ঢাকা, ১০ জুন বুধবার, ২০২৬ || ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
good-food

চা, কফি নাকি কোলা— দাঁতে কালো ও হলুদ ছোপের জন্য দায়ী কোনটি?

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২১:০৪ ১০ জুন ২০২৬  

চা, কফি ও কোল্ড ড্রিংক্স— এই তিন পানীয়ই ভারতীয়দের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সকালে উঠে এক কাপ গরম চা না পেলে অনেকের দিনই শুরু হয় না। অফিসে কাজের ফাঁকে চা বা কফি পান অনেকেরই অভ্যাস। আবার এই গরম একটু স্বস্তির খোঁজে টুক করে কোলা জাতীয় পানীয়ে চুমুক চল বেড়েছে। তবে একটি সাধারণ প্রশ্ন প্রায়ই উঠে আসে— তা হলো এগুলি খেলে কি দাঁত কালো হয়ে যায়? এই তিনটির মধ্যে কোন পানীয় দাঁতের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে?

কোনটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর?

বিশেষজ্ঞদের মতে, চা, কফি এবং কোলা— এই তিন পানীয় মুখগহ্বরের স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে দাঁতে দাগ ফেলার ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ব্ল্যাক টি বা লিকার চা।

কেন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর ব্ল্যাক টি?

অনেকেই মনে করেন চা স্বাস্থ্যকর পানীয়, তবে দাঁতের জন্য তা বেশ ক্ষতিকর হতে পারে। কালো চায়ে থাকা ট্যানিন ও বিভিন্ন রঞ্জক পদার্থ সহজেই দাঁতের এনামেলের সঙ্গে লেগে যায়। নিয়মিত দিনে কয়েক কাপ চা খেলে বা দীর্ঘ সময় ধরে অল্প অল্প করে চা পান করলে দাঁতে হলুদ বা বাদামি দাগ তৈরি হতে পারে। দীর্ঘদিন স্কেলিং বা প্রফেশনাল ক্লিনিং না করালে এই দাগ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তাই সময় থাকতে সতর্ক হন, প্রতি ৬ মাস অন্তর একবার করে ডেন্টিস্টের কাছে গিয়ে চেকআপ করিয়ে নিন।

কফিও রয়েছে এই দৌড়ে

কফিতে থাকা গাঢ় রঙের পিগমেন্ট দাঁতের এনামেল ও প্লাকের সঙ্গে লেগে গিয়ে ধীরে ধীরে দাঁতের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা কমিয়ে দেয়। ফলে দাঁত হলুদ বা বাদামি দেখাতে শুরু করে। বারবার কফি পান করা এবং দাঁতের সঠিক যত্ন না নেওয়ার ফলে এই সমস্যা আরও বাড়তে পারে।

কোলা কি তুলনায় কম ক্ষতিকর?

অনেকেই ভাবেন কোলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর, কারণ এর রং গাঢ়। কিন্তু বাস্তবে দাঁতে দাগ ফেলার ক্ষেত্রে এটি চা ও কফির তুলনায় কিছুটা পিছিয়ে। তবে কোলার সবচেয়ে বড় সমস্যা এর উচ্চমাত্রার অম্লতা বা অ্যাসিডিক গুণ। এই অ্যাসিড দাঁতের এনামেলকে দুর্বল করে ও ক্ষইয়ে দেয়। একবার এনামেল ক্ষতিগ্রস্ত হলে অন্যান্য খাবার ও পানীয়ের দাগ সহজেই দাঁতে বসে যায়। পাশাপাশি কোলায় থাকা চিনি দাঁতে ক্ষয় ও ক্যাভিটির ঝুঁকি বাড়ায়।

দাঁত সুরক্ষিত রাখাবেন কীভাবে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, চা, কফি বা কোলা সম্পূর্ণ ভাবে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চললেই দাঁত সুস্থ রাখা সম্ভব। যেমন— এসব পানীয় খাওয়ার পরে পরিষ্কার জল দিয়ে মুখ কুলকুচি করা, কোলা পান করার সঙ্গে সঙ্গে দাঁত না মাজা, ঠান্ডা সফট ড্রিংকস স্ট্র দিয়ে পান করা, চিনি কম খাওয়া, দিনে দু’বার ফ্লুরাইড টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করা, নিয়মিত ফ্লস ব্যবহার করা এবং নির্দিষ্ট সময় অন্তর ডেন্টিস্টের কাছে গিয়ে দাঁত পরিষ্কার করানো।

স্বাস্থ্য বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর