শিশুদের বন্ধু রবীন্দ্রনাথ
লাইফ টিভি 24
প্রকাশিত: ২২:১৫ ১৭ জুলাই ২০১৯
রবীন্দ্রনাথ ছাড়া কোনও বাঙালি কি পরিপূর্ণ মানুষ হয়ে গড়ে উঠতে পারে? বাংলার সাহিত্যাকাশে যার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা, তাঁকে ছাড়া বাঙালির পরিপূর্ণতা হবে কিভাবে? তাই বাঙালির জীবন ভাবনা তো রবীন্দ্র দর্শনেরই নামান্তর। রবীন্দ্রনাথ বাবা-মা, শিক্ষক এবং ছোট-বড় সবার।
ছোটদের জন্য রবির লেখা অনবদ্য। তিনি তাদের জন্য অনেক লিখেছেন। সারাজীবনই শিশুদের কথা মাথায় রেখে লিখে গেছেন কবিগুরু। আদর্শ মানুষ তৈরির জন্য শান্তিনিকেতন তৈরি করেছেন। ছোটদের জন্য শুধু ছড়া, কবিতা, গল্প লেখেননি, বরং স্কুলে পড়ার জন্য লিখেছেন সহজপাঠ, লিখেছেন ইংরেজি শেখার জন্য ইংরেজি সোপান। তার ভাবনার বিশেষ জায়গা জুড়ে ছিল শিশুরা।
রবীন্দ্রনাথের ছোটবেলা ছিল বৈচিত্র্যে ভরা। আর পাঁচজনের তুলনায় তাঁর জীবন ছিল বেশ আলাদা। বিশাল এক পরিবারে জন্ম। তাঁকে নানা শাসনে-অনুশাসনে শৃঙ্খলায় জীবনযাপন করতে হয়েছে। একেবারে ছোটবেলা থেকেই ঘড়ির কাঁটা মেনে সবকিছু করতে হতো। আকাশের মতো খোলামেলা জীবন তার কাছে স্বপ্নের মতো মনে হতো। মা-বাবাকে খুব একটা কাছে পেতেন না। তাঁকে ঘিরে থাকত বেশ কজন ভৃত্য আর নানা বিষয়ের শিক্ষক।
হয়তো এ কারণেই রবীন্দ্রনাথ অনেক স্বপ্ন দেখতেন। মনে মনে মুক্ত জীবনের ছবি আঁকতেন। স্বপ্নময় জীবনের কথা লিখতে থাকেন কবিতায়, গল্পে, ছড়ায় তথা শিশুসাহিত্যে। বিশ্বকবির হাতে শিশুসাহিত্য সূচনা হয় আশ্চর্য মায়াময় এক অনুভূতি নিয়ে। ছোটদের জন্য তিনি একের পর এক কবিতা লেখেন। ১৯০৯ সালে প্রকাশিত হয় তার শিশুতোষ কবিতার বই, “শিশু”। ‘শিশু’ কাব্যগ্রন্থটি শিশু সাহিত্যের আকরগ্রন্থ রূপে পরিচিত। শিশু ১৯০৩-০৪ সালে কাব্যগ্রন্থের ৭ম ভাগে প্রথম প্রকাশিত।
১৯০৯ সালে স্বতন্ত্র গ্রন্থাকারে প্রকাশ। ‘শিশু’ প্রকাশ হওয়ার এক বছর আগে রবীন্দ্রনাথের স্ত্রী মৃনালিণী দেবীর মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর পর নিজের মাতৃহীন শিশুদের করুণ অবস্থার কথা অনুভব করেন কবি। “শিশু” কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলোর অধিকাংশই শিশুর জবানীতে মাকে উদ্দেশ্য করে রচিত। ‘শিশু’ কাব্যের ৬১টি কবিতার মধ্যে জন্মকথা - “বিদায়” ৩১টি কবিতা রূগ্নপত্নীর শয্যায় আপন শিশুপুত্র শমীন্দ্রের কথা মনে রেখেই রচনা করেন।
কবির অন্তরে শিশুকে কেন্দ্র করে যখন যে ভাবোদয় হয়েছে কবিতাগুলো সেটারই প্রকাশ। এই কবিতাগুলো রচনার উদ্দেশ্য ছিল, এগুলির সাহায্যে শিশুদের কল্পনাকে আলোকিত করা। মৃনালিণী দেবী মারা যাওয়ার পর রবি মাতৃহীন শিশুদের করুণ অবস্থার কথা অনুভব করেন। ১৯০৩ সালে ‘শিশু’ প্রকাশকালে কন্যা রেনুকার মৃত্যু হয়। চার বছরের পুত্র শমীন্দ্রনাথ মারা যান।
‘শিশু ভোলানাথ’ কাব্যগ্রন্থটি ‘শিশু’ কাব্যগ্রন্থের মতো মায়ের সঙ্গে শিশুর খেলা, মায়ের কাছে মনের কথা বলা, ইচ্ছা ও শৌর্যের প্রকাশ। ‘শিশু ভোলানাথ’ এর কবিতাগুলো ছড়া জাতীয় নয়। ছন্দবৈচিত্র্যে অপরূপ ধ্বণি ও ভাবরসে সমৃদ্ধ। খাপছাড়া গ্রন্থের ছড়াগুলোর রচনাকাল ১৯৩৫-৩৬ খ্রিস্টাব্দে। এতে কবি লেখনির সাহায্যে অতুলনীয় যাদুর খেল দেখিয়েছেন। মনে যখন যে কথা উঁকি দিয়েছে কবিগুরু তাকে ছন্দবদ্ধ করে প্রকাশ করেছেন। তাঁর হাতে শিশুসাহিত্য একটি বিশিষ্টতা লাভ করেছে।
তিনি নিজে লিখেছেনও যেমন, তেমনি লোকসাহিত্যের যে অংশ শিশুসাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে, সেই ছেলে ভুলানো ছড়া (১৯০৭) সংগ্রহ ও প্রকাশের মহান দায়িত্বও সুষ্ঠুভাবে পালন করেন। রবীন্দ্রনাথের ছিল নির্মল হাসির জগৎ, তিনি হাসতেন ও হাসাতেন। হাসতে হাসতে অনেক কিছু শেখাতেনও। তিনি কিছু ছোট ছোট হাসির নাটিকা লিখেছেন, যেগুলো হাস্যরসে ভরপুর।
রবীন্দ্রনাথের ছেলেবেলা সম্পর্কে কার না কৌতুহল আছে। তার ছেলেবেলার সজীব স্মৃতি বই “ছেলেবেলা”। তাকে জানতে ছেলেবেলা পড়া খুবই জরুরি। আমরা রবীন্দ্র শিশুতোষকে পাঠকের দৃষ্টিগোচর করতে পারি নিম্নরূপ ভাবে-আমাদের শিশুশ্রেণিতে পাঠ্যবইয়ে প্রথমে যে ছড়াটি সংকলিত হয়েছে তা হল “আগডুম-বাগডুম”। অনেকেরই জানা না থাকলেও আসলে এটি রবীন্দ্রনাথের ‘ছড়া সংগ্রহের’ ৩৯নং ছড়া
“আগডুম বাগডুম ঘোড়াডুম সাজে
ঢাক মৃদং ঝাঁঝর বাজে।।
...........................”
এই ছড়ার মধ্য দিয়ে শিশুদের মনকে অনবদ্য আনন্দ দিয়ে ভরিয়ে দিয়েছেন যা সত্যিই অতুলনীয়।
আবার ছড়া সংগ্রহের ২৭নম্বর ছড়ায় তিনি বলেছেন -
“দোল দোল দুলুনি
রাঙা মাথায় চিরুনি”
বর আসবে এখনি।
নিয়ে যাবে তখনি।।
কেঁদে কেন মর
আপনি বুঝিয়া দেখো কার ঘর করো।
এই ছড়ার মধ্য দিয়ে শিশুদের মাঝে বর কনের মধ্যকার সম্পর্কের কথা বলা হয়েছে এবং কনের বিদায়ের সময় যে প্রচলিত কান্নার রোল পড়ে যায় তা স্পষ্টভাবে ফুঁটিয়ে তোলা হয়েছে।
খাপছাড়া কাব্যগ্রন্থের প্রথম ছড়ায় বলা হয়েছে সহজ কথা সহজভাবে লেখা যায় না -
সহজ কথা লিখতে আমায় কহ যে,
সহজ কথা যায় না লেখা সহজে।
লেখার কথা মাথায় যদি জোটে
তখন আমি লিখতে পারি হয়তো।
কঠিন লেখা নয়কো কঠিন মোটে,
যা - তা লেখা তেমন সহজ নয় তো।
শিশুতোষ কবিতার বই শিশু কাব্যগ্রন্থে ‘প্রশ্ন’ শিরোনামের কবিতায় কোমল শিশুর মনে বেশি পড়ার প্রতি অনীহা এবং বাবা-মার অতি শাসন সত্ত্বেও না পড়ার আবদার প্রস্ফুটিত হয়েছে। খেলার প্রতি অতি আকর্ষণের চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
মা গো আমায় ছুটি দিতে বল,
সকাল থেকে পড়েছি যে মেলা।
এখন আমি তোমার ঘরে বসে
করব শুধু পড়া পড়া খেলা।
................................।
একই কাব্যগ্রন্থের বীরপুরুষ শিরোনামের কবিতায় মায়ের সঙ্গে শিশুর সহযাত্রা বীরদর্প প্রকাশ পেয়েছে। শিশুমনের বীরত্বগাঁথা আকাঙ্খা প্রস্ফুটিত হয়েছে।
মনে কর যেন বিদেশ ঘুরে
মাকে নিয়ে যাচ্ছি অনেক দূরে।
তুমি যাচ্ছ পালকিতে মা চড়ে
দরজাটুকু একটুকু ফাঁক করে
আমি যাচ্ছি রাঙা ঘোড়ার পরে
টগবগিয়ে তোমার পাশে পাশে।
......................
“বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর” এই ছড়ার মধ্যে বর্ষাকালে মেঘলা দিনের চিত্র ফুটে উঠেছে।
..................
‘বাদলা হাওয়ায় মনে পড়ে
ছেলে বেলার গান
বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর
নদেয় এল বান।’
শিশু ভোলানাথ কাব্যগ্রন্থে ‘তালগাছ’ শিরোনামে কবিতাটি শিশুদের মুখে মুখে শোনা যায়। এ দিয়ে শিশুমনকে ভোলানোও যায়।
তালগাছ এক পাঁয়ে দাঁড়িয়ে
সব গাছ ছাড়িয়ে
উঁকি মারে আকাশে।
.......................
শিশুদের নিয়ে রবীন্দ্রনাথ শুধু কবিতা, ছড়া লিখেননি, তিনি হাস্য-রসাত্মক ও কৌতুকরসনির্ভর নাটিকাও লিখে গেছেন। তাঁর প্রত্যেকটি ছোট গল্প কাচেঁর ফ্রেমে বাঁধিয়ে রাখার মতো। দেনা-পাওনা, ছুটি, হৈমন্তি, সমাপ্তি, অপরাজিতা- এগুলো যুগে যুগে আবহমান বাঙালিকে যে সাহিত্যরস জুগিয়েছে তা অতুলনীয়।
কবিগুরু শিশুসুলভ মন দিয়ে শিশুদের জন্য সাহিত্যসম্ভার রচনা করেন। এর প্রভাব ভারতীয় উপমহাদেশ তথা বিশ্ব শিশু সাহিত্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। আজ প্রযুক্তিনির্ভর শিশুমনকে আনন্দ দেয়ার জন্য রাবিন্দ্রিক শিশুভাবনাকে নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপন করার সময় এসেছে। আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। এই কথাটি পূর্ণাঙ্গতা পাবে তখনই যখন বাংলা সাহিত্যের অত্যুজ্জ্বল নক্ষত্র রবীন্দ্রনাথ এবং তাঁর সৃষ্টিকে শিশুরা আগ্রহভরে জানবে। বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করবে।
জালাল উদ্দীন, সহকারি অধ্যাপক, ইংরেজি বিভাগ, উত্তরা কমার্স কলেজ, ঢাকা।
- কেউ দ্রুত ঘুমিয়ে পড়েন, আবার কারও দেরি হয়: নেপথ্যে কী
- অনন্য রেকর্ডের সামনে মেসি
- ২০২৭ সালে সরকারি ছুটি কতদিন, জানা গেল
- ঘরের ভেতর অলৌকিক ‘জোড়া কবর’
- অনিয়ম পেলে সারের ডিলারশিপ বাতিল: কৃষিমন্ত্রী
- মধ্যবর্তী নির্বাচনে হেরে গেলে ট্রাম্পের কী হবে?
- শীতের আগেই শুরু হোক প্রস্তুতি
- পিবিআইয়ের ধারণা, ‘পুলিশের ধাওয়ায় তুরাগ নদে ঝাঁপ দেন’ তাহসিফ
- মাথায় আঘাত, দ্বিতীয় টেস্টে অনিশ্চিত মুমিনুল
- ভারতে চাকরির আশ্বাসে বিক্রি, পুনেতে ৬ বাংলাদেশি নারী উদ্ধার
- ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ রফিকের জন্মশতবর্ষ
- প্রধানমন্ত্রীকে ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি এনসিপির
- এক গ্লাস দুধে কি পরিমাণ ক্যালসিয়াম থাকে?
- তাহসিফ সাউরি `আতঙ্কে` ভুগছিলেন, সাংবাদিকদের জানালেন বাবা
- সোনার ডিম পাড়া হাঁস যেন মেরে ফেলা না হয়
- ঢাকা শহরে চলতে পারবে না লাইসেন্সবিহীন রিকশা
- রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে উৎপাদনের অনুমোদন
- ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: বিপুল ভোটে জয়ী বিএনপির মির্জা ফয়সল
- ‘আপত্তিকর ছবি-ভুল তথ্য’ ছড়ানোর অভিযোগ, তিশাকে লিগ্যাল নোটিস
- মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু ৩১ অক্টোবর
- সব নির্বাচন একই মানদণ্ডে আয়োজনের লক্ষ্য: সিইসি
- হার্ট অ্যাটাক হলে সঙ্গে সঙ্গে কী করবেন?
- মালয়েশিয়ায় হুন্ডি চক্রের সন্ধান, ৮ বাংলাদেশি আটক
- বাংলাদেশ-জাপান ৬ চুক্তি সই, ২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলার ঋণ প্রতিশ্রুতি
- ভয়ঙ্কর রূপ নিচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, কতটা প্রভাব পড়বে বাংলাদেশে?
- মোগলাই পরোটা কার: মোগল না ব্রিটিশদের?
- ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির বক্তব্য ঠিক হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- রমজানের আগেই ব্যবসায়ীরা ভোজ্যতেলের দাম বাড়াতে চান
- এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল জানা যাবে যেভাবে
- প্রতারণার মাধ্যমে রুশ সেনাবাহিনীতে নিয়োগ তালিকায় বাংলাদেশিরাও
- বার্গার এলো কীভাবে?
- এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল জানা যাবে যেভাবে
- বিশ্ববাজারে ডানা মেলতে প্রস্তুত ঢাকাই মসলিন
- ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ রফিকের জন্মশতবর্ষ
- ভয়ঙ্কর রূপ নিচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, কতটা প্রভাব পড়বে বাংলাদেশে?
- বাংলাদেশ-জাপান ৬ চুক্তি সই, ২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলার ঋণ প্রতিশ্রুতি
- মালয়েশিয়ায় হুন্ডি চক্রের সন্ধান, ৮ বাংলাদেশি আটক
- তাহসিফ সাউরি `আতঙ্কে` ভুগছিলেন, সাংবাদিকদের জানালেন বাবা
- শীতের আগেই শুরু হোক প্রস্তুতি
- এই সময়েও আবুল হায়াত-ডলি জহুর জুটিতে মুগ্ধ দর্শক
- মোগলাই পরোটা কার: মোগল না ব্রিটিশদের?
- সব নির্বাচন একই মানদণ্ডে আয়োজনের লক্ষ্য: সিইসি
- ‘আপত্তিকর ছবি-ভুল তথ্য’ ছড়ানোর অভিযোগ, তিশাকে লিগ্যাল নোটিস
- ঢাকা শহরে চলতে পারবে না লাইসেন্সবিহীন রিকশা
- এক গ্লাস দুধে কি পরিমাণ ক্যালসিয়াম থাকে?
- প্রতারণার মাধ্যমে রুশ সেনাবাহিনীতে নিয়োগ তালিকায় বাংলাদেশিরাও
- হার্ট অ্যাটাক হলে সঙ্গে সঙ্গে কী করবেন?
- মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু ৩১ অক্টোবর
- সোনার ডিম পাড়া হাঁস যেন মেরে ফেলা না হয়
- ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির বক্তব্য ঠিক হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী




