ঢাকা, ২৬ জুন শুক্রবার, ২০২৬ || ১২ আষাঢ় ১৪৩৩
good-food

বিশ্বকাপে গোলবন্যার নেপথ্যে ‘ট্রাইওন্ডা’

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৩:২৬ ২৬ জুন ২০২৬  

গেল বিশ্বকাপে কাতারের বুকে ৬৪ ম্যাচে হয়েছিল ১৭২ গোল। এবার সেটা ছাড়িয়ে গেছে ৬০ ম্যাচেই। শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল পর্যন্ত হওয়া ৬০ ম্যাচে গোল হয়েছে ১৭৩টি! ম্যাচ প্রতি গড় ২.৮৮! অর্থাৎ প্রতিটি দল গড়ে ৩টি করে গোল করে ফেলেছে।

গ্রুপ রাউন্ড পেরিয়ে নকআউট তো এখনো বাকি। এর আগে এত গোল বন্যা নিয়ে গোলকিপারদের ওপর প্রশ্ন ছুড়ছেন অনেকেই। 

ইংল্যান্ডের সাবেক গোলরক্ষক জো হার্ট অবশ্য সন্দেহের তীর ছুড়েছেন এবারের বিশ্বকাপের অফিসিয়াল বল অ্যাডিডাস ‘ট্রাইওন্ডা’র দিকে। বিবিসির এক বিশ্লেষণে তিনি বলেন, “পা থেকে বের হওয়ার পর বলটি যতটা গতিশীল মনে হয়, গোলরক্ষকদের কাছে পৌঁছানোর সময় তার চেয়েও বেশি গতিতে ছুটে আসছে। বলের গতি বুঝতে গোলরক্ষকদের বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।”

হার্টের এই পর্যবেক্ষণ এবার বৈজ্ঞানিক ভিত্তিও পেয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল উইমেনস ইউনিভার্সিটি এবং জাপানের ইউনিভার্সিটি অব সুকুবোর একদল গবেষক উইন্ড টানেলে বল নিয়ে পরীক্ষা চালিয়ে প্রকাশ করেছেন একটি গবেষণা প্রতিবেদন। গবেষণার শিরোনাম— ‘ওরিয়েন্টেশন-ডিপেন্ডেন্ট ড্র্যাগ ক্রাইসিস অ্যান্ড ফ্লাইট রেসপন্স অব দ্য ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ম্যাচ বল ‘ট্রাইওন্ডা’।

গবেষণায় উঠে এসেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—‘ড্র্যাগ ক্রাইসিস’। সাধারণত বাতাসে কোনো বল ছুটে গেলে তার গতির বিপরীতে একটি বাধা বা ‘ড্র্যাগ’ কাজ করে, যা বলের গতি ধীরে ধীরে কমিয়ে দেয়। গোলরক্ষকেরা বছরের পর বছর অনুশীলনের মাধ্যমে এই স্বাভাবিক গতিপথ ও গতি সম্পর্কে ধারণা তৈরি করেন।

কিন্তু ‘ট্রাইওন্ডা’ একটি নির্দিষ্ট গতিতে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি বদলে যায়। তখন বলের চারপাশের বায়ুপ্রবাহ হঠাৎ মসৃণ অবস্থা থেকে উত্তাল বা এলোমেলো অবস্থায় রূপ নেয়। ফলে বলের পেছনে তৈরি হওয়া বায়ু-প্রতিরোধ দ্রুত কমে যায়। যে কারণে বলটি গতি হারানোর বদলে উল্টো আরও দ্রুতগতিতে ছুটে যায়। আর ঠিক এই অপ্রত্যাশিত অতিরিক্ত গতিই গোলরক্ষকদের হিসাব এলোমেলো করে দিচ্ছে। 

তবে এর সুবিধাও রয়েছে। যত গোল তত উন্মাদনা। এরই মধ্যে জার্মানি ১০টি গোল করে ফেলেছে। কানাডা ৮টি, সুইজারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ৭টি করে গোল করেছে। সবমিলিয়ে গোলের উৎসব দেখছে এবারের বিশ্বকাপ।

এর মধ্যে বড় পরীক্ষা দিতে হচ্ছে গোলরক্ষকদের। যদিও বলের চ্যালেঞ্জের সামনে নজর কাড়ছেন বেশ কজন গোলরক্ষক। এর মধ্যে ভোজিনিয়া, আলিসন বেকার ও এমি মার্টিনেজসহ বেশ ক’জন কিপার এখনো গোল বারে ভরসা হয়েই আছেন। 

যেমন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ী গোলরক্ষক এমি মার্টিনেজ এখনও ক্লিনশিট রেখেছেন। ব্রাজিল হজম করেছে মাত্র একটি। কানাডাও হজম করেছে মাত্র একটি।

খেলাধুলা বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর