ঢাকা, ০৪ নভেম্বর বুধবার, ২০২৬ || ১৯ কার্তিক ১৪৩৩
good-food
৯

৪৮ বছর পানি পান করেননি বাফেট? নেপথ্যে কী

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ০৩:৩১ ৪ নভেম্বর ২০২৬  

পৃথিবীর অন্যতম ধনী ব্যক্তি ওয়ারেন বাফেট। বিপুল সম্পদের মালিক তিনি। তাকে চেনেন না এমন মানুষ কমই আছেন। অথচ তার অভ্যাসের কথা শুনলে অনেকেই অবাক হবেন। সকালে ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস পানি পান করেন না, বরং তার পছন্দের তালিকায় রয়েছে মিষ্টি স্বাদের এক কোমল পানীয়। তাও এক দুদিন নয় ৪৮ বছর ধরে পানি পান করেন না ধনকুবের।

সম্প্রতি তাকে ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে একটি দাবি নিয়ে। বলা হচ্ছে, প্রায় ৪৮ বছর ধরে পানি পান করেন না তিনি! বদলে তার ভরসা চেরি কোক। কিন্তু সত্যিই কি পানি ছেড়ে এত বছর ধরে একটি কোমল পানীয় পান করেই কাটিয়েছেন এই ধনকুবের? কী আছে এই পানীয়তে? নিয়মিত পান করলে শরীরের কতটা ক্ষতি হতে পারে?

৪৮ বছর ধরে এক গ্লাস পানিও পান করেননি ওয়ারেন বাফেট

চেরি কোক আসলে কী?

নাম শুনে মনে হতে পারে, চেরি ফলের রস দিয়ে তৈরি কোনো পানীয়। কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়। চেরি কোক মূলত কোকা-কোলার একটি বিশেষ সংস্করণ। পরিচিত কোলার স্বাদের সঙ্গে এতে যোগ করা হয় চেরির স্বাদ ও সুগন্ধ। ফলে সাধারণ কোকের তুলনায় পানীয়টিতে মিষ্টি ও ফলের আলাদা একটা স্বাদ পাওয়া যায়।

তবে এতে চেরির রস রয়েছে, এমনটা ভাবার কারণ নেই। কোকা-কোলার প্রকাশিত উপাদান তালিকা অনুযায়ী, সাধারণ চেরি কোক তৈরিতে ব্যবহার করা হয় কার্বনেটেড ওয়াটার, হাই ফ্রুক্টোজ কর্ন সিরাপ, ক্যারামেল কালার, ফসফরিক অ্যাসিড, প্রাকৃতিক ফ্লেভার এবং ক্যাফিন।

পানীয়টির পুষ্টিগুণের হিসাবও বেশ চমকপ্রদ। কোকা-কোলার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১২ আউন্স বা প্রায় ৩৫৫ মিলিলিটার চেরি কোকে রয়েছে ১৫০ ক্যালোরি, ৪২ গ্রাম চিনি এবং ৩৪ মিলিগ্রাম ক্যাফিন। অর্থাৎ এক ক্যান পান করলেই শরীরে বেশ খানিকটা অতিরিক্ত চিনি প্রবেশ করে।

নিয়মিত চেরি কোক পান করলে কী হতে পারে?

চেরি কোকের স্বাদ যতই আকর্ষণীয় হোক, এটি কিন্তু শরীরের প্রয়োজনীয় পানির বিকল্প নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঝেমধ্যে অল্প পরিমাণে কোমল পানীয় পান করা আর প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে পান করার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। এক ক্যান চেরি কোকে ৪২ গ্রাম চিনি থাকে। নিয়মিত এ ধরনের চিনিযুক্ত পানীয় পান করলে অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণের কারণে ওজন বাড়তে পারে। দীর্ঘদিন অতিরিক্ত চিনি গ্রহণের সঙ্গে টাইপ-২ ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও দাঁতের ক্ষয়ের ঝুঁকিও জড়িত।

অন্যদিকে এতে থাকা ক্যাফিন কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ঘুমের সমস্যা, অস্থিরতা কিংবা বুক ধড়ফড়ের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে যারা রাতে ঘুমানোর আগে ক্যাফিনযুক্ত পানীয় পান করেন, তাদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন। তাই তৃষ্ণা মেটানো কিংবা শরীরের পানির চাহিদা পূরণের জন্য সাধারণ পানির বিকল্প হিসেবে চেরি কোককে বেছে নেওয়া ঠিক নয়। স্বাদ বদলানোর জন্য কখনো-সখনো পান করা আর নিয়মিত পানীয় হিসেবে গ্রহণ করা এক বিষয় নয়।

এক ক্যান চেরি কোকে ৪২ গ্রাম চিনি থাকে

সত্যিই কি ৪৮ বছর জল পান করেননি ওয়ারেন বাফেট?

এই দাবির সূত্র পাওয়া যাচ্ছে ২০২৬ সালের অক্টোবরের শেষ দিকে প্রকাশিত একটি পডকাস্টে। ‘ইকিউটি ম্যাটস ইনভেস্টিং’ পডকাস্টে মার্কিন ধনকুবের ও বিনিয়োগকারী বিল অ্যাকম্যান ওয়ারেন বাফেটকে নিয়ে একটি অভিজ্ঞতার কথা জানান।

অ্যাকম্যানের কথায়, কয়েক বছর আগে একবার তিনি বাফেটকে নিজের বাড়িতে নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। অতিথির পছন্দের কথা জানতেন বলে আগে থেকেই চেরি কোকের ব্যবস্থা করেছিলেন। কিন্তু খাবার টেবিলে বসে তাকে সাধারণ কিংবা স্পার্কলিং ওয়াটার খাওয়ার প্রস্তাবও দেন। বাফেট সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে কোক পান করতে চান।

এরপর অ্যাকম্যান তাকে প্রশ্ন করেন, তিনি কি জল পান করেন না? উত্তরে বাফেট নাকি বলেছিলেন, গত ৪৮ বছর ধরে তিনি জল পান করেননি। অ্যাকম্যানের এই বক্তব্যই সম্প্রতি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে, ঘটনাটি অ্যাকম্যানের নিজের বর্ণনা। বাফেট নিজে সম্প্রতি এই দাবি নিশ্চিত করেননি। এমনকি ওই কথোপকথন ঠিক কবে হয়েছিল, তাও স্পষ্ট নয়।

পেপসি থেকে চেরি কোক, কীভাবে বদলাল পছন্দ?

কোকের প্রতি বাফেটের ভালোবাসা অবশ্য নতুন নয়। ছোটবেলায় তার পছন্দ ছিল পেপসি। একসময় তাকে ‘পেপসি ওয়ারেন’ বলেও ডাকা হতো। তবে ১৯৮৬ সালে তার পানীয়ের পছন্দে পরিবর্তন আসে। পরে চেরি কোক তার অন্যতম প্রিয় পানীয় হয়ে ওঠে।

একসময় তাকে ‘পেপসি ওয়ারেন’ বলেও ডাকা হতো

২০১৫ সালে ফরচুন ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাফেট জানিয়েছিলেন, তিনি প্রতিদিন অন্তত পাঁচটি ১২ আউন্সের কোক পান করেন। তার দৈনিক ২৭০০ ক্যালোরির প্রায় এক-চতুর্থাংশই আসত কোক থেকে বলে জানিয়েছিলেন তিনি। অফিসে সাধারণ কোক এবং বাড়িতে চেরি কোক পান করার কথাও জানিয়েছিলেন এই বিনিয়োগকারী।

তবে এত বছর ধরে তার এই অভ্যাস অপরিবর্তিত রয়েছে কি না, কিংবা বর্তমানে তিনি ঠিক কতটা চেরি কোক পান করেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য নেই। সব মিলিয়ে, ওয়ারেন বাফেটের চেরি কোক-প্রীতি নিঃসন্দেহে কৌতূহল জাগানোর মতো। তবে একজন ধনকুবেরের দীর্ঘদিনের অভ্যাস যে সবার জন্য স্বাস্থ্যকর হতে পারে, এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। বিশেষ করে চিনিযুক্ত কোমল পানীয়ের ক্ষেত্রে পরিমিতি মেনে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।

সাকসেস স্টোরি বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর