ঢাকা, ১৭ আগস্ট সোমবার, ২০২৬ || ২ ভাদ্র ১৪৩৩
good-food

বৃষ্টির দিনে ইন্টারনেটের গতি কি আসলেই কমে?

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৪:২৮ ১৭ আগস্ট ২০২৬  

আকাশে মেঘের ঘনঘটা আর বৃষ্টির ঝাপটা শুরু হলেই যেন ইন্টারনেটের গতিতে ছন্দপতন ঘটে। স্মার্টফোনে ইউটিউব বাফার হতে শুরু করে, আবার ল্যাপটপে অফিসের জরুরি কাজ করতে গিয়েও পোহাতে হয় ধীরগতির বিড়ম্বনা। অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে বৃষ্টির সঙ্গে ইন্টারনেটের কি কোনো আড়ি আছে? বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৃষ্টির সময় ইন্টারনেটের গতি কমে যাওয়াটা মোটেও অলীক কল্পনা নয়, এর পেছনে রয়েছে কিছু সুনির্দিষ্ট কারিগরি কারণ।

তার ও অবকাঠামোগত সমস্যা

বাংলাদেশে অধিকাংশ ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হয় তারের মাধ্যমে। বৃষ্টির সময় রাস্তার ধারের বৈদ্যুতিক খুঁটির সাথে থাকা ইন্টারনেটের তার বা সংযোগস্থলগুলোতে পানি ঢুকে যেতে পারে। অনেক সময় পুরোনো বা লুজ কানেকশন থাকলে জলীয় বাষ্পের কারণে সিগন্যাল বাধাগ্রস্ত হয়। অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল যদিও পানিরোধী, কিন্তু মাটির নিচে বা খুঁটিতে থাকা জয়েন্ট বক্সগুলো যদি ঠিকমতো ইনসুলেটেড না থাকে, তবে আর্দ্রতার কারণে সিগন্যাল লস হতে পারে।

‘রেইন ফেড’ বা সিগন্যাল শোষণ

যারা ওয়াইফাইয়ের জন্য মোবাইল ডেটা বা স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহার করেন, তারা বৃষ্টির প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভব করেন। বৃষ্টির ফোঁটা মূলত রেডিও তরঙ্গকে শোষণ বা বাধা প্রদান করে। একে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘রেইন ফেড’ । রেডিও ওয়েভ বা মাইক্রোওয়েভ সিগন্যাল যখন বৃষ্টির ফোঁটার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়, তখন পানির কণা সেই শক্তি কিছুটা শুষে নেয়। ফলে ইন্টারনেটের গতি কমে যায় বা সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

সিগন্যাল রিফ্লেকশন বা প্রতিফলন

বৃষ্টির সময় বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে যায়। এই জলীয় কণাগুলো ওয়াইফাই রাউটারের সিগন্যালকে চারদিকে ছড়িয়ে দেয় বা রিফ্লেক্ট করে। ফলে আপনার রুমের মধ্যে রাউটার থাকলেও বৃষ্টির গুমোট আবহাওয়ায় সিগন্যালের মান আগের মতো স্থিতিশীল থাকে না। বিশেষ করে ২.৪ গিগাহার্টজ ফ্রিকোয়েন্সির রাউটারগুলো পানির কণা দ্বারা বেশি প্রভাবিত হয়।

ব্যবহারকারীর বাড়তি চাপ

বৃষ্টি শুরু হলে অধিকাংশ মানুষ ঘরের বাইরে বের হওয়া বন্ধ করে দেন। এই সময়ে বিনোদনের প্রধান মাধ্যম হয়ে ওঠে ইন্টারনেট। ফেসবুক, ইউটিউব, নেটফ্লিক্স বা গেমিংয়ের ওপর চাপ বাড়ে। কোনো একটি নির্দিষ্ট এলাকার সবাই যখন একসাথে ইন্টারনেট ব্যবহার শুরু করেন, তখন আইএসপির  ব্যান্ডউইথের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়। ফলে এলাকাভেদে ইন্টারনেটের গতি কমে যাওয়া স্বাভাবিক।

বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও রাউটার সমস্যা

বজ্রপাত বা বৃষ্টির সময় অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করে। ঘন ঘন ভোল্টেজ ওঠা-নামা করলে রাউটারের কার্যক্ষমতা সাময়িকভাবে কমে যেতে পারে। এছাড়া বজ্রপাতের হাত থেকে বাঁচতে অনেক আইএসপি তাদের মূল সার্ভার বা ওএনইউ কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ রাখে, যা সংযোগে বিঘ্ন ঘটায়।
করণীয় কী?

বৃষ্টির দিনে ভালো ইন্টারনেট গতি পেতে আপনার রাউটারটিকে জানালার পাশে না রেখে ঘরের মাঝখানে খোলা জায়গায় রাখুন। ব্রডব্যান্ড সংযোগের তার কোথাও কাটা বা জয়েন্টে সমস্যা আছে কি না তা নিয়মিত পরীক্ষা করুন। বৃষ্টির সময় ইন্টারনেটের গতি খুব বেশি কমে গেলে রাউটারটি একবার রিস্টার্ট দিয়ে দেখতে পারেন। আর যদি সমস্যা নিয়মিত হয়, তবে আপনার ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারের সাথে যোগাযোগ করে লাইন ও কানেকশন বক্স পরীক্ষা করা জরুরি।

বৃষ্টির মনোরম আবহাওয়া উপভোগের সাথে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট পেতে সঠিক কারিগরি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাই হতে পারে কার্যকর সমাধান।