ঢাকা, ১২ মার্চ বৃহস্পতিবার, ২০২৬ || ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২
good-food

ইতিকাফে নারীরা কী করতে পারবেন, কী পারবেন না

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২১:১৫ ১১ মার্চ ২০২৬  

রমজানের শেষ দশকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো ইতিকাফ। ইতিকাফ শব্দের অর্থ অবস্থান করা বা নিজেকে আটকে রাখা।দুনিয়ার সব ব্যস্ততা ও কোলাহল ছেড়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং শবে কদরের তালাশে একটি নির্দিষ্ট স্থানে ইবাদতের নিয়তে অবস্থান করাকেই ইতিকাফ বলে।

পুরুষদের মতো নারীদের জন্যও ইতিকাফ অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি সুন্নতে মুয়াক্কাদা কিফায়া আমল। উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ইন্তেকালের পর তাঁর স্ত্রীগণও নিয়মিত ইতিকাফ করতেন। তবে নারীদের ইতিকাফের নিয়মকানুন পুরুষদের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন। ইতিকাফের সময় নারীদের বেশ কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকতে হয়।

নারীরা কোথায় ইতিকাফ করবেন?

পুরুষরা মসজিদে ইতিকাফ করলেও নারীরা নিজ গৃহের একটি নির্দিষ্ট কক্ষে বা ঘরের এক কোণে পর্দাঘেরা নির্জন স্থানে ইতিকাফ করবেন। এই নির্ধারিত স্থানটিই ইতিকাফ চলাকালীন তাদের জন্য 'মসজিদ' হিসেবে গণ্য হবে।

ইতিকাফে নারীরা যা করতে পারবেন (করণীয়):

ইবাদতে মগ্ন থাকা: পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ, সুন্নত ও নফল নামাজের পাশাপাশি তারাবিহ এবং তাহাজ্জুদ আদায় করা।

তিলাওয়াত ও জিকির: বেশি বেশি কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার, তাসবিহ পাঠ, দরুদ শরিফ পড়া এবং ইস্তেগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) করা।

দ্বীনি জ্ঞান অর্জন: ইসলামি বই পড়া, কোরআনের তাফসির পড়া এবং দ্বীনি মাসআলা জানা।

দৈনন্দিন কাজ: ইতিকাফের জন্য নির্ধারিত স্থানে বসেই খাওয়া-দাওয়া, ঘুমানো এবং প্রয়োজনীয় বিশ্রাম নেওয়া। চুল আঁচড়ানো বা তেল ব্যবহার করা যাবে।

সাংসারিক নির্দেশনা: প্রয়োজনে ইতিকাফের স্থানে বসেই পরিবারের অন্য সদস্যদের সাংসারিক কাজের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া যাবে (তবে এতে যেন ইবাদতের ব্যাঘাত না ঘটে বা অহেতুক গল্পগুজব না হয়)।

জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া: প্রাকৃতিক প্রয়োজন (প্রস্রাব-পায়খানা) এবং ফরজ গোসলের জন্য ইতিকাফের স্থান থেকে বের হওয়া যাবে। কাজ শেষ হওয়া মাত্রই আবার নির্ধারিত স্থানে ফিরে আসতে হবে।

খাবার সংগ্রহ: ইতিকাফের স্থানে খাবার পৌঁছে দেওয়ার মতো কেউ না থাকলে, নিজে গিয়ে খাবার নিয়ে আসা বা খুব দ্রুত রান্না করে নিয়ে আসা জায়েজ আছে (তবে তা শুধু একান্ত নিরুপায় হলেই)।

ইতিকাফে নারীরা যা করতে পারবেন না (বর্জনীয়):

বিনা প্রয়োজনে স্থান ত্যাগ: শরিয়তসম্মত বা মানবিক কোনো ওজর (যেমন: ওয়াশরুমে যাওয়া) ছাড়া ইতিকাফের স্থান থেকে এক মুহূর্তের জন্যও বের হওয়া যাবে না। বিনা প্রয়োজনে ওই নির্দিষ্ট গণ্ডির বাইরে পা রাখলে ইতিকাফ ভেঙে যাবে।

অহেতুক কথাবার্তা: ইতিকাফের স্থানে বসে দুনিয়াবি আড্ডায় মেতে ওঠা, পরনিন্দা বা গিবত করা সম্পূর্ণ নিষেধ।

ডিজিটাল আসক্তি: বিনা প্রয়োজনে মোবাইল ফোন ব্যবহার করা, সোশ্যাল মিডিয়া চালানো বা বিনোদনমূলক কিছু দেখা ইতিকাফের মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী।

গৃহস্থালি কাজ: ঘরের সাধারণ কাজকর্ম, যেমন— কাপড় ধোয়া, ঘর মোছা, ঘরবাড়ি গোছানো বা স্বাভাবিক রান্নাবান্নার কাজে অংশ নেওয়ার জন্য স্থান ত্যাগ করা যাবে না।

সাধারণ গোসল: শুধু শরীর ঠান্ডা করার জন্য বা প্রতিদিনের সাধারণ গোসলের জন্য ইতিকাফের স্থান থেকে বের হওয়া যাবে না। তবে খুব গরম লাগলে ইতিকাফের স্থানে বসে ভেজা তোয়ালে দিয়ে শরীর মুছে নেওয়া যাবে।

বিশেষ মেলামেশা: ইতিকাফ অবস্থায় স্বামী-স্ত্রীর বিশেষ মেলামেশা কোরআনের নির্দেশ অনুযায়ী সম্পূর্ণ হারাম। এতে ইতিকাফ সঙ্গে সঙ্গে বাতিল হয়ে যায়।

নারীদের বিশেষ মাসআলা (হায়েজ বা মাসিক):

ইতিকাফ অবস্থায় যদি কোনো নারীর মাসিক (হায়েজ) শুরু হয়ে যায়, তবে তার ইতিকাফ ভেঙে যাবে। তখন তিনি ইতিকাফের স্থান থেকে বের হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করবেন। পরবর্তীতে পবিত্র হওয়ার পর তাকে শুধু ভেঙে যাওয়া দিনের (একদিনের) ইতিকাফ রোজা রেখে কাজা করে নিতে হবে, পুরো দশ দিনের নয়।

ইতিকাফ হলো আল্লাহর সঙ্গে বান্দার একান্ত সময় কাটানোর এক সুবর্ণ সুযোগ। সংসার ও দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে ১০টি দিন শুধু রবের ধ্যানে মগ্ন থাকলে মুমিনের হৃদয় প্রশান্ত হয়। নারীদের উচিত আগে থেকেই সাংসারিক কাজ গুছিয়ে ইতিকাফের প্রস্তুতি নেওয়া, যাতে এই পবিত্র দিনগুলোতে আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমত ও মাগফিরাত লাভ করা যায় এবং হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ রজনী 'লাইলাতুল কদর' নসিব হয়।