ঢাকা, ২৬ ফেব্রুয়ারি বুধবার, ২০২০ || ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬
good-food
১০০

ভোটের তারিখ নিয়ে পুনর্বার ভাবার অবকাশ আছে কি-না?

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২৩:৩৭ ১৭ জানুয়ারি ২০২০  

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের তারিখ (৩০ জানুয়ারি) সরস্বতী পূজার দিনে ঘোষণার পর থেকেই আন্দোলন করে আসছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আমরণ অনশনেও বসেন। বিষয়টি একটি কঠিন ভাবনার জন্ম দিয়েছে ...


বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ। তাই সরস্বতী পূজার দিন নির্বাচন হোক, সেটা কোনভাবেই কাম্য হতে পারেনা। আমাদের সংবিধানে অসাম্প্রদায়িকতার কথা বলা আছে, সেখানে আমরা কোন সাম্প্রদায়িক ভাবনাকে উস্কে দিতে পারে এমন চিন্তার বিকাশ দেখতে চাইনা|

 

ধর্ম পালনে কারও যেন কোনো বিঘ্ন না হয় সেইদিক বিবেচনার কথা সব সময় আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বন শুনে এসেছি| বঙ্গবন্ধুর সময়ে প্রণীত ৭২'র সংবিধানে ধর্ম নিরেপেক্ষতার কথা বলা আছে একেবারেই স্পষ্টভাবে | বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনার চার মূলনীতির মধ্যে ধর্মনিরপেক্ষতা একটি | আমরা নিজেরাও শিক্ষার্থীদের শেখাই, সকল ধর্ম, শ্রেণী, বর্ণের মানুষ এক ও অভিন্ন| ধর্ম যার যার, উৎসব সবার! জঙ্গিবাদ এর বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে প্রতি মুহূর্তে সকল ধর্মের সহাবস্থানের কথা বার বার উচ্চারণ করেছি বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণী কক্ষে|  এখন কেন নির্বাচন ও পূজা উজ্জাপনের মাঝে একটি দ্বিমুখী অবস্থান দেখতে পাচ্ছি? শিক্ষার্থীরা আমরণ অনশনে গেছে অর্থ হচ্ছে বিষয়টি তাঁদের বিবেককে তাড়িত করছে|

সাধারণত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই পুজা উদযাপিত হলেও ঘরে ঘরে আনন্দ আয়োজন ও উৎসব চলে|  তাছাড়া নির্বাচনের বেশিরভাগ ভোট কেন্দ্রই তো থাকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। তাই তাদের উৎসব আয়োজন কিছুটা মলিন হতে পারে একই দিনে নির্বাচন হলে, এবং এই ভাবনা তাদের জন্য স্বাভাবিক| তাঁদের এই ভাবনার প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান রইলো, যে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা হতে প্রতিবছর পূজার উৎসবে আমরা শিক্ষকরাও একাত্মতা প্রদর্শন করে জগন্নাথ হলে পূজার আয়োজন দেখতে যাই|  হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব সরস্বতী পূজা কেননা সরস্বতী হচ্ছে বিদ্যার দেবী। তাই সরস্বতীর কৃপালাভের আশায় রাজধানীসহ সারা দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ঘরে ঘরে পূজা হয়ে থাকে দেবীর আগমন উপলক্ষে।

ধর্মীয় বিধান অনুসারে সাদা রাজহাঁসে চড়ে বিদ্যা ও সুরের দেবী সরস্বতী পৃথিবীতে আসেন বিদ্যা দানের প্রয়াসে। অনেক পরিবারেই মায়েরা সেদিন বিভিন্ন পূজা শেষ করে সন্তানের বিদ্যা লাভের আশায় তাদেরকে পাঠদান পর্ব শুরু করেন| অর্থাৎ সামাজিক ও পারিবারিক আয়োজনে এই পূজা খুব গুরুত্বপূর্ণ!

প্রতিবছর এমন সময় বিভাগের হিন্দু ধর্মের শিক্ষার্থীরা আমাদের আমন্ত্রণপত্র পাঠান এবং আমরা শিক্ষকরা এক যোগে সবাই মিলে শিক্ষার্থীদের 'ধর্ম যার যার, উৎসব সবার!' - মন্ত্রে সকলকে উৎসাহিত করতেই যোগ দেই জগন্নাথ হলের উৎসবে| শিক্ষকদের কাছে পেয়ে শিক্ষার্থীরা কি যে আনন্দিত ও উৎসাহিত হয়, তা চোখে পড়ার মতো| সেই আনন্দ, উৎসব ও আয়োজনে যেন কোন ঘাটতি না হয়, সেই চাওয়া হতেই শিক্ষার্থীরা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তনের দাবী জানাচ্ছেন, আমি তাদের সাথে একাত্মতা পোষণ করছি|

এমনকি সরস্বতী পূজার জন্য ভোটের তারিখ পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন ঢাকা উত্তরের আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম। তিনিও নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ করেছেন।

এদিকে বিএনপির প্রার্থী তাবিথ আউয়াল বলেছেন, 'পূজার ক্ষোভ ভোটে দেবেন' (সুত্রঃ প্রথম আলো)| যার অর্থ দাঁড়াচ্ছে, ধর্মকে আবারও ভোটের রাজনীতিতে সামনে নিয়ে আসার সুযোগ তৈরি করা হল| নিজ ধর্মের উপর শিক্ষার্থীদের বিশ্বাস ও আস্থার প্রতি, শিক্ষার্থীদের পূজাকে ঘিরে নানা আয়োজনের প্রতি সম্মান দেখিয়ে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের আরেকবার ভেবে দেখার সুযোগ হবে আশা করছি|