ঢাকা, ১৬ জানুয়ারি শুক্রবার, ২০২৬ || ২ মাঘ ১৪৩২
good-food
১০

টানা ১৪ দিন চিনি না খেলে কী হয়?

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৫:৫৮ ১৫ জানুয়ারি ২০২৬  

চিনি আমাদের দৈনন্দিন খাবারের অবিচ্ছেদ্য অংশ। মিষ্টিজাত খাবার ছাড়াও নানা প্রক্রিয়াজাত ও তথাকথিত স্বাস্থ্যকর খাবারেও লুকিয়ে থাকে অতিরিক্ত চিনি। নিয়মিত বেশি চিনি খেলে স্থূলতা, ডায়াবেটিস, ফ্যাটি লিভার ও দাঁতের সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে। তবে অল্প সময়ের জন্য চিনি কমালেই শরীরে শুরু হয় চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন।

চিনি শুধু ক্যালোরি নয়, নিয়ন্ত্রণ করে ক্ষুধাও

গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডা. সৌরভ শেঠির মতে, চিনি কেবল অতিরিক্ত ক্যালোরির উৎস নয়। এটি নিঃশব্দে ক্ষুধা, খাবারের প্রতি আকর্ষণ, ইনসুলিনের কার্যকারিতা এবং লিভারে জমে থাকা চর্বিকে প্রভাবিত করে। তাই তিনি তার রোগীদের অন্তত ১৪ দিন অতিরিক্ত চিনি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন।

শুরুতে যে-সব অস্বস্তি হতে পারে

চিনি কমানোর প্রথম কয়েক দিন শরীর কিছুটা অস্বস্তিতে পড়তে পারে। মাথাব্যথা, ক্লান্তি, খিটখিটে মেজাজ, মনোযোগে সমস্যা বা ‘ব্রেন ফগ’ দেখা দিতে পারে।

ডা. শেঠির ভাষায়, এটি আসলে কোনো ‘উইথড্রয়াল’ নয়, বরং চিনি ছাড়া নতুন অবস্থার সঙ্গে মস্তিষ্কের মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া।

চিনি কেবল অতিরিক্ত ক্যালোরির উৎস নয়, এটি লিভারে জমে থাকা চর্বিকেও প্রভাবিত করে।

ধীরে ধীরে শরীরের ভারসাম্য ফিরে আসে

কয়েক দিন পর চিনি খাওয়ার তীব্র ইচ্ছা কমে যায়। সারাদিনে শক্তির ওঠানামা কম হয়, বিকেলের দিকে হঠাৎ ক্লান্তি আসে না। পেট ফাঁপা ভাব কমে এবং ইনসুলিনের প্রতিক্রিয়া উন্নত হয়, ফলে শরীর শর্করা আরও ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারে।

দুই সপ্তাহ পর যে পরিবর্তনগুলো চোখে পড়ে

১৪ দিন পার হলে অনেকেরই পেট কিছুটা চ্যাপটা লাগে, ঘুমের মান ভালো হয় এবং প্রকৃত ক্ষুধা বোঝা সহজ হয়। রক্তে শর্করার মাত্রাও উন্নতির দিকে যায়। ওজন খুব বেশি না কমলেও বিপাকক্রিয়া বা মেটাবলিজম যে সক্রিয় হচ্ছে, তা স্পষ্ট হয়।

১৪ দিন পার হলে অনেকেরই পেট কিছুটা চ্যাপটা লাগে। 

কেন এই ‘চিনি-বিরতি’ গুরুত্বপূর্ণ

ডা. শেঠির মতে, ১৪ দিনের জন্য অতিরিক্ত চিনি বাদ দিলে ইনসুলিন স্পাইক কমে, লিভারের ওপর শর্করার চাপ হ্রাস পায়, শরীরে জমে থাকা অতিরিক্ত পানি কমে এবং স্বাদের অনুভূতি নতুন করে রিসেট হয়। যারা নিয়মিত চিনি খাওয়ার তীব্র লোভ, ফ্যাটি লিভার, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, কম শক্তি বা ঘুমের সমস্যায় ভুগছেন—তাদের জন্য এই অভ্যাস হতে পারে সুস্থ জীবনের কার্যকর শুরু। 

লাইফ কিচেন বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর