ঢাকা, ১২ অক্টোবর সোমবার, ২০২৬ || ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩
good-food
১০

হঠাৎ চুল পড়া বাড়লে কি করবেন?

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ০০:১৫ ১২ অক্টোবর ২০২৬  

চুল পড়া নিয়ে অনেকেই বেশ চিন্তিত থাকেন, বিশেষ করে যখন হঠাৎ করে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি চুল ঝরতে শুরু করে। এই হঠাৎ পরিবর্তনের পেছনে ঠিক কী কারণ রয়েছে—তা নিয়ে নানা প্রশ্ন জাগে। 

ভারতীয় পুষ্টিবিদ রাশি চৌধুরীর মতে, চুল পড়ার কারণ সবসময় সাম্প্রতিক কোনো ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত নাও হতে পারে। অনেক সময় চুল ঝরার প্রকৃত কারণটি ঘটে থাকতে পারে চুল পড়ার প্রায় তিন মাস আগে। 

পুষ্টিবিদ জানান, শরীর যখন কোনো বড় শারীরিক বা মানসিক চাপের (যেমন—অসুস্থতা, ক্রাশ ডায়েট বা দীর্ঘমেয়াদি দুশ্চিন্তা) মধ্য দিয়ে যায়, তখন বিপুল সংখ্যক চুলের ফলিকল বা গোড়া বৃদ্ধির পর্যায় থেকে বিশ্রামের পর্যায়ে চলে যায়। 

এই ফলিকলগুলো চুল ঝরার আগে প্রায় ১০০ দিন বিশ্রামের পর্যায়ে থাকে। এই কারণেই চুল পড়ার সমস্যাটি হঠাৎ শুরু হয়েছে বলে মনে হলেও এর পেছনের আসল কারণটি হয়তো কয়েক মাস পুরোনো হতে পারে। তাই হঠাৎ চুল ঝরার কারণ খুঁজতে গিয়ে শুধু গত সপ্তাহের দিকে তাকালে চলবে না, বরং এর চেয়ে প্রায় তিন মাস আগে ডায়েট, মানসিক চাপ বা অসুস্থতায় কোনো পরিবর্তন এসেছিল কিনা তা ভেবে দেখতে হবে। 

যাচাই করার ৩টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

দীর্ঘদিন ধরে চুল পড়া অব্যাহত থাকলে পুষ্টিবিদ কিছু পুষ্টিগত বা অন্যান্য বিষয় পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন:

১. ফেরিটিন: এটি শরীরের সংরক্ষিত আয়রনের মাত্রা নির্দেশ করে। ল্যাবরেটরি রিপোর্টে ১৫-এর কাছাকাছি ফেরিটিন কম হিসেবে ধরা হতে পারে, তবে তিনি তার ক্লায়েন্টদের জন্য ৭০ থেকে ১০০-এর মধ্যে থাকা আদর্শ বলে মনে করেন। 

২. থাইরয়েড: শুধু টিএসএইচ পরীক্ষা না করে ফ্রি টি৩ (Free T3) সহ একটি সম্পূর্ণ থাইরয়েড প্যানেল পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। কারণ অনেকেই যে লেভোথাইরক্সিন গ্রহণ করেন, তা নিষ্ক্রিয় টি৪ সরবরাহ করে, যা ফলিকল সরাসরি ব্যবহার করতে পারে না। ফলিকলগুলোর মূল প্রয়োজন সক্রিয় টি৩। 

৩. প্রোটিন: চুল যেহেতু প্রোটিন দিয়ে তৈরি, তাই তিনি প্রতিদিন কমপক্ষে ৮০ গ্রাম প্রোটিন গ্রহণের পরামর্শ দেন। তবে অনেকেই প্রোটিন খাওয়ার পর পেট ফাঁপা বা ভারী বোধ করতে পারেন। পেটের কোনো সমস্যা থাকলে পর্যাপ্ত প্রোটিন খাওয়া সত্ত্বেও শরীর তা ঠিকমতো শোষণ করতে পারে না। 

চুলের ফলাফল পেতে সময় লাগে

চুলের সমস্যাগুলোর সমাধান করার সঙ্গে সঙ্গেই চুল পড়া বন্ধ হয়ে যায় না। পুষ্টিবিদের মতে, চুল চক্রাকারে কাজ করায় পরিবর্তনগুলো লক্ষ্য করতে তিন থেকে ছয় মাস বা তার চেয়েও বেশি সময় লাগতে পারে। 

অনেকে কয়েক মাস সেবন করেও চুল পড়া না কমলে তা খাওয়া বন্ধ করে দেন, যা ঠিক নয়। এ ছাড়া প্রতিদিন ৫০ থেকে ১০০টি চুল ঝরা স্বাভাবিক।

সঠিক কারণ জানা কেন জরুরি? 

স্ট্রেস, অসুস্থতা, ওজন হ্রাস, হরমোনের পরিবর্তন বা প্রসবের পর চুল পড়তে পারে। তাই যেকোনো সাপ্লিমেন্ট (যেমন—বায়োটিন, আয়রন বা কোলাজেন) অন্ধভাবে খাওয়া শুরু করার আগে চুল কেন পড়ছে তার আসল কারণ জানা জরুরি। তার ভিডিওতে উল্লিখিত তিনটি পরীক্ষা একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ হতে পারে, তবে লক্ষণ, চিকিৎসাগত ইতিহাস এবং চুল পড়ার ধরনও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। 

লাইফস্টাইল বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর