ঢাকা, ১৪ মার্চ শনিবার, ২০২৬ || ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২
good-food
৪০

দুর্নীতি করব না, কাউকে করতেও দেব না: শিক্ষামন্ত্রী

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৭:৫২ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, শিক্ষা খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর।

রবিবার দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। 

সভায় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে এহছানুল হক মিলন বলেন, “আমরা দুর্নীতি করি না, করব না এবং কাউকে করতেও দেব না। শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত রাখা আমাদের অঙ্গীকার।”

শিক্ষকদের মর্যাদা ও ন্যায্য দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, “শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি আদায়ে আর রাজপথে নামার প্রয়োজন হবে না।”

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “সরকার শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। শিক্ষক-কর্মচারীদের যৌক্তিক দাবিগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

এহছানুল হক মিলন বলেন, “বাজেট সংক্রান্ত কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও শিক্ষকদের অমীমাংসিত বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে।”

সভায় এনটিআরসিএ (বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “নিয়োগ ব্যবস্থায় আসা পরিবর্তনগুলো পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি যেখানে সংশোধন প্রয়োজন সেখানে রিভিউ করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “শিক্ষকদের অবসর ভাতা ও কল্যাণ ট্রাস্টের বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। যদিও বাজেটের কিছু সীমাবদ্ধতা আছে, তবুও শিক্ষকদের মানোন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে।”

বর্তমান সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে শিক্ষা খাতকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যা সাম্প্রতিক মন্ত্রিসভা বৈঠকেও প্রতিফলিত হয়েছে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।

মতবিনিময় সভায় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, “শিক্ষকদের উত্থাপিত দাবিগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেওয়া হয়েছে।”

তিনি বলেন, “আমরা হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাই না। শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি দীর্ঘমেয়াদী সমাধান নিশ্চিত করতে চাই, যাতে করে কয়েক বছর পরপর একই দাবিতে শিক্ষকদের আন্দোলনে নামতে না হয়।”

শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকদের যথাযথ মর্যাদা ও মূল্যায়ন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করেন ববি হাজ্জাজ।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “সরকার দেশের সব ধারার শিক্ষাব্যবস্থাকে (সাধারণ, মাদ্রাসা ও ইংরেজি মাধ্যম) একটি ‘জেনারেল আমব্রেলা’ বা অভিন্ন কাঠামোর অধীনে আনার পরিকল্পনা করছে।”

তিনি বলেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বা দলীয়করণ বরদাস্ত করা হবে না।” 

ববি হাজ্জাজ বলেন, “শিক্ষা সেক্টরকে পলিটিক্স ও করাপশন— এই দুটি অভিশাপ থেকে মুক্ত রাখাই মন্ত্রণালয়ের প্রধান লক্ষ্য।”

সভায় শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান ও কুমিল্লা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ভূঁইয়াসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতাকর্মী এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষা বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর