ঢাকা, ২১ জুলাই মঙ্গলবার, ২০২৬ || ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
good-food
৪৫

অনিয়মিত পিরিয়ডের কারণ মানসিক চাপ? জেনে নিন বিশেষজ্ঞের মতামত

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৯:২৪ ২০ জুলাই ২০২৬  

নারীদের সুস্থতার অন্যতম চাবিকাঠি হলো নিয়মিত ঋতুচক্র। কিন্তু আজকের ব্যস্ত জীবনযাত্রায় অনিয়মিত পিরিয়ড বা পিরিয়ডের সময় উলটপালট হয়ে যাওয়া একটি অত্যন্ত সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, এর নেপথ্যে একটি বড় কারণ হলো মানসিক ও শারীরিক চাপ।

আমাদের শরীরের হরমোন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কেন্দ্রে রয়েছে মস্তিষ্কের ‘হাইপোথ্যালামাস’ নামক একটি অংশ। এটি ক্ষুধা, ঘুম, আবেগ নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি শরীরের হরমোন নিঃসরণ প্রক্রিয়াকেও চালনা করে। হাইপোথ্যালামাস থেকে সঙ্কেত পেয়ে পিটুইটারি গ্রন্থি সক্রিয় হয়, যা পরবর্তীতে ওভারি বা ডিম্বাশয়কে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোন তৈরির নির্দেশ দেয়। এই পুরো চক্রটি ঠিকঠাক চললেই পিরিয়ড নিয়মিত হয়।

মানসিক চাপ কী ভাবে এই চক্রের ক্ষতি করে?

যখন কোনও নারী দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত মানসিক বা আবেগজনিত চাপের মধ্য দিয়ে যান, তখন তাঁর শরীরে কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিন-এর মতো স্ট্রেস হরমোন নিঃসরণ বেড়ে যায়। এই হরমোনগুলো হাইপোথ্যালামাসের স্বাভাবিক কাজে ব্যাঘাত ঘটায়। ফলে পিটুইটারি গ্রন্থি ও ডিম্বাশয়ে সঠিক সময়ে হরমোনের সঙ্কেত পৌঁছায় না। এর সরাসরি প্রভাবে ওভিউলেশন বা ডিম্বস্ফোটন প্রক্রিয়া পিছিয়ে যায় কিংবা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। যার ফলে পিরিয়ড হতে দেরি হয় বা অনিয়মিত হয়ে পড়ে।

মানসিক বনাম শারীরিক চাপ

চিকিৎসকদের মতে, চাপের তো নানা প্রকার রয়েছে। তার উপর ভিত্তি করে পিরিয়ড শুরু, শেষের তারিখ কিংবা ঋতুচক্রের সময়কাল বদলে যেতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদী মানসিক চাপ

অতিরিক্ত কাজের চাপ, পরীক্ষার ভীতি, কেরিয়ারের চিন্তা, সম্পর্কের টানাপোড়েন বা প্রিয়জনের বিয়োগজনিত শোকের কারণে সাধারণত পিরিয়ড পিছিয়ে যায়।

তীব্র শারীরিক চাপ

হঠাৎ কোনও বড় অসুস্থতা, অস্ত্রোপচার, অতিরিক্ত ব্যায়াম, হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া বা অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রমের ফলে অনেক সময় নির্দিষ্ট সময়ের আগেই পিরিয়ড শুরু হয়ে যেতে পারে।

সাধারণত জীবনের এই কঠিন বা চাপযুক্ত সময়টি কেটে গেলে এবং হরমোনের ভারসাম্য ফিরে এলে পিরিয়ডের সাইকেল আবার নিজে থেকেই স্বাভাবিক হয়ে যায়।

এক নজরে 

# মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস অংশটি নারীদের শরীরের হরমোন ও ঋতুচক্র নিয়ন্ত্রণ করে।

# মানসিক চাপের কারণে নির্গত কর্টিসল এবং অ্যাড্রেনালিন হরমোন এই হাইপোথ্যালামাসের কাজে বাধা দেয়।

# দীর্ঘমেয়াদী মানসিক চাপ পিরিয়ড পিছিয়ে দেয় এবং অতিরিক্ত শারীরিক চাপ পিরিয়ড এগিয়ে আনতে পারে।

# সাধারণত মানসিক চাপ কমে গেলে পিরিয়ড আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।

কী জানবেন?

নিয়ন্ত্রক

মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস ও এইচপিও অ্যাক্সিস নারীদের ঋতুচক্র নিয়ন্ত্রণ করে।

স্ট্রেসের প্রভাব

মানসিক চাপ কর্টিসল হরমোন বাড়িয়ে ডিম্বস্ফোটন বা ওভিউলেশন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে।

পার্থক্য

মানসিক চাপ পিরিয়ড দেরিতে করায়, আর অতিরিক্ত শারীরিক ধকল পিরিয়ড এগিয়ে আনতে পারে।

সতর্কতা

টানা ২-৩ মাস পিরিয়ড অনিয়মিত থাকলে বা অতিরিক্ত রক্তপাত ও ব্যথা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

মানসিক চাপ কি সত্যিই পিরিয়ডের সময় পরিবর্তন করে?

হ্যাঁ, অতিরিক্ত মানসিক চাপ শরীরে কর্টিসলের মতো স্ট্রেস হরমোন বাড়িয়ে দেয়। এটি মস্তিষ্কের হরমোন নিয়ন্ত্রণকারী অংশ ‘হাইপোথ্যালামাস’-এর কাজে বাধা দেয়, যার ফলে ওভিউলেশন বা ডিম্বস্ফোটন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং পিরিয়ড অনিয়মিত বা দেরিতে হতে পারে।

শারীরিক চাপ ও মানসিক চাপের প্রভাবে পিরিয়ডে কী ভিন্নতা দেখা যায়? দীর্ঘদিনের মানসিক বা আবেগজনিত চাপের কারণে সাধারণত পিরিয়ড স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে পিছিয়ে যায়। অন্যদিকে, হঠাৎ কোনো গুরুতর অসুস্থতা, ক্রাশ ডায়েটের কারণে দ্রুত ওজন হ্রাস বা অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রমের মতো শারীরিক চাপের কারণে পিরিয়ড সময়ের আগেই চলে আসতে পারে।

ভ্রমণের কারণে কি পিরিয়ড মিস হতে পারে?

হ্যাঁ, পরীক্ষার অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, কেরিয়ারের চাপ, পারিবারিক সমস্যা বা দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তি শরীরের হরমোনের ভারসাম্য সাময়িকভাবে বিগড়ে দিতে পারে, যা পিরিয়ড দেরিতে হওয়া বা মিস হওয়ার অন্যতম কারণ।

কখন ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত?

যদি মানসিক চাপ কমে যাওয়ার পরও টানা দুই থেকে তিন মাস পিরিয়ড অনিয়মিত থাকে, কিংবা পিরিয়ডের সময় তীব্র পেটে ব্যথা এবং অতিরিক্ত রক্তপাত (Excessive Bleeding) হয়, তবে অবহেলা না করে দ্রুত একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ বা গাইনোকোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

লাইফস্টাইল বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর