ঢাকা, ২২ মে বুধবার, ২০২৪ || ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
good-food
২৯০

কে সুখী? ক্ষণিকের বিচ্ছিন্ন চিন্তা

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২০:৩৩ ২৮ মার্চ ২০২৩  

ওই যে দেখছেন, আমার বারান্দার গ্রিলে বসা কাকটি, ওকে আমার চরম সুখী মনে হয়। প্রতিদিন কোনো না কোনো সময় কিছুক্ষণের জন্য হলেও কাকটি আমার বাসার বারান্দায় আনাগোনা করে, নাচানাচি করে, ডাকাডাকি করে এবং পরে কোনো এক সময় কোথাও উড়ে চলে যায়। ও স্বাধীন। যখন যেখানে ইচ্ছা মনের আনন্দে উড়ে চলে যেতে পারে। আমি যদি তার মতো উড়তে পারতাম!

 

কাকটির বাড়ি-গাড়ি নেই, ব্যাংক ব্যালেন্স নেই, চাকরিবাকরি নেই, আয়-উপার্জন নেই। তারপরও সে বেঁচে আছে। খায় দায় ঘুরে বেড়ায়, রিজিকের অভাব হয় না। কাকটি রাজনৈতিক দলের সদস্য নয়, সে মিটিং মিছিল করে নিরপেক্ষ ভোটের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ে প্রাণ দেয়ার তাগিদ অনুভব করে না।

 

রাস্তায় চলতে গিয়ে তাকে মারামারি করতে হয় না, পুলিশের পিটুনি খেতে হয় না, জেলে যেতে হয় না, বিচারের সম্মুক্ষীণ হতে হয় না। কাকটি ব্যাংক লুট করে না, বেগম পাড়ায় তার বাড়ি নেই।  কাকটি ফেসবুক করে না, ইউটিউব করে না, ইন্টারনেটের কারণে তার অফিস-আদালত, 

 

ব্যবসা- বাণিজ্য  বন্ধ হয় না, তাকে ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল নিয়ে ভাবতে হয় না। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি নিয়ে হা-হুতাশ করতে হয় না। তারও হয়তো অসুখ বিসুখ হয়, কিন্তু তাকে চড়া দামে ওষুধ কিনতে হয় না, ডাক্তারের কাছে সিরিয়াল নিয়ে একমাস বসে থাকতে হয় না। 

 

হাসপাতালে যেতে হয় না, চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে মরে যাওয়ার ভয় থাকে না। সব চেয়ে বড় কথা, আমাদের দেশের মিটিং মিছিল ও সুশীল সমাজের টক শোতে গিয়ে তাকে ফালতু বিষয় নিয়ে দিন-রাত গলাবাজি, গালিগালাজ ও মারামারি করতে হয় না। 

 

আমরা এত অসুখী কেন? গাড়ি-বাড়ি, টাকাকড়ি, ধনদৌলত, অপরিসীম ক্ষমতা, অকল্পনীয় বুদ্ধিমত্ত্বা থাকা সত্বেও আমরা পাগলের মতো দিগবিদিক ছোটাছুটি করছি কেন? হানাহানি, মারামারি, কাটাকাটি করছি কেন? নিশ্চয়ই একটু শান্তি, সুখের জন্য। কিন্তু পাচ্ছি কী? না পেলে কেন পাচ্ছি না? ভেবে দেখেছেন কী?

 

লেখক: অধ্যাপক ড. মুনিরুদ্দিন আহমেদ
সাবেক ডিন, ফার্মেসি অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।