ঢাকা, ২৮ আগস্ট শুক্রবার, ২০২৬ || ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩
good-food
২৬

নেপালে বিপর্যয়ের ৫ মাস আগেই দেওয়া হয়েছিল পূর্বাভাস

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৯:০৫ ২৮ আগস্ট ২০২৬  

নেপালে দুই দিন আগে ভয়াবহ বন্যায় মৃত্যু হয়েছে প্রায় ৫৫০ জনের। এই ভয়াবহ দুর্যোগ ঘিরে অনুসন্ধান শুরু করেছেন বিজ্ঞানী ও গবেষকরা। ঠিক কী কারণে এই বিপর্যয় তা এখনও নিশ্চিত নয়।

গত বুধবার আকস্মিক এই ভয়াবহ বন্যা ঘটে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, একাধিক কারণে এই বিপর্যয় ঘটেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ৪ হাজার মিটার বা তার চেয়ে বেশি উচ্চতায় তুষারপাতের পরিবর্তে বৃষ্টিপাত হওয়া।

গবেষকদের অনুমান, একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করেছে। তাদের মতে, ৪ হাজার মিটার বা তারও বেশি উচ্চতায় যেখানে একসময় তুষারপাত হওয়ার কথা, সেখানে এখন বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে হিমবাহ দ্রুত গলে পিছিয়ে যাচ্ছে।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন ডাবলিনের ওডিয়া ইনস্টিটিউট অব হিমালয়ান জিওলজির এক বিজ্ঞানী জানান, উচ্চ তাপমাত্রা বৃদ্ধিই হয়তো উঁচু পার্বত্য এলাকায় তুষারপাতের বদলে বৃষ্টির মূল কারণ।

হিন্দুকুশ হিমালয় (এইচকেএইচ) অঞ্চলের হিমবাহগুলো আশঙ্কাজনক হারে গলছে। চলতি শতাব্দীতে বরফ গলার গতি দ্বিগুণ হয়েছে উল্লেখ করে অন্তত পাঁচ মাস আগেই দুটি পৃথক প্রতিবেদনে এই বিপর্যয়ের সতর্কবার্তা দিয়েছিল কাঠমান্ডুভিত্তিক ‘ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট’ (ইমিসোড)।

ইমিসোডের গবেষণা প্রতিবেদনে জানায়, ১৯৭৫ সাল থেকে এখন পর্যন্ত হিমবাহের বরফের পুরুত্ব প্রায় ২৭ মিটার পর্যন্ত কমেছে। নেপাল ছাড়াও ভারত, ভুটান ও চীনসহ বেশ কয়েকটি দেশ এই সংস্থার সদস্য।

‘এশিয়ার ওয়াটার টাওয়ার’ নামে পরিচিত এই অঞ্চলের গলিত পানির ওপর নির্ভরশীল ভাটি অঞ্চলের প্রায় ২০০ কোটি মানুষের জন্য ভবিষ্যতে আশঙ্কাজনক পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল ওই প্রতিবেদনে। 

চলতি বছরের মার্চে প্রকাশিত ইমিসোডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৯০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে হিন্দুকুশ হিমালয় অঞ্চলের হিমবাহ মোট আয়তনের প্রায় ১২ শতাংশ এবং আনুমানিক জমে থাকা বরফের ৯ শতাংশ হারিয়েছে।

৩৮টি পর্যবেক্ষণাধীন হিমবাহের তথ্য বিশ্লেষণ করে তৈরি করা ‘এইচকেএইচ গ্লেসিয়ার আউটলুক ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০০ সালের পর থেকে বরফ গলার পরিমাণ দ্বিগুণ হয়েছে। এটি হিমালয়ের ক্রায়োস্ফিয়ার বা বরফাবৃত অংশ ধ্বংসের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাওয়ার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ইমিসোডের গবেষকরা বর্তমানে খতিয়ে দেখছেন যে, অতিরিক্ত উচ্চতা থেকে বরফ ও পাথরের ধস এই বন্যার সূত্রপাত করেছিল কি না। বিপুল বরফ ও পাথরের ধ্বংসস্তূপ লেন্দে খোলা (ভোটে কোশি নদীর উপনদী) নদীতে পতিত হয়ে পানি, পলি ও বিশাল পাথরখণ্ড গড়িয়ে এনে নিম্নাঞ্চলে এই তীব্র বানের সৃষ্টি করতে পারে।

ইমিসোডের জ্যেষ্ঠ ক্রায়োস্ফিয়ার বিশেষজ্ঞ ও আইআইটি ইন্দোরের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ ফারুক আজম সংবাদ সংস্থাকে জানান, তুষারাবৃত এলাকা কমে যাওয়া এবং হিমবাহ সংকুচিত হওয়ার সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। নগ্ন হয়ে পড়া পাথুরে জমিগুলো বেশি তাপ শোষণ করায় পাহাড়ের ঢালগুলো আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

ইমিসোডের তথ্য অনুযায়ী, মেরু অঞ্চলের বাইরে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বরফের ভাণ্ডার হলো এই হিন্দুকুশ হিমালয়। এখানে ৬৩ হাজার ৭০০টিরও বেশি হিমবাহ রয়েছে; যা ৫৫ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত।

এগুলো এশিয়ার ১০টি প্রধান নদী ব্যবস্থার উৎস; যা শত কোটি মানুষের খাদ্য, পানি, জ্বালানি ও জীবিকার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। অন্যদিকে, আয়তনের বিচারে সবচেয়ে বেশি হিমবাহ গলেছে সিন্ধু, গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায়।

এই তিন অববাহিকাতেই হিন্দুকুশ হিমালয় অঞ্চলের ৭৪ শতাংশেরও বেশি হিমবাহ রয়েছে। ফলে হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়া শুধু পাহাড়ি এলাকার বিপদ নয়, গোটা দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার নিরাপত্তার জন্য বড় সতর্ক বার্তা।

বিশ্ব বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর