ঢাকা, ১১ জুন বৃহস্পতিবার, ২০২৬ || ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
good-food
৪৬

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইতিহাস গড়ে সিরিজ জয় বাংলাদেশের

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২০:৪২ ১১ জুন ২০২৬  

জাদুকরি বোলিংয়ে ইতিহাস গড়ার প্রথম কাজটা করে দিয়েছিলেন তাসকিন-মোস্তাফিজরা। বেরসিক বৃষ্টি এসে সেই সমীকরণ করে দিল আরও সহজ। এমন দিনে সুযোগ হাত ছাড়া করেনি বাংলাদেশ। ওয়ানডের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নকে হারিয়ে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের কীর্তি গড়ল স্বাগতিক বাংলাদেশ।

তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বৃষ্টি আইনে অস্ট্রেলিয়াকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এক ম্যাচ হাতে রেখে নিশ্চিত করেছে সিরিজ। সেই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমবার সিরিজ জয়ের ইতিহাস গড়েছে লাল-সবুজের দল। 

আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে কেবল অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জয় অধরা ছিল বাংলাদেশের। এবার সেই খরা কাটল। অসিদের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের সাফল্য এলো। বাকি রইল ইংল্যান্ড। তাছাড়া এই নিয়ে দেশের মাটিতে টানা পাঁচ সিরিজে জয় পেল বাংলাদেশ।  

আজ বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের শুরুটা হয়েছিল চরম হতাশায়। সেই হতাশার মেঘ এড়িয়ে জুটি বাধেন মার্নাস লাবুশেন ও বার্টলেট। দুজন মিলে যখন অস্ট্রেলিয়াকে বড় পুঁজির আশা দেখাচ্ছিল ঠিক তখনই ঝুম বৃষ্টিতে ভেস্তে গেল অস্ট্রেলিয়ার পরিকল্পনা।

বৃষ্টির কারণে দুই ঘন্টা ৩৫ মিনিট খেলাই হয়নি। লম্বা সময় অপেক্ষার পর আর মাঠে নামা হয়নি অস্ট্রেলিয়ার। ফলে বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য পড়ে ১৯২ রানের। 

বাংলাদেশকে এই রান করতে বেধে দেওয়া হয় ৪১ ওভারে। জবাব দিতে নেমে অসিদের মতো বাংলাদেশও ধাক্কা খায়। রানের খাতা খোলার আগেই বাংলাদেশ হারায় তানজিদ তামিমকে। বার্টলেটের বলে কট এন্ড বোল্ড হয়ে বিদায় নেন তানজিদ।

এরপর অবশ্য জুটি গড়ে বাংলাদেশের ভিত গড়েন শান্ত ও সৌম্য। দুজনের জমে ওঠা ৮৬ রানের এই জুটি ভেঙে বাংলাদেশকে অস্বস্তিতে ফেলেন রেনশ। ১৬তম ওভারে সৌম্যকে ৪২ রানে থামান রেনশ। ঠিক ৪২ রানে যাত্রা থামে শান্ত’র। তবে শান্ত’র উইকেট যায় রাইলি মেরিডিথের বলে।

জোড়া ধাক্কা খাওয়ার পর চাপে পড়ে বাংলাদেশ। তার মাঝে উইকেটে থিতু হতে পারেননি লিটন দাস, মোসাদ্দেকরা। তবে তাতে বিপদ হয়নি। উইকেট হারালেও ছোট লক্ষ্য তাড়ায় শেষ দিকে হৃদয় ও মিরাজের দৃঢ়তায় সহজ জয় পায় বাংলাদেশ। দুজনেই অপরাজিত থেকে বাংলাদেশকে জয়ের দুয়ারে পৌঁছে দেন। ব্যাট হাতে হৃদয় করেন ৪০ রান। আর মিরাজের ব্যাট থেকে ২২ রান। 

তার আগে ম্যাচটিতে আগে ব্যাট করতে নেমে ৪২ ওভারে ৮ উইকেটে স্কোরবোর্ডে ১৮৭ রান তোলে অস্ট্রেলিয়া। দলের বিপর্যয়ে ব্যাট হাতে সর্বোচ্চ ৫৫ রান তুলেছেন মার্নাস লাবুসানে। 

সিরিজ বাঁচানোর লড়াইয়ে নামা অস্ট্রেলিয়া এদিনও টসে জিতে। টস ভাগ্যে জিতে বেছে নেয় ব্যাটিং। কিন্তু ব্যাটিংয়ের শুরুটা ভালো হয়নি। ইনিংসের শুরুতেই রানের খাতা খোলার আগে তারা হারিয়ে ফেলে তিন উইকেট। 

অস্ট্রেলিয়া শিবিরে প্রথম আঘাত হানেন তাসকিন আহমেদ। বাংলাদেশি পেসারের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন ম্যাথু শর্ট। 
পরের ওভারে অস্ট্রেলিয়া শিবিরে জোড়া ধাক্কা দেন মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি তুলে নেন কুপার কনলি ও ম্যাট রেনশ। প্রথমে মোস্তাফিজের বলে খোঁচা মেরে উইকেটকিপারের হাতে ধরা পড়েন কনলি। ওভারের শেষ বলে একইভাবে লিটনের হাতে ক্যাচ দেন রেনশ। 
রানের খাতা খোলার আগে তিন উইকেট হারিয়ে রীতিমতো লজ্জায় পড়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। তারা নিজেদের ওয়ানডে ক্রিকেটের সুদীর্ঘ ইতিহাসে এই প্রথম শূন‍্য রানে প্রথম ৩ উইকেট হারায়।

সবচেয়ে কম রানে তিন উইকেট তারা হারিয়েছিল ২০০৬ সালে। সেটাও ছিল ৫ রানে তিন উইকেট। তবে আজ মোস্তাফিজ-তাসকিনের দিনে প্রথমবার রানের খাতা খোলার আগেই খোয়াল তিন উইকেট।  
এরপর একে একে বিদায় নেন অ্যালেক্স ক্যারি ও জশ ইংলিস। এর মাঝে ক্যারিকে নিজের তৃতীয় শিকার বানান মোস্তাফিজ। আর তানভির তুলে নেন ইংলিসের উইকেট।

৬৮ রানে পাঁচ উইকেট হারানোর পর অস্ট্রেলিয়ার পথ খুঁজে পায় লাবুসান ও ব্রেটলেটের ব্যাটে। দুজনে মিলে ইনিংস মেরামত করেন। এই জুটি যখন বাংলাদেশের মাথাব্যথার কারণ হয়ে ওঠে তখন ব্রেটলেটকে আউট করেন তাসকিন। একই ওভারে নতুন ব্যাটার অ্যাডাম জাম্পাকেও মাঠছাড়া করেন ডানহাতি পেসার।

১৮৪ রানে ৮ উইকেট হারানোর পর অস্ট্রেলিয়া যখন লাবুসানের দিকে তাকিয়ে। তখনই বৃষ্টি নামে শেরেবাংলায়। যার ফলে আর প্রথম ইনিংসে আর বলই মাঠে গড়ায়নি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর কার্টেল ওভারেও লক্ষ্য নির্ধারণ হয় বাংলাদেশের। 
বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে সর্বোচ্চ তিন উইকেট করে নেন মোস্তাফিজ ও তাসকিন আহমেদ। দুই উইকেট নেন তানভির ইসলাম।  

খেলাধুলা বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর