ঢাকা, ০৩ নভেম্বর মঙ্গলবার, ২০২৬ || ১৮ কার্তিক ১৪৩৩
good-food
৩

মধ্যবর্তী নির্বাচনে হেরে গেলে ট্রাম্পের কী হবে?

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ০৩:৫৪ ৩ নভেম্বর ২০২৬  

মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতায় থাকার বাকি দুই বছর নির্বিঘ্নে কাটবে কি না তা অনেকটাই নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলের ওপর। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হলে নিয়মিত প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের।

বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা শুরু করতে পারেন একের পর এক তদন্ত, আটকে দিতে পারেন গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ। এমনকি উঠতে পারে তৃতীয়বারের মত অভিশংসনের উদ্যোগও।

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের সবগুলো এবং সিনেটের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসনে ভোটগ্রহণ করা হবে। 

বর্তমানে কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে রিপাবলিকানদের হাতে। তবে, ডেমোক্র্যাটরা এক বা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলে কংগ্রেসে ট্রাম্পের দলীয় সমর্থন কমে যাবে। 

এতে তার প্রশাসনের বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়তে পারে। প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারালে বিভিন্ন বিষয়ে জবাবদিহি করতে হতে পারে ট্রাম্প প্রশাসনকে। ডেমোক্র্যাটরা প্রশাসনের কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্তও শুরু করতে পারবেন।

একই সঙ্গে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তলব এবং সরকারি নথি চেয়ে পাঠানোর ক্ষমতাও পাবেন তারা। ফলে প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে পারে।

ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডও তদন্তের আওতায় আসতে পারে বলেও ধারনা করছেন অনেকে। বিশেষ করে ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও তার ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের ব্যবসায়িক লেনদেন খতিয়ে দেখতে চান ডেমোক্র্যাট নেতারা।

পাশাপাশি, কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথি প্রকাশ্যে আনা নিয়ে বিচার বিভাগের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত হতে পারে। এ সব নথির কিছু অংশ প্রকাশ না করা এবং ভুক্তভোগীদের পরিচয় প্রকাশের বিষয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

এদিকে, পেন্টাগনের প্রতিরক্ষা খাতের অর্থ ট্রাম্প পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে যাচ্ছে কি না সেটাও খতিয়ে দেখতে চান ডেমোক্র্যাটরা।

সব মিলিয়ে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পেলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি বাড়ানোর সুযোগ পাবেন ডেমোক্র্যাটরা।

অন্যদিকে, সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারালে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে নিয়োগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে ট্রাম্পের জন্য।

মন্ত্রিসভার সদস্য, রাষ্ট্রদূত ও কেন্দ্রীয় আদালতের বিচারক নিয়োগে সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে এসব নিয়োগ আটকে দিতে বা বিলম্বিত করতে পারবেন।

পাশাপাশি আইন প্রণয়ন ও সরকারি ব্যয়ের বিষয়ে হোয়াইট হাউজকে তাদের সঙ্গে আলোচনাও করতে হবে।

এ ছাড়া, প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তৃতীয়বারের মতো অভিশংসনের উদ্যোগ নিতে পারেন ডেমোক্র্যাটরা।

দলটির প্রতিনিধি পরিষদের নেতা হাকিম জেফরিস জানিয়েছেন, এ বিষয়ে কোনো সম্ভাবনাই উড়িয়ে দিচ্ছেন না তারা।

তবে, প্রতিনিধি পরিষদে অভিশংসনের প্রস্তাব পাস হলেই ট্রাম্পকে পদ ছাড়তে হবে না। তাকে প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সরাতে বরং সিনেটে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হবে।

এর আগে, ২০১৮ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল ডেমোক্র্যাটরা। এরপর তার ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড, রাশিয়া-সংক্রান্ত তদন্ত এবং স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ নিয়ে একাধিক অনুসন্ধান শুরু হয়।

২০১৯ সালে ইউক্রেনকে ব্যবহার করে জো বাইডেনের বিরুদ্ধে নেতিবাচক তথ্য সংগ্রহের অভিযোগে ট্রাম্পকে প্রথমবার অভিশংসন করা হয়। ২০২১ সালে ক্যাপিটল ভবনে হামলায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে দ্বিতীয়বার অভিশংসিত হন তিনি।

তবে, দুবারই সিনেটে খালাস পান ট্রাম্প। এবারও ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলে তার প্রশাসনের ওপর তদন্ত ও নজরদারি বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।