ঢাকা, ১২ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার, ২০১৯ || ২৮ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬
LifeTv24 :: লাইফ টিভি 24
৭৩

চীনে সড়ক দুর্ঘটনার শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের উদাহরণ টানলেন কাঞ্চন

প্রকাশিত: ২০:০৮ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯  


গত বছর স্কুল শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে সড়ক পরিবহন আইন করার উদ্যোগ নেয়া হয়। কিছু সময় নিয়ে সেই আইন সংসদে পাসও হয়। এখন পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের চাপে তা প্রয়োগ করার আগেই সংশোধনের কথা ভাবছে সরকার। 
নিরাপদ সড়কের দাবিতে অনেক বছর ধরে আন্দোলন করছেন অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন। এরকম একটি আইন তাদের বহু দিনের চাওয়া। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলেছেন তিনি।
‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের প্রধান বলেন, আমিও সংবাদটি শুনলাম। শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে সড়ক পরিবহন আইন করা হয়েছে। এখন পরিবহন সেক্টরের চাপের মুখে সেটি দুর্বল করা হলে আমি তা বিবেচনার চন্য দেশবাসীর কাছে ছেড়ে দেব। জনগণ, ছাত্ররা আবার প্রতিবাদ কিংবা চাপ প্রয়োগ করলে কাজ হবে।
আপনার সংগঠনের পক্ষ থেকে আন্দোলনে যাওয়ার বিষয়ে কোনো কিছু ভাবছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অবশ্যই, আন্দোলনে যাব। গতকাল সংবাদপত্রে এ সংবাদ দেখার পর থেকে খুব দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে আছি। নিরাপদ সড়কের দাবিতে আমি গত ২৬ বছর ধরে আন্দোলন করে যাচ্ছি।
দেশবরেণ্য অভিনেতা যোগ করেন, এ আইনটি ২০১২ সাল থেকে হবে হবে করেও হচ্ছে না। ছাত্রদের চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত সেটি পাস হলো। এখন তারা (সরকার/পরিবহন মালিক-শ্রমিক) যুক্তি দেখায়- পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে এক ধরনের আইন রয়েছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে আমি বলব- চীনও তো আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ। দেশটিতে সড়ক দুর্ঘটনার শাস্তি সরাসরি মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।
ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, অধিকন্তু, ভারতে অনেক ধরনের আইন রয়েছে। সেসব আইন কি আমাদের দেশে প্রযোজ্য? একেকটা অঞ্চলের মানুষের মানসিকতা একেক রকম। আমাদের দেশের মানুষের আইন মানার প্রবণতা নেই বললেই চলে। ভারতে কিন্তু সেটা রয়েছে। অথচ, প্রতিবেশি দেশটির কথা বলে আমাদের আইন সংশোধনের কথা বলা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমার দাবি ছিল, (দুর্ঘটনার জন্যে দায়ী ব্যক্তির) ১০ বছরের শাস্তি। সেখানে তা কমিয়ে পাঁচ বছর করা হয়েছে। সেই পাঁচ বছরও পরিবর্তন করলে তো প্রতিবাদ করবই।
বলা হচ্ছে, পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের স্বার্থও দেখা উচিত। তাদের কারণে এতে সংশোধন আনা দরকার। এ প্রসঙ্গে চিত্রনায়ক বলেন, এত বছর মালিক-শ্রমিকের স্বার্থই দেখা হয়েছে। তাদের স্বার্থ দেখে দেশের অগণিত মানুষকে সড়কে পিষ্ট করা হয়েছে। সরকার আর কত মালিক-শ্রমিকদের স্বার্থ দেখবে? এখন জনগণের স্বার্থ দেখা উচিত।
পরিশেষে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, এটি জনগণের স্বার্থের বিষয়। প্রতিটি নাগরিকের সঠিক আইন-বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। জনগণ যাতে বিচার পায়, সরকারকে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। কিছু মানুষের পক্ষ নিয়ে সারাদেশের মানুষকে বিপদে ফেলা যায় না।


এই বিভাগের আরো খবর