায় বড় পরিবর্তন এসেছে। দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে তিনটি আসনেই জয় পেয়েছেন রাজশাহী মহানগর জামায়াতের আমির ড. কেরামত আলী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ড. মিজানুর রহমান এবং জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল।  

১৯৮৬ সালে প্রথমবারের মতো চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে জামায়াতের মীম ওবায়দুল্লাহ এবং ৮৬ ও ৯১ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে পরপর দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন লতিফুর রহমান। আর ১৯৯৬ সালে আসন দুইটি বিএনপির প্রার্থীদের দখলে চলে যায়। সর্বশেষ দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে আসন দুইটিতে জয় পেয়েছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিয়াউর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওদুদ বিশ্বাস। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে এরআগে জামায়াতের কোনো প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে পারেননি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে ৬ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের মধ্যে। এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর ড. কেরামত আলী বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ৬ হাজার ৮৯৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অধ্যাপক শাহজাহান মিঞা পেয়েছেন ১ লাখ ৬২ হাজার ৫১৫ ভোট। ভোটের ব্যবধান প্রায় ৪৪ হাজার ৩৭৮ ভোট।

এছাড়া এ আসনে জাতীয় পার্টির আফজাল হোসেন ২ হাজার ২৬৩ ভোট, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের আব্দুল হালিম ৫৫৭ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনিরুল ইসলাম ১ হাজার ৮৩ ভোট ও ইসলামী ফ্রন্টের নবাব শামসুল হোদা ৪৪৬ ভোট পেয়েছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ড. মিজানুর রহমান বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। ১৮৪টি কেন্দ্রের ফলাফলে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজার ২২৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী আমিনুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ৫৫ হাজার ১১৯ ভোট। ভোটের ব্যবধান প্রায় ১৬ হাজার ১০৮।

এ আসনে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সাদেকুল ইসলাম ৬২৬ ভোট, জাতীয় পার্টির মু. খুরশিদ আলম ৮ হাজার ১৭৫ ভোট ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ইব্রাহিম খলিল ১ হাজার ৬৯ ভোট পেয়েছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে ১৭২টি কেন্দ্র ছিল। সবকটি কেন্দ্র মিলিয়ে নুরুল ইসলাম বুলবুল পেয়েছেন ১ লাখ ৮৫ হাজার ১৬৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির হারুনুর রশিদ পেয়েছেন ১ লাখ ২৬ হাজার ১৮ ভোট। ভোটের ব্যবধান প্রায় ৫৯ হাজার ১৪৮ ভোট।

এ আসনে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির ফজলুর ইসলাম খান সুমন ৬৩৭ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনিরুল ইসলাম ৮২০ ভোট ও গণঅধিকার পরিষদের শফিকুল ইসলাম ৩৬১ ভোট পেয়েছেন।

জয়ের প্রতিক্রিয়ায় নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনটি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। এবারের নির্বাচনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের জনগণ তাদের ভোটের মাধ্যমে সেই বাস্তবতার পরিবর্তন ঘটিয়েছে এবং আমাকে নির্বাচিত করেছেন। এই বিজয় এককভাবে আমার নয়, এটি চাঁপাইনবাবগঞ্জের সাধারণ মানুষের বিজয়। আমি কৃতজ্ঞচিত্তে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের প্রতিটি ভোটারকে ধন্যবাদ জানাই। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আমি একটি আধুনিক, উন্নত ও বাসযোগ্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ গড়ে তুলতে কাজ করব, ইনশাআল্লাহ। মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করাই হবে আমার প্রধান দায়িত্ব।

বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয় লাভ করায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি আসনের প্রার্থীদের ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। নির্বাচনি ফল ঘোষণার পর জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে জামায়াতের নেতাকর্মীরা একত্র হয়ে তাদেরকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৩টি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ১৪ লাখ ২৯ হাজার ৬৬০ জন এবং ৫১৮টি ভোটকেন্দ্র ছিল।