ঢাকা, ১৪ আগস্ট শুক্রবার, ২০২৬ || ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩
good-food
৩৭

আগামী সপ্তাহে ভারত সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী: এনডিটিভি

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৬:৫০ ১৪ আগস্ট ২০২৬  

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী সপ্তাহের দ্বিতীয়ার্ধে ভারত সফরে যেতে পারেন। দুই দেশের রাজধানীতেই ইতিমধ্যে এ সফরের জোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে নয়াদিল্লি ও ঢাকার সূত্রের বরাতে জানিয়ছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু ঠিক থাকলে এটি হবে তারেক রহমানের বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম ভারত সফর, যা দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে। 

সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। দুই নেতার মধ্যে বৈঠকে বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তাসহ দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত সূত্রমতে এনডিটিভি জানিয়েছে, দুই দিনের এই সফরকে দ্বিপাক্ষিক সম্পৃক্ততার দ্বার উন্মোচন হিসেবে পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে সফরের সময়সূচিসহ কর্মপরিকল্পনার বিস্তারিত বিষয় এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি।

ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তারেক রহমানকে নয়াদিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ভারত। এ ছাড়া সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকসের আউটরিচ অধিবেশনেও বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত।

প্রধানমন্ত্রী মোদি ও তারেক রহমানের প্রথম বৈঠক

প্রধানমন্ত্রী মোদি ও তারেক রহমানের বৈঠকের দিকে ঘনিষ্ঠ নজর রাখবে ঢাকা ও নয়াদিল্লি—দুই পক্ষই। তারেক রহমানের ক্ষমতায় ফিরে আসায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তন এসেছে। একই সঙ্গে ঢাকার সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতকেও নতুন করে কৌশল নির্ধারণ করতে হয়েছে। 

২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক গুরুতরভাবে টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। এরপর শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং তাকে ফেরত পাঠানোর জন্য বাংলাদেশের অনুরোধসহ বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে।

তবে নতুন বিএনপি সরকার জানিয়েছে, তারা ভারতের সঙ্গে কাজ করতে চায়। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগও ফের বাড়ার কিছু লক্ষণ দেখা গেছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এপ্রিলে নয়াদিল্লি সফর করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন।

এছাড়া ১০ আগস্ট ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক কিভাবে উন্নত করা যায় তা নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। 

বড় ইস্যু: শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের অনুরোধ

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। এরপর থেকে তিনি ভারতেই অবস্থান করছেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশের একটি ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর ঢাকা আনুষ্ঠানিকভাবে নয়াদিল্লির কাছে তাকে প্রত্যর্পণের দাবি জানায়। ভারত জানিয়েছে, যথাযথ আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

চলতি মাসের শুরুতে নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে ভার্চুয়ালভাবে কথা বলার পর শেখ হাসিনাকে ঘিরে বিতর্ক আবারও সামনে আসে। এ ঘটনায় ঢাকার পক্ষ থেকে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলা হয়, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য ভারতের মাটি ব্যবহার করা উচিত নয়। তবে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজনের সঙ্গে ভারতের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা ছিল না বলে নয়াদিল্লি জানিয়েছে।

সম্প্রতি ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠকেও শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। এই বিষয়টি নিয়ে বিরোধের কারণে বৃহত্তর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেজন্য সে জন্য দুই দেশের সরকারকেই আলোচনার পথ খুঁজে বের করতে হবে।

পানি, বাণিজ্য ও সীমান্ত ইস্যু

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সমাধানের অপেক্ষায় থাকা বাস্তব সমস্যার তালিকাও দীর্ঘ। আশা করা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরে আলোচনায় বাণিজ্য ও ট্রানজিট, জ্বালানি সহযোগিতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং যোগাযোগব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে।

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘ স্থলসীমান্ত এবং শক্তিশালী অর্থনৈতিক ও পরিবহন সংযোগ রয়েছে। ফলে রাজনৈতিক সম্পর্কের উন্নতি হলে এসব ক্ষেত্রেও তার উষ্ণতা দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। 

দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় পানি বন্টন ইস্যুটিও গুরুত্ব পেতে পারে। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় ঘনিয়ে আসার কারণে তা নবায়ন নিয়ে আলোচনার বিষয়টির ওপরে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। 

বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক বিষয়েও ভারতের কাছ থেকে আরও সহযোগিতা চেয়েছে ঢাকা। বাংলাদেশের সঙ্গে একটি স্থিতিশীল সম্পর্ক রক্ষায় নয়াদিল্লিরও স্বার্থ রয়েছে। এর কারণ শুধু দুই দেশের অভিন্ন সীমান্ত নয়, বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে দেশটির যোগাযোগও এর সঙ্গে জড়িত।

তাৎপর্যপূর্ণ সফর

দুইপক্ষের সম্পর্ক কিছুটা হলেও স্বাভাবিক পর্যায়ে উন্নীত করতে যখন দুই দেশকেই আগ্রহী মনে হচ্ছে ঠিক এমন একটা সময়েই এ সফরের পরিকল্পনা করা হয়েছে। 

যদিও এ সফরের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সব বিরোধের সমাধান হয়ে যাবে এমনটা প্রত্যাশা করা হচ্ছে না। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ, পানি বণ্টন এবং বাণিজ্য ও সীমান্তসংক্রান্ত কিছু বিষয় নিয়ে আরও আলোচনা ও দরকষাকষির প্রয়োজন হবে। তবে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও তারেক রহমানের সরাসরি আলোচনা এসব মতপার্থক্য নিরসনে একটি রাজনৈতিক যোগাযোগের পথ তৈরি করতে পারে।

এছাড়া সফরের সুবাদে তারেক রহমান ভারতীয় নের্তৃত্বের কাছে ঢাকার অবস্থান সরাসরি  তুলে ধরার একটি সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী মোদির জন্যও এটি নতুন বাংলাদেশ সরকারের কাছে নয়াদিল্লির প্রত্যাশাগুলো তুলে ধরার একটি সুযোগ তৈরি হবে।

সফরের তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু এগোলে আগামী সপ্তাহে তারেক রহমানের দিল্লি সফর ভারত ও বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রথম বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।

এই মুহূর্তে দুই দেশকে আবার আলোচনার টেবিলে ফেরানোকেই মূল লক্ষ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ ও কঠিন ইস্যুগুলো যাতে সামগ্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ছাপিয়ে না যায়, সে বিষয়টিও নিশ্চিত করতে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর