ঢাকা, ০৮ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার, ২০২৬ || ২৪ পৌষ ১৪৩২
good-food
২৫

ভোটকেন্দ্রের দিকে তাকিয়ে ভোটাররা: ইসি সানাউল্লাহ

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৮:১৩ ৬ জানুয়ারি ২০২৬  

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের শঙ্কা নেই জানিয়ে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে এবং মাঠপর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। 

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ‘বৃহত্তর চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সেল’-এর সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে ‘ভিজিলেন্স ও অবজারভেশন টিম’ -এর সঙ্গেও মতবিনিময় সভা করেন নির্বাচন কমিশনার।

ইসি সানাউল্লাহ বলেন, “মাঠপর্যায়ে এর বাস্তবায়ন দৃশ্যমান হবে। আচরণবিধি প্রতিপালনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের ক্ষেত্রে কমিশন কঠোর অবস্থানে থাকবে। বৃহত্তর চট্টগ্রামের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনরায় পর্যালোচনা করা হয়েছে। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় যেসব নিরাপত্তা-সংবেদনশীল বিষয় রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে সম্ভাব্য ঝুঁকি ও করণীয় নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সে লক্ষ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে।”

রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের আচরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “প্রাথমিকভাবে আচরণবিধি প্রতিপালনে তাদের মধ্যে সচেতনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আন্তঃদলীয় সংঘাতের মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম, যা একটি ইতিবাচক লক্ষণ। নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসুক, কোনো দল যেন সহিংসতায় জড়িয়ে না পড়ে- এভাবে একটি উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজন করাই সবার প্রত্যাশা।”

 

নির্বাচন কমিশনার বলেন, “আজ আমরা যে সমন্বিত বাহিনীর প্রস্তুতি দেখেছি, তাতে অত্যন্ত আশাবাদী। বৃহত্তর চট্টগ্রামে একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করছি।”

গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “সঠিক তথ্য সঠিক সময়ে তুলে ধরা গণমাধ্যমের বড় দায়িত্ব। অপতথ্য ও গুজব রোধে সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। অপতথ্য ছড়ানো যেমন অপরাধ, তেমনি অপতথ্য শেয়ার করাও অপরাধ- এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”

নির্বাচন নিয়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ প্রসঙ্গে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, “কারও যদি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তাহলে নির্বাচনী ইনকোয়ারি কমিটি ও নির্বাচন কমিশনের কমপ্লেইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন, “গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ নামে অভিযান চলছে। এ অভিযানে এখন পর্যন্ত ২০০টিরও বেশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।”

ভোটারদের কেন্দ্রমুখী হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “ভোটাররা ভোট দিতে ভোটকেন্দ্রের দিকে তাকিয়ে আছেন। অতীতে যে নেতিবাচক অভিজ্ঞতা ছিল, সামনে তার পুনরাবৃত্তি হবে না- ইনশাআল্লাহ।”

এর আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতবিনিময় সভায় ইসি সানাউল্লাহ বলেন, “আপনারা যে অপারেশনগুলো করছেন, অপারেশনের পরে তা মিডিয়ায় দিয়ে দিবেন। কোনো গোষ্ঠী বা দল যদি অপকর্ম করে পার পেয়ে যেতে চায় তাহলে তারা যেন উৎসাহিত বোধ না করে। কারণ তারা জানবে অপকর্ম করলে ধরা পড়তে হবে এবং অপকর্ম লোকালি থাকবে না জাতীয় বিষয় হয়ে যাবে। লোকাল ক্ষতির পাশাপাশি জাতীয় ক্ষতি হবে। আমরা চাই রাজনৈতিক দলগুলো আইন মেনে উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন করুক।”

নির্বাচনকে ঘিরে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল যাতে সংখ্যালঘুদের ব্যবহার করতে না পারে, সেদিকে লক্ষ্য রাখার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “এ এলাকায় (চট্টগ্রাম) সংখ্যালঘুদের আবাস আছে। নির্বাচনকে ঘিরে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল সংখ্যালঘুদের মধ্যে বিভিন্ন ঘটনা ঘটানোর প্রয়াস চালাতে পারে। অতীতেও এমন ঘটনা ঘটেছে। সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।”

মতবিনিয়ম সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ, জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার নাজির আহমদ খাঁন প্রমুখ।

ভোটের সব খবর বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর