ঢাকা, ২১ নভেম্বর বৃহস্পতিবার, ২০১৯ || ৬ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬
LifeTv24 :: লাইফ টিভি 24
৩২৪

ধানের শীষ মার্কা ২৯৮ আসনে, বিএনপির প্রার্থী ২৪২

প্রকাশিত: ১৫:৩২ ১০ ডিসেম্বর ২০১৮  


বিএনপি জোটের সব মিলিয়ে সব দল ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করলেও শুধুমাত্র  দুটি আসনে নির্বাচন করবে ভিন্ন প্রতিকে। জানা গেছে ৩০০ আসনের ২৯৮ টিতেই ধানের শীষ প্রতিক থাকবে

 এলডিপির অলি আহমদ নিজ দলের প্রতীক ‘ছাতা’ নিয়ে ভোটের লড়াইয়ে নামবেন। এছাড়া কক্সবাজারে স্বতন্ত্র প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর নেতা হামিদুর রহমান আযাদ বিএনপির সমর্থন পাচ্ছেন।

৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় একাদশ সংসদ নির্বাচনে রোববার ছিল মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। এর মধ্যেই দলগুলো থেকে ৩০০ আসনে চূড়ান্তভাবে মনোনীত প্রার্থী তালিকা দুই প্রধান দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়েছে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ইসিকে জানানো হয়েছে, ২৭২ জন নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবেন, এর মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আছেন  ২৫৮ জন। বাকি ২৮ প্রতিকের মধ্যে জাতীয় পার্টি-জেপির দুজন বাদে বাকি আসনগুলো জাতীয় পার্টির জন্য, তা স্পষ্ট। 

দশম সংসদ নির্বাচন বর্জনকারী বিএনপি এবার ২০ দলীয় জোটের বাইরে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গড়ে নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছে।৩০০ আসনের মধ্যে ২৪২টিতে বিএনপি নিজ দলের প্রার্থীদের মনোনয়ন দিয়েছে। এর বাইরে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক গণফোরামকে সাতটি, জেএসডিকে চারটি, নাগরিক ঐক্যকে চারটি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগকে চারটি আসন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বিএনপির জাতীয় ঐক্যফ্রন্টভুক্ত শরিক দলগুলো ১৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। তাদের সবার প্রতীক হবে ধানের শীষ।

২০ দলীয় জোট শরিকদের মধ্যে এলডিপিকে পাঁচটি, খেলাফত মজলিশকে দুটি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে তিনটি, জাতীয় পার্টিকে (কাজী জাফর) দুটি, বিজেপিকে একটি, কল্যাণ পার্টিকে একটি, এনপিপিকে একটি, লেবার পার্টিকে একটি, পিপিবিকে একটি করে আসন ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি।

২০ দলীয় জোটের শরিকদের মধ্যে নিবন্ধনহীন জামায়াতে ইসলামীকে ২২টি আসন ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি বলে জানা গেছে। ইসিতে দেওয়া তালিকায় তাদের দলের নাম বিএনপি দেওয়া হয়েছে।

এসব আসনের প্রায় সব কটিতে জামায়াতের প্রার্থীরা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়লেও  শুধুমাত্র কক্সবাজার-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আযাদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আলাদা প্রতীকে ভোট করবেন।

 

দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে এই প্রথম সংসদ নির্বাচন করতে যাচ্ছে বিএনপি। তার জন্য তিনটি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হলেও কারাদণ্ডের কারণে সেগুলো বৈধতা পায়নি।

২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম সংসদ নির্বাচনে ২৫৯টি আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিল। ওই নির্বাচনেজোট শরিকদের ৪১টি আসন ছেড়ে দিয়েছিল বিএনপি।

২০ দলীয় জোট থেকে প্রার্থী যারা

এলডিপি: চট্টগ্রাম-১৪  আসনে অলি আহমেদ, চট্টগ্রাম-৭ আসনে মো. নুরুল আলম, কুমিল্লা-৭  আসনে রেদোয়ান আহমেদ, লক্ষ্মীপুর-১ আসনে শাহাদাত হোসেন সেলিম, ময়মনসিংহ-১০ আসনে সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ।

বিজেপি: ঢাকা-১৭ আসনে বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ।

কল্যাণ পার্টি: চট্টগ্রাম-৫ আসনে কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম।

খেলাফত মজলিশ: হবিগঞ্জ-৪ আসনে আহমেদ আবদুল কাদের ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে মনির হোসেন।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম: সুনামগঞ্জ-৩ আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের শাহিনুর পাশা, হবিগঞ্জ-২ আসনে আবদুল বাসিদ আজাদ, যশোর-৫ আসনে মুফতি মোহাম্মদ ওয়াক্কাস।

জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর): গাইবান্ধা-৩ আসনে টিআই ফজলে রাব্বী, কুষ্টিয়া-২ আসনে আহসান হাবিব লিংকন।

এনপিপি: নড়াইল-২ আসনে ফরিদুজ্জামান ফরহাদ।

পিপিবি: রংপুর-৩ আসনে রিটা রহমান।

লেবার পার্টি: পিরোজপুর-২ আসনে মোস্তাফিজুর রহমান ইরান।

 

ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের তালিকা

গণফোরাম: সুব্রত চৌধুরী (ঢাকা-৬), মোস্তফা মহসিন মন্টু (ঢাকা-৭),  এএইচএম খালেকুজ্জামান (ময়মনসিংহ-৮), রেজা কিবরিয়া (হবিগঞ্জ-১), অধ্যাপক আবু সাঈয়িদ (পাবনা-১), আমসাআ আমিন (কুড়িগ্রাম-২), সুলতান মো. মনুসর আহমেদ (মৌলভীবাজার-২)।

জেএসডি: আ স ম আবদুর রব (লক্ষ্মীপুর-৪), আবদুল মালেক রতন (কুমিল্লা-৪), শহিদউদ্দিন মাহমুদ স্বপন (ঢাকা-১৮), সাইফুল ইসলাম (কিশোরগঞ্জ-৩)।

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ: কাদের সিদ্দিকীর মেয়ে কুঁড়ি সিদ্দিকী ( টাঙ্গাইল-৮) , লিয়াকত আলী (টাঙ্গাইল-৪), ইকবাল সিদ্দিকী (গাজীপুর-৩), মনজুরুল ইসলাম (নাটোর-১)।

নাগরিক ঐক্য: মাহমুদুর রহমান মান্না (বগুড়া-২), এস এম আকরাম (নারায়ণগঞ্জ-৫), শাহ রহমত উল্লাহ (রংপুর-১), নুরুর রহমান জাহাঙ্গীর (বরিশাল-৪)।

জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী যারা

ঢাকা-১৫ আসনে ডা. শফিকুর রহমান, সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে রফিকুল ইসলাম খান, খুলনা-৫ আসনে মিয়া গোলাম পারোয়ার, খুলনা-৬ আসনে আবুল কালাম আজাদ, কুমিল্লা-১১ আসনে সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, চট্টগ্রাম-১৫ আসনে আ ন ম শামসুল ইসলাম, কক্সবাজার-২ আসনে হামিদুর রহমান আযাদ, ঠাকুরগাঁও-২ আসনে আবদুল হাকিম, দিনাজপুর-১ আসনে আবু হানিফ, দিনাজপুর-৬ আসনে আনোয়ারুল ইসলাম, নীলফামারী-২ আসনে মনিরুজ্জামান মন্টু, নীলফামারী-৩ আসনে আজিজুল ইসলাম, গাইবান্ধা-১ আসনে মাজেদুর রহমান, সাতক্ষীরা-২ আসনে মুহাদ্দিস আবদুল খালেক, সাতক্ষীরা-৪ আসনে গাজী নজরুল ইসলাম, পিরোজপুর-১ আসনে শামীম সাঈদী, বাগেরহাট-৩ আসনে আবদুল ওয়াদুদ, বাগেরহাট-৪ আসনে আবদুল আলীম, যশোর-২ আসনে আবু সাঈদ মো. সাহাদাত হোসেইন, ঝিনাইদহ-৩ আসনে মতিউর রহমান, পাবনা-৫ আসনে ইকবাল হোসেইন, রংপুর-৫ আসনে গোলাম রাব্বানী।

এছাড়া জামায়াত নেতাদের মধ্যে যুদ্ধাপরাধের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে নাজিব মোমেন পাবনা-১ আসনে এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে নুরুল ইসলাম বুলবুল স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

পাবনা-১ আসনে গণফোরামের হয়ে ধানের শীষে প্রার্থী রয়েছেন সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাঈয়িদ।

রংপুর-৫ আসনে নাগরিক ঐক্যের প্রার্থী মোফাখরুল ইসলামকেও প্রথমে ধানের শীষ প্রতীক দেওয়া হলেও শেষ মুহূর্তে জামায়াতের রাব্বানীকে চূড়ান্ত মনোনয়নের চিঠি দেন বিএনপি মহাসচিব।


এই বিভাগের আরো খবর