ঢাকা, ১০ জুন বুধবার, ২০২৬ || ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
good-food

বিশ্বকাপ মাতাতে পারে যে ২০ উদীয়মান ফুটবলার প্রতিভা

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২১:২৯ ১০ জুন ২০২৬  

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপের ২৩তম আসর। এবার রেকর্ড ১ হাজার ২৪৮ জন ফুটবলার এই বিশ্বমঞ্চে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে এবারের আসরে তারকা ফুটবলারদের পাশাপাশি ফুটবল দুনিয়ার নজর থাকবে একঝাঁক নতুন প্রতিভার ওপর। কেননা অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের মধ্যে ৮৯১ জনই এবার প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলবেন।

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ এবং স্কটিশ প্রিমিয়ার লিগের বাইরে খেলছেন এমন ২০ জন তরুণ ও উদীয়মান ফুটবলারকে এই বিশ্বকাপের ‘ওয়াচ লিস্ট’-এ রেখেছেন বিবিসি স্পোর্টের ধারাভাষ্যকাররা। বিশ্বমঞ্চে নিজেদের মেলে ধরতে প্রস্তুত এমন ২০ জন প্রতিভার বিস্তারিত নিচে তুলে ধরা হলো-

ইয়ান দিওমান্দে (আইভরি কোস্ট/আরবি লাইপজিগ)

স্প্যানিশ ক্লাব লেগানেস থেকে মাত্র ২০ মিলিয়ন ইউরোতে আরবি লাইপজিগে যোগ দিয়েই বুন্দেসলিগার ‘রুকি অব দ্য সিজন’ পুরস্কার জিতেছেন ১৯ বছর বয়সী এই উইঙ্গার। সদ্য সমাপ্ত মৌসুমে ৩৩ ম্যাচে ১২টি গোল ও ৯টি অ্যাসিস্ট করে লাইপজিগকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তুলতে বড় অবদান রেখেছেন। ১৫ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো দিওমান্দে ফ্লোরিডায় তিন বছর কাটিয়েছেন, তাই উত্তর আমেরিকার পরিবেশ তাঁর চেনা। গত সপ্তাহে ফ্রান্সের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে আইভরি কোস্টের ঐতিহাসিক জয়ে তিনি শুরুর একাদশে ছিলেন।

গিলবার্তো মোরা (মেক্সিকো/টিহুয়ানা)

এবারের বিশ্বকাপের সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় মোরা। গত বছর মাত্র ১৬ বছর বয়সে গোল্ড কাপে মেক্সিকোর ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে তার অভিষেক হয়। ২০২৪ সালের আগস্টে মাত্র ১৫ বছর বয়সে গোল করে তিনি মেক্সিকান ‘লিগা এমএক্স’ এর ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার রেকর্ড গড়েন। স্বাগতিক মেক্সিকোর উদ্বোধনী ম্যাচেই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এজতেকা স্টেডিয়ামে এই বিস্ময়বালকক এই মিডফিল্ডারকে মাঠে দেখা যেতে পারে।

জোহান মানজাম্বি (সুইজারল্যান্ড/ফ্রেইবুর্গ)

ফ্রাইবার্গকে ইউরোপা লিগের সেমিফাইনালে তুলতে দারুণ ভূমিকা রাখা মানজাম্বি উয়েফা কর্তৃক ইউরোপা লিগের ‘রেভেলেশন অব দ্য সিজন’ নির্বাচিত হয়েছেন। মাঠের মাঝমাঠে একাধিক পজিশনে খেলতে পারেন ২০ বছর বয়সী এই তরুণ ফুটবলার। সুইজারল্যান্ডের অধিনায়ক গ্রানিত জাকা ও কোচ মুরাত ইয়াকিন এরইমধ্যে এই তরুণের গোল করার সহজাত ক্ষুধার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

রিকার্ডো পেপি (যুক্তরাষ্ট্র/পিএসভি আইন্দোফেন)

স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের বড় ভরসা ২৩ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার। গত মৌসুমে ডাচ লিগে পিএসভি আইন্দহোভেনের হয়ে ১৯টি গোল করেছেন যার মধ্যে শেষ ৫ ম্যাচেই ছিল ৬টি গোল। জাতীয় দলের হয়ে ৩৫ ম্যাচে ১৩ গোল করা পেপিকে মাঝে কিছুদিন জাতীয় দলে নিয়মিত দেখা না গেলেও মে মাসের শেষে সেনেগালের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে ফিরেই অ্যাসিস্ট করেছেন এবং গত সপ্তাহে জার্মানির বিপক্ষেও মাঠে নেমেছেন।

নিকো পাজ (আর্জেন্টিনা/কোমো)

সাবেক আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার পাবলো পাজের ছেলে নিকো পাজ সেস ফ্যাব্রেগাসের অধীনে ইতালিয়ান ক্লাব কোমোর হয়ে দুর্দান্ত মরশুম কাটিয়েছেন। বাঁ-পায়ের নিখুঁত ড্রিবলিং ও ১০ নম্বর পজিশনে খেলার ধরনের কারণে অনেকেই ২১ বছর বয়সী এই ছেলের মাঝে মেসির ছায়া দেখছেন। সদ্য সমাপ্ত সিরি-আ'তে সবচেয়ে বেশি ড্রিবলিং করা এই তারকা ১৩টি গোল ও ৮টি অ্যাসিস্ট করেছেন। ২০২৪ সালে রিয়াল মাদ্রিদ তাকে বিক্রি করলেও ২০২৭ সাল পর্যন্ত বাই-ব্যাক ক্লজ বা পুনরায় কিনে নেওয়ার শর্ত রেখে দিয়েছে।

গেসিম ইয়াসিন (মরক্কো/স্ত্রসবুর্গ)

গত অক্টোবরে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে মরক্কোকে চ্যাম্পিয়ন করতে বড় ভূমিকা রেখে বার্সেলোনার নজরে এসেছিলেন ২০ বছর বয়সী এই রাইট-উইঙ্গার। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৭ মিলিয়ন ইউরোতে ফরাসি ক্লাব স্ট্রাসবার্গে যোগ দেন। বাঁ-পায়ের এই উইঙ্গার বলের ওপর দারুণ নিয়ন্ত্রণ ও চতুর ড্রিবলিংয়ের জন্য পরিচিত। স্ট্রাসবার্গের পার্টনার ক্লাব চেলসিও তার ওপর কড়া নজর রাখছে।

লুকাস হ্যারিংটন (অস্ট্রেলিয়া/কলোরাডো র‌্যাপিডস)

ব্রিসবেনে জন্ম নেওয়া এই তরুণ রক্ষণভাগের খেলোয়াড় চলতি বছরের জানুয়ারিতে ক্লাব রেকর্ড ট্রান্সফার ফিতে যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকার এর ক্লাব কলোরাডো র‌্যাপিডসে যোগ দেন। এমএলএস-এ দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদেই তিনি অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ স্কোয়াডে নিজের জায়গা পাকা করে নিয়েছেন।

কেরিম আলজবেগোভিক (বসনিয়া-হার্জেগোভিনা/রেড বুল সালজবার্গ)

জার্মানিতে জন্ম নেওয়া এই বসনিয়ান উইঙ্গার সালজবার্গে এতই নজর কেড়েছেন যে তার সাবেক ক্লাব বায়ার লেভারকুসেন মাত্র এক মৌসুম পরেই তাদের ‘বাই-ব্যাক’ শর্ত খাটিয়ে তাকে দলে ফিরিয়ে নিয়েছে। বসনিয়ার প্লে-অফ সেমিফাইনালে ওয়েলসের বিপক্ষে এবং ফাইনালে ইতালির বিপক্ষে পেনাল্টি শুটআউটে জয়সূচক গোল করে তিনি বড় মঞ্চে নিজের স্নায়ুচাপ ধরে রাখার প্রমাণ দিয়েছেন।

কান উজুন (তুরস্ক/এইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্ট)

জার্মানিতে জন্ম নেওয়া এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার ফ্রাঙ্কফুর্টের হয়ে গত মৌসুমের শুরুতে ৫ ম্যাচে ৫টি গোল ও ৩টি অ্যাসিস্ট করে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন। তবে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে শীতকালে তার মাঠে নামা সীমিত হয়ে পড়েছিল। তুরস্কের মাঝমাঠে কেনান ইলদিজ বা ওরকুন কোকচুর বিকল্প হিসেবে ওলাঁদোর তুরুপের তাস হতে পারেন তিনি।

আরমান্দো গঞ্জালেজ (মেক্সিকো/চিভাস দে গুয়াদালাহারা)

গুয়াদালাহারার হয়ে গত মৌসুমে ২৫টি গোল করা ২৩ বছর বয়সী গঞ্জালেজকে মেক্সিকোর সাবেক তারকা হাভিয়ের ‘চিচারিতো’ হার্নান্দেজের উত্তরসূরি ভাবা হচ্ছে। গত নভেম্বরে জাতীয় দলে অভিষেকের পর ফেব্রুয়ারিতে প্রথম আন্তর্জাতিক গোল পান তিনি। স্বাগতিকদের জন্য তিনি একজন ‘সুপার সাব’ (বদলি খেলোয়াড়) হিসেবে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন।

আইয়ুব বুয়াদ্দি (মরক্কো/লিলে)

ফ্রান্স অনূর্ধ্ব-২১ দলের হয়ে খেললেও গত মাসে আন্তর্জাতিক ফুটবলে মরক্কোর প্রতিনিধিত্ব করার সিদ্ধান্ত নেন১৮ বছর বয়সী আইয়ুব বুয়াদ্দি। যা মরক্কো ফুটবলের জন্য বড় জয়। মাত্র ১৬ বছর ৩ দিন বয়সে ফরাসি ক্লাব লিলের হয়ে কনফারেন্স লিগে অভিষেক হওয়া বুয়াদ্দির এরইমধ্যে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও ইউরোপা লিগ খেলার অভিজ্ঞতা হয়ে গেছে। ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে তার পরিপক্বতা প্রশংসনীয়।

হুসেম আউয়ার (আলজেরিয়া/আল-ইতিহাদ)

কৈশোরে ফরাসি ক্লাব অলিম্পিক লিঁওতে খেলার সময় ইউরোপের অন্যতম চাহিদাসম্পন্ন খেলোয়াড় ছিলেন ২৭ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার। বর্তমানে সৌদি প্রো লিগের ক্লাব আল-ইতিহাদের হয়ে খেলছেন যেখানে এই মরশুমে মাঝমাঠের এই প্লে-মেকার ১৫টি গোল করে নিজের পুরোনো ফর্ম ফিরে পাওয়ার জানান দিয়েছেন।

আলেসান্দ্রো চিরকাতি (অস্ট্রেলিয়া/পার্মা)

ইতালির যুব দলে খেলা এই ডিফেন্ডার মাত্র ১ বছর বয়সেই অস্ট্রেলিয়ায় চলে যান। ইতালিয়ান ক্লাব পার্মার রক্ষণভাগের মূল ভরসা চিরকাতি গত সেপ্টেম্বরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে ১৯৮১ সালের পর অস্ট্রেলিয়ার সর্বকনিষ্ঠ অধিনায়ক হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। ক্যাঙ্গারুদের রক্ষণভাগের মূল স্তম্ভ হতে যাচ্ছেন তিনি।

আলী জসিম (ইরাক/কোমো/আল-নাজমা (ধারে)

২০২৪ সালের অনূর্ধ্ব-২৩ এশিয়ান কাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা আলী জসিম ইতালিয়ান ক্লাব কোমোর নজরে আসেন। কোমো তাকে চুক্তিবদ্ধ করে নেদারল্যান্ডস ও পরে সৌদি আরবের ক্লাব আল-নাজমায় ধারে পাঠায়। ইরাকের কোচ গ্রাহাম আর্নল্ডের অধীনে গত ১২ মাস ধরে নিয়মিত খেলছেন তিনি। নরওয়ে, ফ্রান্স ও সেনেগালের মতো কঠিন গ্রুপ ‘আই’-তে ইরাকের মূল ভরসা ২২ বছর বয়সী এই লেফট-উইঙ্গার।

