ঢাকা, ১৩ জানুয়ারি মঙ্গলবার, ২০২৬ || ৩০ পৌষ ১৪৩২
good-food

গুগলে যা সার্চ করলেই জেল হবে আপনার!

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৬:৪০ ১৩ জানুয়ারি ২০২৬  

ইন্টারনেট এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আলপিন থেকে শুরু করে এলিফ্যান্ট-যে কোনও তথ্য খুঁজতে হলে সবার মুখে একটাই কথা, ‘গুগল করে নাও’। দিন যত যাচ্ছে, এই নির্ভরতা ততই বাড়ছে। তবে এমন কিছু বিষয় ও কিওয়ার্ড রয়েছে, যেগুলো ইন্টারনেটে সার্চ করলেই জেল কিংবা জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে।

কোন কোন সার্চ পুরোপুরি নিষিদ্ধ?

ইন্টারনেটে সবচেয়ে সংবেদনশীল সার্চগুলোর একটি হল- ‘How to make a bomb?’ ভুল করেও এই ধরনের বাক্য সার্চ ইঞ্জিনে ব্যবহার করবেন না। কারণ, বিশ্বের প্রায় সব দেশেই বোমা বা বিস্ফোরক তৈরি বেআইনি। ফলে এ ধরনের কোনও প্রশ্ন বা তথ্য সার্চ করা হলেই সংশ্লিষ্ট সংস্থার নজরদারি শুরু হয়। অনেক ক্ষেত্রেই ধরে নেওয়া হয়, নাশকতার উদ্দেশ্যেই এই অনুসন্ধান করা হয়েছে। কোথা থেকে এই সার্চ করা হচ্ছে, তা চিহ্নিত করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য কঠিন নয়। তাই কৌতূহল থাকলেও বোমা, বন্দুক বা বিস্ফোরক সংক্রান্ত কোনও কিছু সার্চ করা থেকে দূরে থাকাই নিরাপদ।

এর পরের অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় হল চাইল্ড পর্নোগ্রাফি। এই বিষয়ে সারা বিশ্বই অত্যন্ত কঠোর। ভারতে শিশু নির্যাতন ও চাইল্ড পর্নোগ্রাফি রুখতে রয়েছে পকসো আইন, যা অত্যন্ত কড়া। এই আইনে জেল ও জরিমানা- দুটোরই বিধান রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও পকসোর মতো কঠোর আইন কার্যকর আছে। যে সব ওয়েবসাইট গোপনে এই ধরনের অবৈধ কনটেন্ট ছড়ায়, সেগুলো নিয়মিতভাবে ব্যান করা হয়। পাশাপাশি চাইল্ড পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত যে কোনও সার্চও কঠোর নজরদারির আওতায় থাকে। এই ধরনের সার্চে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠিন আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

এর পরেই আসে হ্যাকিং সংক্রান্ত টিউটোরিয়াল বা সফটওয়্যার অনুসন্ধান। হ্যাকিং একটি গুরুতর অপরাধ। ভারতে তথ্যপ্রযুক্তি আইন এবং কম্পিউটার ফ্রড ও অ্যাবিউজ অ্যাক্ট অনুযায়ী এটি শাস্তিযোগ্য। তাই হ্যাকিং সংক্রান্ত কোনও তথ্য সার্চ করাও বিপজ্জনক হতে পারে। এমন সার্চ করা মানেই ধরে নেওয়া হয়, ব্যবহারকারী কোনও বেআইনি কাজে যুক্ত হতে চলেছেন। এর ফলেও জেল ও জরিমানার ঝুঁকি থাকে।

সবশেষে আসে একটি খুব সাধারণ কিন্তু মারাত্মক ভুল- পাইরেটেড সিনেমা সার্চ করা। সমীক্ষা বলছে, বহু ইন্টারনেট ব্যবহারকারীই নিয়মিতভাবে পাইরেটেড মুভি খোঁজেন। নতুন কোনও সিনেমা মুক্তি পেলেই অনেকে হলে যাওয়ার সময় না পেয়ে অনলাইনে সেটি পাওয়া যায় কি না, তা সার্চ করেন। কেউ কেউ আবার ডাউনলোডও করে ফেলেন। অথচ এটি একটি গুরুতর অপরাধ।

পাইরেটেড সিনেমা ডাউনলোড করলে কপিরাইট ও ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইটস লঙ্ঘিত হয়, যা সরাসরি চলচ্চিত্র শিল্পের বড় ক্ষতি করে। এই কারণে পাইরেটেড কনটেন্ট সরবরাহকারী ওয়েবসাইট নিয়মিতভাবে ব্লক করা হয়। একই সঙ্গে যারা নিয়মিত এ ধরনের সিনেমা ডাউনলোড করেন, তাদের ওপরও নজরদারি চলে। এই অপরাধে বড় অঙ্কের জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে।