ঢাকা, ০৫ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার, ২০২৬ || ২২ মাঘ ১৪৩২
good-food

আ’লীগ সমর্থকদের পছন্দ বিএনপি, নতুনদের ঝোঁক জামায়াতে

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৭:০৩ ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  

গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ এবারের জাতীয় নির্বাচনে না থাকায়, দলটির সমর্থকদের একটি বড় অংশ বিএনপিকে সমর্থন করতে যাচ্ছে বলে এক জরিপের ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, এবার প্রথমবারের মতো যারা ভোট দিতে যাচ্ছে, তাদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর প্রতি ঝোঁক বেশি।

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ‘আনকাভারিং দ্য পাবলিক পালস: আ নেশনওয়াইড সার্ভে’ নামে চালানো জরিপের ফলাফল তুলে ধরা হয়।

কমিউনিকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন-সিআরএফ এবং বাংলাদেশ ইলেকশন অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্স ইনস্টিটিউটের যৌথ উদ্যোগে এই জরিপ পরিচালনা করা হয়।

৬৪ জেলার ১৮০টি আসনে ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দুই ধাপে এই জরিপ চালিয়েছে, যেখানে নমুনা ছিলেন ১১ হাজারেরও বেশি ভোটার।

জরিপে ভোটারদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, নির্বাচনি পরিবেশ, নেতৃত্বের প্রতি আস্থা এবং তথ্যপ্রাপ্তির উৎসসহ বিভিন্ন বিষয় বিশ্লেষণ করা হয়।

যারা জরিপে অংশ নিয়েছেন তাদের ৯০ শতাংশের বেশি ভোট দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, বাকি প্রায় ৮ শতাংশ সিদ্ধান্তহীনতার কথা জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জরিপের ফলাফলে লিঙ্গ, বয়স, শিক্ষা বা বসবাসের স্থানভেদে এ প্রবণতায় তেমন পার্থক্য দেখা যায়নি।

বাংলাদেশ ইলেকশন অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্স ইনস্টিটিউটের স্ট্র্যাটেজিক কোঅর্ডিনেটর জাকারিয়া পলাশ জরিপের ফলাফল তুলে ধরেন। তিনি জানান, জরিপে দেখা গেছে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের মধ্যে প্রায় ৪৮ শতাংশ এবার বিএনপিকে পছন্দ করছেন।

আগে আওয়ামী লীগকে ভোট দিতেন এমন ২৯ দশমিক ৯ শতাংশ জামায়াতকে, ৬ দশমিক ৫ শতাংশ ভোটার জাতীয় নাগরিক পার্টিকে-এনসিপি ভোট দেওয়ার কথা বলেছেন জরিপকারীদের।

আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ১৩ শতাংশ ভোটার অন্যদের ভোট দেবেন। ২ দশমিক ৪ শতাংশ ভোটার এখনো সিদ্ধান্ত নেননি বলে জানিয়েছেন।

রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ এবং নিবন্ধন স্থগিত হওয়ায় এবার আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না।

অন্যদিকে জরিপে অংশ নেওয়া নতুন ভোটারদের মধ্যে ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ জামায়াতের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। ২৭ শতাংশ বিএনপি, ১৭ শতাংশ এনসিপিকে ভোট দেওয়ার কথা বলেছেন। আর ১৮ দশমিক ৬ শতাংশ এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দুর্নীতি দমন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন অধিকাংশ ভোটার।

ভোটারদের বড় একটি অংশ মনে করেন, দুর্নীতিই দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা এবং আসন্ন নির্বাচনের প্রধান বিষয় হওয়া উচিত। প্রায় ৭৬ দশমিক ৭ শতাংশ ভোটার এ মত দিয়েছেন। অন্যদিকে ৩৫ দশমিক ৯ শতাংশ ধর্ম নিয়ে ভাবছেন।

প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার প্রার্থীর চেয়ে দলকে বিবেচনায় নিয়ে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলেছেন। মাত্র ৩০ শতাংশ ভোটার সরাসরি প্রার্থীর যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দেন। নির্বাচনি পরিবেশে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনার চেয়ে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগ বেশি।

অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব রিডিং-এর অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম নিয়াজ আসাদুল্লাহ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ বিভাগের অধ্যাপক সাইদুর রহমান চৌধুরী।

বক্তারা বলেন, নেতৃত্বের ক্ষেত্রে ভোটাররা এমন নেতাকে অগ্রাধিকার দিতে চান, যিনি সাধারণ মানুষের কথা শুনবেন এবং কার্যকর নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হবেন। ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার চেয়ে দায়িত্বশীল ও শক্তিশালী নেতৃত্বকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন বেশিরভাগ ভোটার। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৭০ শতাংশই এই দুই মাধ্যম থেকে তথ্য পাওয়ার কথা বলেছেন।

ভোটের সব খবর বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর