ঢাকা, ০৯ ফেব্রুয়ারি সোমবার, ২০২৬ || ২৭ মাঘ ১৪৩২
good-food

নির্বাচনের ইতিহাস: প্রাচীন থেকে আধুনিক

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৬:৫২ ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  

আজকের আধুনিক সমাজে নির্বাচনের ধারণাটি যেমন, প্রাচীন এথেন্স বা রোমে নির্বাচন ঠিক তেমনটি ছিল না। যদিও বেশ কিছু মিল যে রয়েছে তাতে কোনও সন্দেহ নেই। 

আধুনিক নির্বাচনের সূচনা ঘটে ১৭শ শতাব্দীতে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায়। আর এ সময় ‘ইন্ডিভিজুয়াল’ বা ব্যক্তির ভোট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কারণ ততদিনে পশ্চিমের সভ্যতায় ব্যক্তি ধারণাটির ক্রমশ বিকাশ ঘটছে। তাই, ব্রিটিশ পার্লামেন্ট কর্পোরেশনের প্রতিনিধিত্ব করার ধারণা থেকে সরে এসে সাধারণ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করার ধারণাকে প্রতিষ্ঠিত করে।

ভোটাধিকার ও জনসাধারণের অংশগ্রহণ

১৭শ ও ১৮শ শতকে রাজনৈতিক মঞ্চ মূলত উচ্চবর্ণের জন্য সীমিত ছিল। আমেরিকা ও ফ্রান্সের বিপ্লব সবার সমান অধিকার ঘোষণা করলেও ভোটাধিকার তখনও সীমিত। ধীরে ধীরে, পশ্চিম ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় ১৯২০ সালের দিকে প্রায় সব প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ভোটাধিকার পায়। নারীদের ভোটাধিকার স্থাপিত হয় আরও কিছু পরে। ব্রিটেনে ১৯২৮, ফ্রান্সে ১৯৪৪, বেলজিয়ামে ১৯৪৯ এবং সুইজারল্যান্ডে ১৯৭১ সালে নারীরা ভোটাধিকার পায়।

ব্রিটেনে ১৯২৮ সালে নারীরা ভোটাধিকার পায়। 

তবে “একজন, এক ভোট”, এই ধারণা তখনও সব দেশে কার্যকর হয়নি। যুক্তরাজ্যে ১৯৪৮ সালের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট এবং ব্যবসার মালিকরা একাধিক ভোট দিতে পারত। অস্ট্রিয়া ও প্রুশিয়ায় ভোটাভুটি সামাজিক উচ্চবর্ণের হাতে রাখা হত। আমেরিকায় ১৯৬৫ সালের ভোটাধিকার আইন প্রণয়নের আগে, দক্ষিণাঞ্চলে আফ্রিকান আমেরিকানদের ভোটাধিকার কার্যত বাধাপ্রাপ্ত ছিল।

প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন ও তার সীমাবদ্ধতা

১৯ ও ২০শ শতকে পশ্চিম ইউরোপে নির্বাচনের প্রসার, সেইসব দেশের বৈচিত্র্যকে প্রতিষ্ঠিত করে। অন্যদিকে, কমিউনিস্ট শাসিত পূর্ব ইউরোপে নির্বাচন থাকলেও তা প্রতিযোগিতামূলক ছিল না। ভোটারদের প্রায়শই একমাত্র সরকারি প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার অথবা না দেওয়ার বিকল্প দেওয়া হত। কিছু ক্ষেত্রে প্রতিবাদ হিসেবে ভোটাররা প্রার্থীর নাম মুছে দিতেন।

বিশ্বে নির্বাচনের বিস্তার

সাব সাহারান আফ্রিকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন তিন ধাপে আসে। প্রথম ধাপ ১৯৫০-৬০ সালে, উপনিবেশ থেকে সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত দেশগুলোতে। ১৯৯০-এর দশকে শীতল যুদ্ধের শেষে (কোল্ড ওয়ার) আরও কিছু দেশ (যেমন বেনিন, মালি, দক্ষিণ আফ্রিকা, জাম্বিয়া) প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের পথে আসে।

ল্যাটিন আমেরিকাতেও নির্বাচন ব্যবস্থার প্রবর্তন ঘটে ধাপে ধাপে। ১৮২৮–১৯৬২ সালের মধ্যে আর্জেন্টিনা, চিলি, কলম্বিয়া ও উরুগুয়ে নির্বাচন প্রবর্তন করে, তবে অনেক দেশে স্বৈরশাসন ফিরে আসে। এশিয়াতেও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইনসে নির্বাচন হয়, যদিও পুনরায় স্বৈরাচার ফিরে আসে। ১৯৭০-এর দশকে ফিলিপাইনস ও দক্ষিণ কোরিয়ায় পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন চালু হয়।

শিল্পীর কল্পনায় আমেরিকার প্রথম নির্বাচন। 

স্বৈরাচার ও নির্বাচনের কৌশল

অনেকে স্বৈরাচারী শাসনে ভোটকে জনগণের বৈধতা প্রদানের উপায় হিসেবে ব্যবহার করেছে। কখনও কখনও সরকার বিরোধীদের দমন করে বা ভোট প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করে ফলাফল নিয়ন্ত্রণ করে। এমনকি কিছু কিছু দেশের সরকার পক্ষের রাজনৈতিক দল ভোটও স্থগিত করে, যদি হারার সম্ভাবনা থাকে। এভাবে নির্বাচন প্রাচীন থেকে আধুনিক বিশ্বে তার রূপ ও লক্ষ্য পরিবর্তন করেছে। কখনও জনগণের অংশগ্রহণ বাড়াতে, কখনও রাজনৈতিক বৈধতা প্রদানে।

ইতিহাসের পাতায় বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর