ঢাকা, ২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার, ২০২৬ || ৫ ভাদ্র ১৪৩৩
good-food

সুখী, সমৃদ্ধ ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি: মির্জা ফখরুল

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৪:৪৮ ২০ আগস্ট ২০২৬  

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রত্যাশা সুখী, সমৃদ্ধ ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের। ‘সুখী-সমৃদ্ধ নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠবে’ গণমাধ্যমের কাছে এমনই আশা করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটের আগে টেলিফোনে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন মির্জা ফখরুল। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এয়োদশ জাতীয় সংসদে দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন নিয়ে সরকার গঠন করা বিএনপির দলীয় প্রার্থী তিনি। ভোটে বিজয়ী হলে তিনিই হবেন বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি।

গণমাধ্যমকে মির্জা ফখরুল বলেন, “আমি এমন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছি, যে বাংলাদেশ হবে সুখী, সমৃদ্ধ, কল্যাণমুখী। যেখানে প্রান্তিক মানুষ, খেটে খাওয়া জনগোষ্ঠি, দিন এনে দিন খাওয়া শ্রমজীবীরা দুই বেলা পেট ভরে খেতে পারবে। সুস্থ পরিবেশে তারা বসবাস করতে পারবে, নিরাপদে-নিশ্চিন্তে জীবন যাপন করতে পারবে। যেখানে আমাদের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠির কর্মসংস্থান হবে। আমাদের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী সমাজ তাদের আত্ম-কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে।”

তিনি বলেন, “বিশ্বের বুকে আমরা বাংলাদেশিরা আত্মমর্যাদা সম্পন্ন দেশ হিসেবে নিজেদের পরিচিত করব। আমি বিশ্বাস করি, প্রত্যাশা করি, তারেক রহমানের নেতৃত্বেই বাংলাদেশকে জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্রে পরিণত করতে সক্ষম হবো।”

দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, “প্রথমেই আমি শুকরিয়া আদায় করতে চাই মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ রাব্বুল আ‘লামীনের প্রতি। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই দেশবাসীর কাছে যাদের অধিকার আদায়ের দীর্ঘ সংগ্রামে আমি পাশে ছিলাম। সুখে-দুখে তাদের কাছে ছিলাম। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই গণমাধ্যমসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি।”

তিনি বলেন, “সবচেয়ে বেশি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি। আমি মনে করি, তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রত্যাশিত গন্তব্যে পৌঁছাবে।”

এক প্রশ্নের জবাবে আবেগআপ্লুত কণ্ঠে মির্জা ফখরুল বলেন, “অনেক কিছু মিস করব, যা স্মরণ করলে আমি আবেগ ধরে রাখতে পারি না। দোয়া করি সৃষ্টিকর্তার কাছে সবাই ভালো, সুস্থ ও নিরাপদে থাকুন। কল্যাণমুখী রাষ্ট্র নির্মাণে সবাই সরকারকে সহযোগিতা করুন।”

মির্জা ফখরুল বলেন, “এই দিনে সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে, আমার মন কাঁদে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কথা আসলেই। মহীয়সী এই নারী নেত্রী, প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধার আমি সান্নিধ্য, স্নেহ পেয়েছি। ক্ষণে ক্ষণে তার কথা স্মরণে আসে আমার। আবেগ কেঁপে ওঠে।”

ভাসানী ন্যাপের রাজনীতি দিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে আসেন মির্জা ফখরুল। পরে যোগ দেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গঠন করা জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিতে। দীর্ঘ পরিক্রমায় তার ওপরই বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব দেন বেগম খালেদা জিয়া।

মির্জা ফখরুল ২০০১ সালে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন। তারেক রহমানেরও মন্ত্রিসভার সদস্য হন তিনি।

এদিন দুপুর ২টায় ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে জাতীয় সংসদের সংসদ কক্ষে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন এই নির্বাচন পরিচালনা করছেন। ভোটগ্রহণ চলবে বিকাল ৫টা পর্যন্ত।

উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরেই হেয়ার রোডের ৩৫নং বাসভবনে মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। নিজের নির্বাচনি এলাকা ঠাকুরগাঁওসহ উত্তরাঞ্চলের নেতাকর্মীরা মির্জা ফখরুলের সঙ্গে দেখা করতে সেখানে ভিড় করেছেন। সবার সঙ্গে দেখা দিচ্ছেন তিনি। নিজের জন্য সবার কাছে দোয়া চাইছেন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা।

আগের দিন বুধবার বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় যোগ দেন মির্জা ফখরুল। এই সভায় এটিই হতে পারে তার শেষ অংশগ্রহণ। কারণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেই ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য হয়ে যাবে।