ঢাকা, ২৪ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার, ২০২৬ || ১১ ফাল্গুন ১৪৩২
good-food
১০

খালি পেটে কেন প্রথমেই খেজুর খাবেন?

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৮:৩০ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  

খেজুর মূলত মরু অঞ্চলের ফল হলেও এর অসামান্য পুষ্টিগুণের কারণে আজ এটি বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং রোগ প্রতিরোধকারী বিভিন্ন অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এটি সুপারফুড হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে খাদ্যতালিকায় এবং সংস্কৃতিতে খেজুরের গুরুত্ব অপরিসীম।

খেজুরের পুষ্টিগুণ:

প্রতি ১০০ গ্রাম খেজুরে প্রায় ২৭৭ ক্যালরি থাকে।

খেজুরের প্রধান উপাদানগুলো হলো:

কার্বোহাইড্রেট: শর্করার চমৎকার উৎস যা তাৎক্ষণিক শক্তি দেয়।

ফাইবার: হজম প্রক্রিয়া সহজ করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

খনিজ উপাদান: পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, কপার ও ম্যাঙ্গানিজ থাকে প্রচুর পরিমাণে।

ভিটামিন: ভিটামিন বি৬ এবং ভিটামিন কে এর উপস্থিতি পাওয়া যায়।

বিশ্বজুড়ে নানা জাতের বৈচিত্র্যময় খেজুর পাওয়া যায়, যার প্রতিটির স্বাদ ও গুণাগুণ অনন্য। এসবের মধ্যে মদিনার বিশ্ববিখ্যাত ও ওষুধি গুণসম্পন্ন আজওয়া, অত্যন্ত সুস্বাদু ও উন্নত মানের মরিয়ম, আকারে বড় ও মাংসল আম্বার, প্রাকৃতিকভাবে মিষ্টি ও নরম প্রকৃতির সুকারি এবং 'খেজুরের রাজা' হিসেবে পরিচিত রসালো মেডজুল অন্যতম।

খেজুর কেবল সরাসরি ফল হিসেবেই নয়, বরং বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর বহুমুখী ব্যবহার রয়েছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য সচেতনদের কাছে চিনি বা কৃত্রিম সুইটনারের চমৎকার বিকল্প হিসেবে স্মুদি, কেক ও বিভিন্ন মিষ্টি খাবারে খেজুরের পেস্ট অত্যন্ত জনপ্রিয়। এছাড়া, শীতকালে খেজুরের রস থেকে তৈরি সুস্বাদু গুড় ও পাটালি বাঙালির চিরাচরিত ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। পাশাপাশি, প্রাকৃতিকভাবে তৈরি খেজুরের সিরাপ ক্লান্তি দূর করতে শক্তিশালী 'এনার্জি ড্রিংক' হিসেবেও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

সুস্থ জীবনযাপনের জন্য খেজুরের কোনো বিকল্প নেই। প্রতিদিন অন্তত ২-৩টি খেজুর খাওয়ার অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তবে বাজার থেকে কেনার সময় রাসায়নিকমুক্ত ও পরিষ্কার খেজুর নির্বাচন করা অত্যন্ত জরুরি।