মোহাম্মদ আমৌরা (আলজেরিয়া/ভলফসবুর্গ)

বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের শেষ ৬ ম্যাচে আলজেরিয়ার হয়ে ১০টি গোল করেছেন আমৌরা। যদিও এই মৌসুমে তার ক্লাব উলফসবার্গ রেলিগেশনের মুখোমুখি হয়েছিল। তবে ক্লাবের চেয়ে জাতীয় দলের জার্সিতে তার সাম্প্রতিক ফর্ম দুর্দান্ত। স্ট্রাইকার হওয়ার পাশাপাশি আক্রমণভাগের বাম প্রান্তেও সমান কার্যকর তিনি।

লুইস সুয়ারেজ (কলম্বিয়া/স্পোর্টিং লিসবন)

উরুগুয়ের কিংবদন্তির সমনামী কলম্বিয়ান স্ট্রাইকার পর্তুগালের স্পোর্টিং লিসবনে ভিক্টর গাইওকেরেসের বিকল্প হিসেবে যোগ দিয়ে প্রথম মৌসুমেই অবিশ্বাস্য ৩৮টি গোল করেছেন এই স্ট্রাইকার। পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৯টি গোল। এই ফর্ম বিশ্বকাপে ধরে রাখতে মরিয়া তিনি।

ব্রায়ান গুতিয়েরেজ (মেক্সিকো/চিভাস দে গুয়াদালাহারা)

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ে জন্ম নেওয়া এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে দুটি ম্যাচও খেলেছিলেন। তবে গত নভেম্বরে তিনি তার বাবা-মায়ের দেশ মেক্সিকোর হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নেন। শিকাগো ফায়ার থেকে গুয়াদালাহারাতে যোগ দেওয়া এই তরুণ ২০২৬ সালে মেক্সিকোর ৮টি ম্যাচের ৭টিতেই মাঝমাঠের মূল চালিকাশক্তি ছিলেন।

বাজুমানা তুরে (আইভরি কোস্ট/হফেনহেইম)

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সুইডিশ ক্লাব হামারবি থেকে জার্মান ক্লাব হফেনহেইমে যোগ দেওয়ার পর তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারণে সমর্থকরা এই উন্মাদনাকে ‘তুরেমানিয়া’ নাম দিয়েছেন। লিগে ৩০ ম্যাচে ১২টি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। উইং পজিশনে দিওমান্দে ও আমাদ দিয়ালো থাকায় শুরুর একাদশে জায়গা পেতে তাকে কিছুটা লড়াই করতে হচ্ছে।

ইব্রাহিম মাজা (আলজেরিয়া/বেয়ার লেভারকুসেন)

বার্লিনে জন্ম নেওয়া এই প্রতিভাবান অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার চলতি মৌসুমে বায়ার লেভারকুসেনের হয়ে আলো ছড়িয়েছেন এবং বছরের শুরুতে আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে আলজেরিয়ার হয়ে দুটি গোলও করেছেন। এরইমধ্যে আলজেরিয়ায় তার খেলার শৈলীকে রিয়াদ মাহরেজের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। ক্লাবের হয়ে ৪০টিরও বেশি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এই তরুণ বৈশ্বিক মঞ্চ মাতাতে প্রস্তুত।

লুকা ভুশকোভিচ (ক্রোয়েশিয়া/টটেনহাম/হামবুর্গ (ধারে)

মাত্র ১৬ বছর বয়সে হাজদুক স্প্লিটের হয়ে অভিষেক হওয়া এই লম্বা ও শক্তিশালী ডিফেন্ডারকে ২০২৫ সালের গ্রীষ্মে টটেনহ্যাম হটস্পার নিজেদের দলে ভেড়ায়। গত মৌসুমে ধারে বেলজিয়ামের ওয়েস্টারলো এবং পরবর্তীতে জার্মানির হামবুর্গে কাটানো ভুশকোভিচ রক্ষণে প্রাচীর গড়ার পাশাপাশি হামবুর্গের হয়ে ৬টি গোলও করেছেন। বিশ্বকাপের পর তিনি সরাসরি স্পার্সদের মূল দলে যোগ দেবেন।

খেলাধুলা বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর