ঢাকা, ০৬ সেপ্টেম্বর রোববার, ২০২৬ || ২২ ভাদ্র ১৪৩৩
good-food

ফিক্সিংয়ের শঙ্কা: পাকিস্তান ক্রিকেটারদের ফোন জব্দ

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৫:০৩ ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬  

ইংল্যান্ড সফরে থাকা পাকিস্তানের সঙ্গে হচ্ছে কী? এখন সেই প্রশ্ন সবখানে। সিরিজের প্রথম দুই টেস্টে বাজেভাবে হার। সেই ক্ষত তরতাজা থাকতেই পাকিস্তান ক্রিকেটে এসেছে বড় সিদ্ধান্ত। 

সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টের আগে দলে আনা হয়েছে বড় পরিবর্তন। বাদ দেওয়া হয়েছে সাত ক্রিকেটারকে। এমনকি প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমর গুলও পড়েছেন বাদ। 

একের পর এক বিতর্কে জড়ানো পাকিস্তান ক্রিকেট দল নিয়ে এবার এলো আরও ভয়ঙ্কর খবর। তৃতীয় টেস্টের আগে দলের কয়েকজন ক্রিকেটারের মোবাইল ফোন নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। এমন খবর প্রকাশ করেছে বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম।

পাকিস্তানি সাংবাদিক আম্বার আলী দেশটির ৩৬৫ নিউজকে জানিয়েছেন, জাতীয় দলের কয়েকজন ক্রিকেটারের মোবাইল ফোন পিসিবির হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এজবাস্টনে তৃতীয় টেস্ট শেষ না হওয়া পর্যন্ত ফোনগুলো বোর্ডের কাছেই থাকবে বলে জানা গেছে। তবে কোন কোন ক্রিকেটারের ফোন নেওয়া হয়েছে, তা প্রকাশ করা হয়নি।

এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি পিসিবি। তবে কেন ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত ডিভাইস হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং বোর্ড ঠিক কোন পরিস্থিতিতে এসব ফোনের ব্যক্তিগত তথ্য বা যোগাযোগে প্রবেশ করতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ম্যাচ চলাকালে ক্রিকেটার ও সাপোর্ট স্টাফদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। আইসিসির ‘প্লেয়ার অ্যান্ড ম্যাচ অফিসিয়ালস এরিয়া’ সংক্রান্ত নিয়ম অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ম্যাচ চলাকালে ড্রেসিংরুমসহ নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রিত এলাকায় মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো যোগাযোগের ডিভাইস রাখা কিংবা ব্যবহার করা নিষিদ্ধ।

এসব এলাকায় প্রবেশের আগে ক্রিকেটারদের ফোন নিরাপদ স্থানে রেখে যেতে হয়। মূলত ম্যাচের সততা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অননুমোদিত যোগাযোগ ঠেকাতেই এই বিধিনিষেধ।

তবে ম্যাচ চলাকালে ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকার বিষয়টি একেবারেই ভিন্ন। সেটির সঙ্গে কোনো ক্রিকেটারের ব্যক্তিগত ফোন দীর্ঘ সময়ের জন্য বোর্ড বা কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রাখার বিষয়টি এক করে দেখার সুযোগ নেই।

কোনো আনুষ্ঠানিক দুর্নীতিবিরোধী তদন্ত চললে আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন কোডে তদন্তকারীদের জন্য আরও বিস্তৃত ক্ষমতার কথা বলা হয়েছে।

নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে অনুমোদিত অ্যান্টি-করাপশন কর্মকর্তা লিখিত নির্দেশের মাধ্যমে কোনো ক্রিকেটার বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে মোবাইল ফোন জমা দিতে বলতে পারেন। তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য রয়েছে বলে যুক্তিসংগত কারণ থাকলে ডিভাইস থেকে তথ্য কপি বা ডাউনলোড করার অনুমতিও চাওয়া যেতে পারে।

সেই তথ্যের পরিধিও বেশ বিস্তৃত। ফোনের কল রেকর্ড, ইন্টারনেট ব্যবহারের তথ্য, খুদে বার্তা, হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথন, ছবি, ভিডিও, অডিও ফাইলসহ ইলেকট্রনিকভাবে সংরক্ষিত অন্যান্য নথিও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।

তবে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের ফোন জব্দের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক দুর্নীতিবিরোধী তদন্তের সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো পিসিবি বা আইসিসির পক্ষ থেকে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে এমনিতেই কঠিন সময় পার করছেন পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা। এর মধ্যেই শেষ টেস্টের আগে ক্রিকেটারদের ফোন হেফাজতে নেওয়ার খবর সফরটিকে আরও আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

খেলাধুলা বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর