ঢাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার, ২০১৯ || ২ আশ্বিন ১৪২৬
LifeTv24 :: লাইফ টিভি 24
২৫৩

হোপে আশাভঙ্গ বাংলাদেশের

প্রকাশিত: ২১:৪৫ ১১ ডিসেম্বর ২০১৮  

ছবি সংগৃহীত

ছবি সংগৃহীত


‘পঞ্চপাণ্ডবের সেঞ্চুরি’র ম্যাচটা জয়ে রাঙানো হলো না বাংলাদেশের। শাই হোপের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে দারুণ জয় পেয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

মিরপুরে আজ দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৫৫ রান করেছিল বাংলাদেশ। জবাবে হোপের অপরাজিত ১৪৬ রানের সুবাদে ২ বল বাকি থাকতে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

এই সফরে প্রথম জয়ের স্বাদ পেল ক্যারিবীয়রা। তিন ম্যাচের সিরিজে ফিরল ১-১ সমতা। আগামী ১৪ ডিসেম্বর সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে শেষ ম্যাচটা তাই সিরিজ নির্ধারণী।

মাশরাফি বিন মুর্তজা, তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ- এই পাঁচজন দেশের হয়ে একসঙ্গে খেলেছেন, এমন ম্যাচের সংখ্যা আজ একশ ছুঁয়েছে। দেশকে সবচেয়ে বেশি ওয়ানডেতে (৬৯) নেতৃত্ব দেওয়ার রেকর্ডে হাবিবুল বাশারকে ছুঁয়েছেন মাশরাফি। উপলক্ষগুলো জয়ে রাঙিয়ে রাখতে পারলেন না তারা।

২৫৫ রানের পুঁজি নিয়ে প্রথম ম্যাচের মতো এদিনও বাংলাদেশ বোলিং শুরু করে দুই প্রান্তে থেকে স্পিন দিয়ে। দ্বিতীয় ওভারেই আসে সাফল্য। আগের ম্যাচে ব্রেক থ্রু এনে দিয়েছিলেন সাকিব, এবার মিরাজ। অফ স্পিনারের বলে এলবিডব্লিউ কাইরন পাওয়েলের জায়গায় সুযোগ পাওয়া চন্দরপল হেমরাজ।

শুরুর ধাক্কা সামলে ড্যারেন ব্রাভোকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েন শাই হোপ। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে দুজন পার করেন পঞ্চাশ। ১৭তম ওভারে প্রথমবারের মতো আক্রমণে এসেই ৬৫ রানের জুটি ভাঙেন রুবেল হোসেন। ডানহাতি পেসারের কিছুটা নিচু হওয়া বলে পায়ের পেছন দিয়ে বোল্ড ব্রাভো (২৭)।

হোপ এক প্রান্ত আগলে রেখে তুলে নেন ফিফটি। তৃতীয় উইকেটে তিনি মারলন স্যামুয়েলসকে নিয়ে গড়েন আরেকটি পঞ্চাশোর্ধ জুটি। ৬২ রানের এ জুটি ভেঙে বাংলাদেশ শিবিরে স্বস্তি ফেরান মুস্তাফিজুর রহমান। বাঁহাতি স্পিনারে স্লোয়ারে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন স্যামুয়েলস (২৬)।

শিমরন হেটমায়ার ফিরতে পারতেন শূন্য রানেই। তবে রুবেলে বলে শর্ট ফাইন লেগে হেটমায়ারের ক্যাচ ছাড়েন ইমরুল কায়েস। বুকে ব্যথা পেয়ে মাঠও ছাড়েন তিনি। জীবন পেয়ে অবশ্য ১৪ রানের বেশি করতে পারেনি হেটমায়ার। নিজের পরের ওভারে তাকে ফিরিয়েছেন সেই রুবেলই। ফ্লিক শটে উড়াতে গিয়ে ডিপ স্কয়ার লেগে বদলি ফিল্ডার নাজমুল ইসলাম অপুর হাতে ক্যাচ দেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

পরের ওভারে মাশরাফি নেন নিজের প্রথম উইকেট। বাংলাদেশ অধিনায়ক ফিরিয়ে দেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক রোভম্যান পাওয়েলকে। ব্যর্থতার বৃত্তে ঘুরপাক খাওয়া রোভম্যান মিড অনে সহজ ক্যাচ নেন সৌম্য সরকারের হাতে। ১৫৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে তখন বিপদে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

শেষ ১৫ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দরকার ছিল ৮৬ রান। হোপের সঙ্গী তখন রোস্টন চেজ। তবে চেজকে ডানা মেলতে দেননি মুস্তাফিজ। ৩৯তম ওভারে মিড অনে তামিমের হাতে ক্যাচ দিয়ে চেজ ফেরেন ব্যক্তিগত ৯ রানে।

হোপ তখনো ওয়েস্ট ইন্ডিজের আশার বাতি জ্বালিয়ে রাখেন একপ্রান্তে। সফরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে প্রথম সেঞ্চুরিরও আসে হোপের ব্যাট থেকে, যা তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি।

শেষ পাঁচ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দরকার ছিল ৩৮ রান।যেটি ৩ ওভারে দাঁড়ায় ৩২ রানে, ২ ওভারে ২২। কিন্তু ৪৯তম ওভারে ১৬ রান দিয়ে ফেলেন মুস্তাফিজ, যেখানে তার শেষ চার বলে তিনটি চার হাঁকিয়ে বাংলাদেশের জয়ের আশা শেষ করে দেন হোপ। মাহমুদউল্লাহর করা শেষ ওভারে ৬ রান নিতে তাই বেগ পেতে হয়নি সফরকারীদের। ১৪৪ বলে ১২ চার ও ৩ ছক্কায় ক্যারিয়ার সেরা ১৪৬ রান করে ম্যাচসেরা হোপ।

বিশেষ মাইলফলকের ম্যাচে এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে পঞ্চপাণ্ডবের তিনজন পেয়েছিলেন ফিফটি। তবে তামিম (৫০), মুশফিক (৬২) ও সাকিবের (৬৫) ইনিংসগুলো আরো বড় হতে পারত। সেটি না হওয়ায় বাংলাদেশের সংগ্রহও বড় হয়নি।

ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা হয় জোড়া ধাক্কায়। দ্বিতীয় ওভারেই চোট নিয়ে মাঠ ছেড়ে যান লিটন দাস। পেসার ওশানে টমাসের ইয়র্কারে ডান পায়ের গোড়ালিতে চোট পান ডানহাতি ব্যাটসম্যান। মাঠ ছাড়েন স্ট্রেচারে করে।

সেই ধাক্কা টাটকা থাকতেই টমাসের পরের ওভারে ফেরেন তিনে নামা ইমরুল কায়েস। অফ স্টাম্পের বাইরের বলে খোঁচা দিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। জিম্বাবুয়ে সিরিজে রানের বন্যা বইয়ে দেওয়া ইমরুল এই সিরিজে প্রথম দুই ম্যাচে দুই অঙ্কই ছুঁতে পারলেন না।

বাংলাদেশ শুরুর ধাক্কা সামলে ওঠে তৃতীয় উইকেট জুটিতে, তামিম ও মুশফিকের ব্যাটে। চোট কাটিয়ে প্রথম ম্যাচে ভালো করতে না পারলেও এদিন তামিম ছিলেন দারুণ। ইনিংসের প্রথম ছক্কা আসে তার ব্যাট থেকেই। একাদশ ওভারে কিমো পলকে লং অনের ওপর দিয়ে আছড়ে ফেলেন তামিম। পরের বলে একই জায়গা দিয়ে মারেন চার।

শতরানের জুটি গড়ার পথে ফিফটি করেন দুই ব্যাটসম্যানই। প্রথমে ফিফটি করেন অবশ্য মুশফিক। ৬২ বলে ৪ চারে ক্যারিয়ারের ৩২তম ফিফটি পূর্ণ করেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান। তামিম ফিফটি করেন মুশফিকের চেয়ে দুই বল কম খেলে, ৪ চার ও এক ছক্কায়।

এরপর নিজের ব্যক্তিগত খাতায় অবশ্য আর কোনো রান যোগ করতে পারেননি তামিম। লেগ স্পিনার দেবেন্দ্র বিশুকে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে ধরা পড়েন ডিপ মিড উইকেটে। ৬৩ বলে ৪ চার ও এক ছক্কায় ৫০ রানের ইনিংসটি সাজান বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

তামিমের বিদায়ে ভাঙে ১১১ রানের জুটি। ৭ রানের ব্যবধানে ফেরেন মুশফিকও। টমাসের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে খোঁচা দিয়ে উইকেটের পেছনে ধরা পড়েন তিনি। ৮০ বলে ৫ চারে ৬২ রান আসে ডানহাতি ব্যাটসম্যানের ব্যাট থেকে।

চতুর্থ উইকেটে ৬১ রানের জুটিতে দলের স্কোর দুইশর কাছে নিয়ে যান সাকিব ও মাহমুদউল্লাহ। মাহমুদউল্লাহর বিদায়ে ভাঙে এ জুটি। ৫১ বলে ৩ চারে মাহমুদউল্লাহ ৩০ রান করে ফেরার সময় বাংলাদেশের স্কোর ৪ উইকেটে ১৯৩।

আগের ম্যাচে ছোট্ট ঝোড়ো ইনিংস খেলা সৌম্য সরকার এদিন কিছুই করতে পারেননি। টমাসকে আপার কাট করতে গিয়ে ক্যাচ দেন থার্ডম্যানে (৮ বলে ৬)। চোট সামলে আবার উইকেটে এসেছিলেন লিটন। কিন্তু তিনিও তেমন কিছুই করতে পারেননি (১৪ বলে ৮)।

এর আগে আউট হয়ে যেতে পারতেন সাকিবও। টমাসের বলে পুল করতে গিয়ে মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়েছিলেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। তবে টমাস ‘নো’ বল করায় বেঁচে যান সাকিব। ফ্রি-হিট পেয়ে টমাসকে পুল করে ডিপ মিড উইকেটের ওপর দিয়ে আছড়ে ফেলে ৪৬ থেকে সাকিব পূর্ণ করেন ফিফটি।

ফিফটি করলেও শেষ করে আসতে পারেননি সাকিব। ৪৭তম ওভারে তিনি ফেরেন কেমার রোচের বলে বোল্ড হয়ে। সাকিব ৬২ বলে ৬ চার ও এক ছক্কায় ৬৫ করে ফেরার পর বাংলাদেশের স্কোরও বড় হয়নি। মাশরাফি বিন মুর্তজা ও মেহেদী হাসান মিরাজ শেষ দুই ওভারে স্কোরবোর্ডে যোগ করতে পারেন মাত্র ৫ রান!

শেষ দিকে কেউ ঝড় তুলে আর কিছু রান বেশি করতে পারলে ম্যাচের ফল অন্যরকমও হতে পারত।