ঢাকা, ২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার, ২০২৬ || ১২ চৈত্র ১৪৩২
good-food

অতিরিক্ত চিন্তা ঝেড়ে ফেলার ৪ উপায়

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২০:৩৫ ২৬ মার্চ ২০২৬  

ছোট একটি ঘটনা। কিন্তু আপনি সেটিকে বারবার ভাবছেন, ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বিশ্লেষণ করছেন। একটু পরেই সেটি আর ছোট থাকে না, বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। অনেক মানুষের জীবনে এই অভ্যাসটি খুব পরিচিত। একে বলা যায় অতিরিক্ত ভাবনা বা সবকিছু বেশি বিশ্লেষণ করার প্রবণতা। 

এই অভ্যাসটি আসলে নীরবে মানুষের জীবনকে আটকে দেয়। ছোট বিষয়কে বড় করে তোলে, সহজ সিদ্ধান্তকে কঠিন বানায়। এমনকি ভালো সম্পর্ককেও নেতিবাচক করে ফেলতে পারে। কারণ, বারবার খুঁত খুঁজতে খুঁজতে সবকিছুই খারাপ মনে হতে শুরু করে।

যারা সবকিছু বেশি ভাবেন, তারা খুব কমই বর্তমান মুহূর্ত উপভোগ করতে পারেন। তাদের মনে সব সময় এক ধরনের নিরাপত্তার চাহিদা কাজ করে। তারা চায় সবকিছু আগে থেকে ঠিক করে রাখতে। কিন্তু এই চাহিদা আসলে ভয় থেকেই আসে। আর সেই ভয়ই তাদের থামিয়ে রাখে।

কোনো বিষয়ে চিন্তাভাবনা করা আর অতিরিক্ত বিশ্লেষণ করার মধ্যে অনেক বড় পার্থক্য রয়েছে। একজন বুদ্ধিমান মানুষ যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সব দিক বিবেচনা করেন ঠিকই তবে কাজ শেষ হলে তিনি সামনের দিকে এগিয়ে যান। অন্যদিকে যারা অতিরিক্ত চিন্তা করেন তারা ‘যদি এমন হয়’ বা ‘যদি ওইটা ঘটে’ এমন সব আশঙ্কায় ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকেন। এই স্থবিরতা আপনার জীবনের আনন্দ আর সুখ কেড়ে নেয়। এই অভ্যাস থেকে মুক্তি পাওয়ার চারটি কার্যকর উপায় নিচে আলোচনা করা হলো।

# যখন কোনো বিষয় নিয়ে খুব বেশি দুশ্চিন্তা হবে তখন নিজেকে কিছু প্রশ্ন করুন। যেমন পাঁচ বছর পর এই বিষয়টি কি আমার জীবনে সত্যিই কোনো গুরুত্ব রাখবে এই কাজটি না করলে আমি কী হারাব আর করলে কী পাব যদি আপনি দেখেন যে কাজটি করলে আপনার জীবনের উন্নতি হবে এবং পাওয়ার পাল্লা অনেক ভারী তবে আর দেরি না করে সামনে এগিয়ে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। দীর্ঘমেয়াদী লাভ লোকসানের হিসাব করলে তাৎক্ষণিক ছোটখাটো ভয়গুলো কেটে যায়।

# নাসার মহাকাশযান যখন উৎক্ষেপণ করা হয় তখন তারা একটি নির্দিষ্ট সময় বা লঞ্চ উইন্ডো ব্যবহার করে। সবকিছু বিশ্লেষণ করার পর তারা হয় সামনে আগায় নয়তো থেমে যায়। আপনার জীবনের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেও এমন একটি সময় সীমা ঠিক করুন। যারা সফল হতে পারেন না তারা সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য অনির্দিষ্টকাল সময় ব্যয় করেন। 

ছোটখাটো সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে যেমন রেস্তোরাঁয় গিয়ে কী খাবেন তা ঠিক করতে মাত্র ৩০ সেকেন্ড সময় নিন। মাঝারি বা বড় সিদ্ধান্তের জন্য কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিন সময় নিতে পারেন। তবে খেয়াল রাখবেন বিষয়টি যেন মাসের পর মাস ঝুলে না থাকে। সময় নির্দিষ্ট করে দিলে আপনার মস্তিষ্ক দ্রুত একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে বাধ্য হয়।

# অতিরিক্ত মানসিক চাপে থাকলে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। মন যখন শান্ত ও ফুরফুরে থাকে তখনই সেরা কাজগুলো করা সম্ভব। মানসিক চাপ কমাতে নিচের ছোট ছোট কৌশলগুলো মেনে চলতে পারেন। সকালটা তাড়াহুড়ো না করে শান্তভাবে শুরু করুন। প্রয়োজনে বিশ মিনিট আগে ঘুম থেকে উঠুন। জেগেই অন্তত তিনটি জিনিসের কথা ভাবুন যেগুলোর জন্য আপনি সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞ। এতে দিনটি ইতিবাচকভাবে শুরু হয়।

বড় কোনো কাজকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে নিন। একবারে সবটা না ভেবে ধাপে ধাপে আগালে চাপ কম মনে হয়।
কাজের মাঝে বিরতি নিন। অন্তত পাঁচ মিনিটের জন্য খোলা বাতাসে ঘুরে আসুন বা একটু প্রাণভরে হাসুন। এতে মস্তিষ্কের জড়তা কাটে। তথ্যের অতিরিক্ত চাপ সামলান। সারাদিন ইমেইল বা নোটিফিকেশন চেক না করে নির্দিষ্ট সময়ে এগুলো দেখুন।

# জীবনের সবকিছু আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকবে এমনটা ভাবা ভুল। আপনি কেবল আপনার প্রচেষ্টা এবং শক্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেন। যা আপনার হাতের বাইরে তা নিয়ে চিন্তা করা মানে হলো নিজের জীবনীশক্তি নষ্ট করা। যা পরিবর্তন করা সম্ভব নয় তা নিয়ে পড়ে থাকলে কেবল হতাশা আর ক্লান্তিই বাড়ে। তাই নিজের শক্তি কেবল সেইসব কাজে ব্যয় করুন যা আপনি সত্যিই পরিবর্তন করতে পারেন।

# অতিরিক্ত বিশ্লেষণ আমাদের স্বপ্নকে আটকে রাখে এবং জীবনকে স্থবির করে দেয়। সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় রাখা এবং মানসিক চাপমুক্ত থাকা আমাদের এই চক্র থেকে বের করে আনতে পারে। উপরের আলোচনা থেকে আপনি কি এমন কোনো একটি বিষয় খুঁজে পেয়েছেন যা আজ থেকেই আপনার জীবনে প্রয়োগ করতে চান হাতে মাত্র ৩০ সেকেন্ড সময় নিয়ে এখনই সিদ্ধান্তটি নিয়ে ফেলুন।

লাইফস্টাইল বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর