ঢাকা, ৩০ সেপ্টেম্বর বুধবার, ২০২৬ || ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩
good-food
১

কুকুর কামড়ালে প্রথমে যা করবেন, ভুল করলেই বিপদ

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২২:৫২ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬  

জলাতঙ্ক এমন একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যার উপসর্গ প্রকাশ পাওয়ার পর এটি প্রাণঘাতী হতে পারে। তবে আক্রান্ত প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের পর দ্রুত ও সঠিক ব্যবস্থা নিলে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাই কুকুর কামড়ানোর পর আতঙ্কিত না হয়ে প্রথম কয়েক মিনিটেই সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথম কাজ ক্ষত পরিষ্কার করা

কুকুর কামড়ানোর পর যত দ্রুত সম্ভব ক্ষতস্থান পরিষ্কার করতে হবে। পরিষ্কার পানি ও সাবান দিয়ে ক্ষতটি ভালোভাবে ধুতে হবে। শুধু ওপর থেকে পানি ঢেলে দিলেই হবে না, ক্ষতস্থানটি পর্যাপ্ত সময় ধরে পরিষ্কার করতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) পরামর্শ অনুযায়ী, কামড় বা আঁচড়ের জায়গা অন্তত ১৫ মিনিট ধরে সাবান ও প্রচুর পানি দিয়ে ধুয়ে ও প্রবাহিত পানিতে ভালোভাবে ফ্লাশ করা জরুরি। সাবান না থাকলে অন্তত প্রচুর পানি দিয়ে ক্ষতস্থান ধুয়ে ফেলতে হবে। এই প্রাথমিক ক্ষত পরিষ্কার করাই জলাতঙ্কের বিরুদ্ধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ।

ক্ষতে মরিচ বা চুন লাগাবেন না

কুকুর কামড়ানোর পর অনেকেই ক্ষতস্থানে মরিচ, চুন, গাছের রস, অ্যাসিড বা ক্ষারজাতীয় কোনো পদার্থ লাগানোর চেষ্টা করেন। এমনটা করা উচিত নয়। এগুলো ক্ষতস্থানে জ্বালা বা অতিরিক্ত ক্ষতি করতে পারে এবং জলাতঙ্কের ঝুঁকি কমানোর প্রমাণিত পদ্ধতি নয়। ক্ষত ধোয়ার পর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আয়োডিনযুক্ত অ্যান্টিসেপটিক ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে ক্ষত নিজে থেকে শক্ত করে ব্যান্ডেজ বা ড্রেসিং দিয়ে ঢেকে না রেখে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি।

অনেকে ক্ষত ধুয়ে নিলেই মনে করেন আর কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন নেই। এটি ঠিক নয়। কুকুরের কামড় বা আঁচড়ের পর দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কামড়ের ধরন, ক্ষতের গভীরতা এবং প্রাণীটির পরিস্থিতি বিবেচনা করে চিকিৎসক জলাতঙ্কের টিকা এবং প্রয়োজন হলে র‍্যাবিস ইমিউনোগ্লোবিউলিন বা অন্য উপযুক্ত প্রতিরোধমূলক চিকিৎসার পরামর্শ দিতে পারেন।

বিশেষ করে ত্বক ভেদ করে কামড়, রক্তপাতসহ আঁচড় বা ক্ষতস্থানে প্রাণীর লালা লাগার মতো ঘটনায় চিকিৎসা দেরি করা উচিত নয়। হু-এর শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী, এ ধরনের এক্সপোজারের ক্ষেত্রে দ্রুত পোস্ট-এক্সপোজার প্রফাইল্যাক্সিস বা পিইপি প্রয়োজন হতে পারে।

কুকুরটিকে ধরতে গিয়ে ঝুঁকি নেবেন না

কামড়ের পর কুকুরটি কোথায় আছে, সেটি জানা থাকলে চিকিৎসক বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রাণীটির পরিচয় ও ঘটনার তথ্য জানানো যেতে পারেন। নিরাপদ হলে প্রশিক্ষিত ব্যক্তি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রাণীটিকে পর্যবেক্ষণে রাখা যায়। তবে নিজে ঝুঁকি নিয়ে কুকুর ধরতে বা কাছে যাবেন না। হু-এর তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য কামড়দাতা কুকুরকে ১০ দিন পর্যবেক্ষণে রাখার ব্যবস্থা করা হতে পারে।

ছোট ক্ষত ভেবে অবহেলা নয়

কামড়ের দাগ ছোট, রক্তপাত কম বা কুকুরটি পোষা এসব কারণে নিজে থেকে ধরে নেওয়া উচিত নয় যে জলাতঙ্কের ঝুঁকি নেই। হু বলছে, কুকুরের কামড় ও আঁচড় মানুষের জলাতঙ্ক সংক্রমণের প্রধান উৎস। তবে দ্রুত ক্ষত পরিষ্কার করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পিইপি নেওয়ার মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাই কুকুর কামড়ালে মনে রাখুন প্রথমেই ১৫ মিনিট ক্ষত ধুয়ে ফেলুন, কোনো ক্ষতিকর পদার্থ লাগাবেন না এবং যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। জলাতঙ্কের ক্ষেত্রে সময় নষ্ট না করে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

লাইফস্টাইল বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর