ঢাকা, ৩০ জুন মঙ্গলবার, ২০২৬ || ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩
good-food

‘ব্লাড সুগার’ হয়েছে নাকি ডায়াবেটিস? বুঝবেন যেভাবে

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৬:৫৫ ৩০ জুন ২০২৬  

সাধারণ মানুষ প্রায়শই দুটি বিষয় গুলিয়ে ফেলেন। ‘ব্লাড সুগার’ এবং ‘ডায়াবেটিস’ শব্দ দুটিকে একই অর্থে ব্যবহার করেন। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই দুটি জিনিস সম্পূর্ণ আলাদা। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় এক ব্যবহারকারী প্রশ্ন করেছিলেন, ‘ব্লাড সুগার’ এবং ‘ডায়াবেটিসের’ মধ্যে পার্থক্য কী?’ চিকিৎসকরা বলছেন, ‘ব্লাড সুগার’ হলো রক্তে শর্করার একটি পরিমাপ, আর ‘ডায়াবেটিস’ হলো একটি রোগ।

ব্লাড সুগার কী? 

‘ব্লাড সুগার’ বা ‘গ্লুকোজ’ হলো আমাদের রক্তে ভাসমান শর্করা। আমরা প্রতিদিন যে খাবার খাই, তা ভেঙে এই ‘গ্লুকোজ’ তৈরি হয়। এটিই আমাদের শরীরের শক্তির প্রধান উৎস। একজন সম্পূর্ণ সুস্থ মানুষের শরীরেও ‘ব্লাড সুগার’ থাকে। তবে তা থাকে স্বাভাবিক মাত্রায়।

সারাদিনে আমরা কী খাচ্ছি, কতটা হাঁটাহাঁটি করছি, ঘুম কেমন হচ্ছে বা কতটা মানসিক চাপে আছি— তার উপর ভিত্তি করে রক্তের সুগারের মাত্রা স্বাভাবিক নিয়মেই ওঠানামা করে। যেমন— ভারী খাবার খাওয়ার পর এটি সাময়িক বাড়ে, আবার ব্যায়াম করলে কমে যায়।

ডায়াবেটিস কী?

‘ডায়াবেটিস’ হলো এমন একটি শারীরিক অবস্থা বা রোগ, যেখানে শরীর রক্তে সুগারের এই স্বাভাবিক ওঠানামা বা ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। এটি তখনই ঘটে যখন আমাদের অগ্ন্যাশয় পর্যাপ্ত ‘ইনসুলিন’ হরমোন তৈরি করতে পারে না অথবা শরীর উৎপাদিত ইনসুলিনকে সঠিক ভাবে ব্যবহার করতে ব্যর্থ হয়।

এর ফলে রক্তের সুগার কোষে প্রবেশ করে। কিন্তু তা এনার্জিতে রূপান্তরিত হয় না। রক্তে সুগারের মাত্রা ক্রমাগত ও স্থায়ী ভাবে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি মাত্রায় থাকলে ‘ডায়াবেটিস’ আক্রান্ত হওয়া ঝুঁকি থাকে। কোনও কারণে হঠাৎ একদিন রক্ত পরীক্ষা করালে যদি ‘ব্লাড সুগারের’ মাত্রা বেশি আসে, সেক্ষেত্রে কাউকে ডায়াবেটিক বলা যায় না। অতিরিক্ত মানসিক চাপ, হঠাৎ কোনও অসুস্থতা, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব কিংবা বিশেষ কিছু ওষুধের কারণে সুস্থ মানুষেরও সাময়িক ভাবে সুগার লেভেল বেড়ে যেতে পারে।

কীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখবেন?

‘ডায়াবেটিস’ একটি ‘সাইলেন্ট কিলার’ বা নিরব ঘাতক। প্রাথমিক অবস্থায় এর কোনও স্পষ্ট লক্ষণ বা উপসর্গ থাকে না। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে যদি রক্তে সুগারের অস্বাভাবিক মাত্রা প্রথম দিকেই ধরা পড়ে, তবে সঠিক জীবনযাত্রা পরিবর্তনের মাধ্যমে হৃদরোগ, কিডনি, চোখ এবং স্নায়ুর বড় ধরনের ক্ষতি বা জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

সুগার নিয়ন্ত্রণের সহজ উপায়

১. সুষম খাদ্যভ্যাস

খাবারে রিফাইনড কার্বোহাইড্রেট ও মিষ্টির পরিমাণ কমিয়ে ফাইবার ও প্রোটিনজাতীয় খাবার বেশি করে খেতে হবে। (মনে রাখবেন, খালি পেটে ফল খেলেও কিন্তু হুট করে সুগার স্পাইক বা একঝটকায় বেড়ে যেতে পারে)।

২. নিয়মিত ব্যায়াম

সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি ধরনের কায়িক পরিশ্রম বা দ্রুত হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

৩. পর্যাপ্ত ঘুম

প্রতি রাতে ৭-৮ ঘণ্টার নিরবচ্ছিন্ন ঘুম ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে।

৪. ওজন নিয়ন্ত্রণ

শরীরের অতিরিক্ত ওজন, বিশেষ করে পেটের মেদ ঝরিয়ে ফেললে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি প্রায় ৬০% পর্যন্ত কমে যায়।

স্বাস্থ্য বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর