ঢাকা, ১০ জুন বুধবার, ২০২৬ || ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
good-food

সালমান শাহ`র লাশ উত্তোলনের অনুমতি

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২১:০৬ ১০ জুন ২০২৬  

আলোচিত চিত্রনায়ক সালমান শাহের মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে তার লাশ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত। বুধবার (১০ জুন) ডিএমপি প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক শাহ আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

এর আগে গত ২০ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ এই আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা গত ২৪ মে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) কে এই অনুমতি দেন। 

আবেদনে জিয়াউল মোর্শেদ উল্লেখ করেন, ঘটনার ২৯ বছর পর আদালতের নির্দেশে রমনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মৃত সালমান শাহের লাশ পুনরায় কবর থেকে উত্তোলনপূর্বক লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন এবং ময়না তদন্ত সম্পন্ন করে পোষ্ট মর্টেম রিপোর্ট পর্যালোচন করা একান্ত প্রয়োজন। পরে আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেন। 

২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় করা অপমৃত্যু মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন আদালত। এই নির্দেশের পর ওইদিন মধ্যরাতে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলায় সালমান সাহ’র সাবেক স্ত্রী সামীরা হক ও  খলনায়ক ডনসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। মামলার অন্য আসামিরা হলেন সামীরা হকের মা লতিফা হক লুছি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুসি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু, রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসা থেকে চিত্রনায়ক সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই সময় প্রথমে অপমৃত্যুর মামলা করেন সালমান শাহর বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই অভিযোগটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন করা হয়। এ বিষয়ে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত। তদন্ত শেষে ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। প্রতিবেদনে এ ঘটনাকে আত্মহত্যা বলা হয়।

পরে ওই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন গৃহীত হয়। তবে প্রতিবেদনটি প্রত্যাখ্যান করে রিভিশন মামলা করেন কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরে ২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠান আদালত। দীর্ঘ ১১ বছর পর ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট আদালতে বিচার বিভাগীয় তদন্তের প্রতিবেদন দাখিল করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইমদাদুল হক। ওই প্রতিবেদনেও সালমান শাহর মৃত্যুকে অপমৃত্যু বলা হয়। কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরীর মৃত্যুর পর ছেলে হত্যা মামলার বাদী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন মা নীলা চৌধুরী।

২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজির আবেদন করেন। সর্বশেষ মামলাটি পিবিআই তদন্ত করে। ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর আদালত ওই প্রতিবেদন গ্রহণ করে মামলাটি নিষ্পত্তি করেন। ২০২২ সালের ১২ জুন এই আদেশের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন মামলা দায়ের হয়।

বিনোদন বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর