ঢাকা, ০৯ জানুয়ারি শুক্রবার, ২০২৬ || ২৫ পৌষ ১৪৩২
good-food
২৭

হলফনামায় ১৬ লাখ টাকার হিসাব স্পষ্ট করলেন নাহিদ

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২১:৫৭ ৭ জানুয়ারি ২০২৬  

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম নির্বাচনি হলফনামায় উল্লেখিত ১৬ লাখ টাকার আয় ও সম্পদ সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে সৃষ্টি হওয়া বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার সম্পর্কে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। বুধবার নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, তার আয় ও সম্পদ সংক্রান্ত তথ্যকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুলভাবে উপস্থাপন করে রাজনৈতিক অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে একজন স্বচ্ছ রাজনীতিবিদকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বাৎসরিক আয় প্রসঙ্গ

হলফনামায় উল্লেখিত ১৬ লাখ টাকা কোনো এককালীন বা হঠাৎ অর্জিত অর্থ নয় বলে জানান নাহিদ ইসলাম। এটি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের (১ জুলাই ২০২৪ থেকে ৩০ জুন ২০২৫) মোট বাৎসরিক আয়ের হিসাব। এই সময়ের মধ্যে সাত মাস তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং রাষ্ট্রীয় বেতন ও ভাতা গ্রহণ করেন।

তিনি জানান, এই আয়ের মধ্যে প্রায় ১১ লাখ টাকা সরকারি বেতন-ভাতা, যা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে পরিশোধিত, আয়করযোগ্য এবং নথিভুক্ত। অবশিষ্ট অর্থ এসেছে উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগের পর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কনসালট্যান্ট হিসেবে বৈধভাবে কাজ করে পাওয়া সম্মানী থেকে, যার ওপরও আয়কর পরিশোধ করা হয়েছে।

মোট সম্পদের হিসাব

নাহিদ ইসলামের ঘোষিত মোট সম্পদের পরিমাণ ৩২ লাখ টাকা। তিনি বলেন, ‘‘এটি এক বছরের আয় নয়, বরং তার ২৭ বছরের জীবনের সঞ্চয়ের সমষ্টি। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় সঞ্চিত অর্থ, পূর্ববর্তী সঞ্চয়, পারিবারিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে পাওয়া উপহার, স্বর্ণালংকার, ফার্নিচার ও ইলেকট্রনিক সামগ্রীর মূল্য। এছাড়া পদত্যাগের পর আয়কর পরিশোধিত আয়ের অংশও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।’’

ব্যাংক হিসাব সংক্রান্ত ব্যাখ্যা

উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগের সময় তার ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১০ হাজার টাকা জমা ছিল, যা মোট সম্পদের অংশ নয় বলে জানান তিনি। পরবর্তীতে সরকারিভাবে মন্ত্রীদের আসবাবপত্র কেনার জন্য বরাদ্দ অর্থ ওই ব্যাংক হিসাবে জমা হয়।

বর্তমানে তার দুটি ব্যাংক হিসাব রয়েছে—একটি সোনালী ব্যাংকে এবং আরেকটি নির্বাচনি ব্যয় পরিচালনার জন্য ২৮ ডিসেম্বর সিটি ব্যাংকে খোলা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘‘উপদেষ্টা পদে থাকাকালীন কিংবা পরে তার কোনো জমি, ফ্ল্যাট বা ব্যক্তিগত গাড়ি ছিল না।’’

পেশা নিয়ে অবস্থান

হলফনামায় পেশা হিসেবে শিক্ষকতা উল্লেখ না থাকার বিষয়েও ব্যাখ্যা দেন নাহিদ ইসলাম। তিনি জানান, তার পূর্ববর্তী পেশা ছিল সরকারের উপদেষ্টা এবং বর্তমানে তিনি কনসালট্যান্সি পেশায় যুক্ত। তিনি একটি টেক ফার্মে স্ট্র্যাটেজিক ও পলিসি পরামর্শ দিচ্ছেন, যা কোনো সরকারি প্রকল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়।

স্বচ্ছতার দাবি

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘‘তার আয় ও সম্পদ সংক্রান্ত প্রতিটি তথ্য আয়কর রিটার্ন ও নির্বাচনি হলফনামার মাধ্যমে আইনগতভাবে যাচাইযোগ্য।’’ এরপরও এসব তথ্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে অসৎ রাজনৈতিক বয়ান তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘‘সীমিত সম্পদ ও স্বচ্ছ আয়ের ঘোষণা প্রমাণ করে যে ক্ষমতার অপব্যবহার বা অবৈধ সম্পদ সঞ্চয়ের রাজনীতির বাইরে থেকেও দায়িত্ব পালন করা সম্ভব।’’ তবে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘‘দেশে সত্য বললে অনেক সময় সেটিকেই অপরাধ হিসেবে দেখা হয়, আর যত বেশি স্বচ্ছতা দেখানো হয়, তত বেশি প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়—যেখানে বিলাসবহুল জীবনযাপনকারী অনেক রাজনীতিবিদের ক্ষেত্রে প্রশ্নই ওঠে না।’’

রাজনীতি বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর