ঢাকা, ২৮ জুন রোববার, ২০২৬ || ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩
good-food
৩৯

ভেবেছিলাম হয়তো মরেই যাব: সাইফ

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৫:২২ ২৮ জুন ২০২৬  

গত বছরের জানুয়ারি মাসে মুম্বইয়ের বান্দ্রার বাসভবনে সেই ভয়াবহ রাত। চুরির চেষ্টার সময় অনুপ্রবেশকারীর ছুরির আঘাতে গুরুতর জখম হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল বলিউড সুপারস্টার সইফ আলি খানকে। নিজের সন্তানদের বাঁচাতে গিয়ে কী ভাবে তিনি দুষ্কৃতীদের মুখোমুখি হয়েছিলেন, সে কথা বিভিন্ন সময় তিনি নিজেই জানিয়েছেন। তবে সম্প্রতি এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সেই রাতের হাড়হিম করা অভিজ্ঞতা ফের শেয়ার করলেন ‘ছোটে নবাব’। 

সেই ভয়ঙ্কর রাতের স্মৃতি হাতড়ে সইফ জানান, বাথরুমের জানলা ভেঙে মধ্যরাতে চোর তাঁর ঘরে ঢুকেছিল। তিনি তখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। আচমকাই তাঁদের পরিচারিকা ঘরে এসে হিন্দিতে বলেন, ‘জেহ বাবার ঘরে কেউ ঢুকেছে, তার হাতে ছুরি আছে, সে টাকা চাইছে।’ এই কথা শুনে আর স্থির থাকতে পারেননি শর্মিলা-পুত্র। তৎক্ষণাৎ ছুটে গিয়ে ওই ব্যক্তির উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন।

অভিনেতার কথায়, ‘আমি আধো ঘুমে ছেলের ঘরে ছুটে যাই। দেখি একটা লোক হাতে ছুরি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সে ইতিমধ্যেই ছোট ছেলে এবং পরিচারিকাকে সামান্য জখম করেছে। হয়তো আমি যদি ঘরের আলোটা জ্বেলে শান্তভাবে কথা বলতাম, তবে ওকে বোঝানো যেত। কিন্তু সেই মুহূর্তে আমার মাথায় কী যে চেপে বসল! আমি সোজাসুজি ওর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ি। ও তখন পাগলের মতো ছুরি চালাতে শুরু করে। চারিদিকে শুধু রক্ত আর কাটা দাগ। চেহারায় লোকটা বিশাল ছিল না। কিন্তু ঘুমের ঘোরে ওই ধারালো ছুরি সামলানো মুখের কথা নয়। পরিস্থিতি দ্রুত হাতের বাইরে চলে যায়।’

সইফ জানান, সেই রাতে তাঁর নেপালি পরিচারিকা দেবদূতের মতো এসে ওঁর প্রাণ বাঁচান। সে এসে চোরটাকে চ্যাংদোলা করে ঘরের অন্য প্রান্তে ছুঁড়ে ফেলে দেয়। এরপর অভিনেতার ঘরের দেওয়ালে সাজানো তলোয়ার পেড়ে তা দিয়ে আত্মরক্ষা করার চেষ্টা করেন এবং চোরটিকে একটি ঘরে লক করে দিয়ে যে ভাবে চোর ঢুকেছিল, সেই বাথরুমের জানলা দিয়েই বাইরে বেরিয়ে আসেন। সইফ খেয়াল করেন, ওর পরনের কুর্তা-পাজামা তখন রক্তে ভেসে যাচ্ছে।

মৃত্যুর খুব কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে অভিনেতা বলেন, ‘একটা সময় আমি মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়েছিলাম। আমার মনে হচ্ছিল আমি হয়তো মরেই যাব। তখন শরীরে এত অ্যাড্রেনালিন হরমোন ক্ষরণ হচ্ছিল যে অদ্ভুত এক শান্তি লাগছিল। মনে হচ্ছিল, আমি একটা দারুণ জীবন বেঁচেছি। শুধু মরার আগে বাচ্চাদের হাতটা ধরে একবার বিদায় জানাতে চেয়েছিলাম। তার পরেই আমার চেতনা ফেরে এবং মন বলে ওঠে, এখনও যাওয়ার সময় হয়নি।’

বিনোদন বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর