ঢাকা, ১৯ জুন শুক্রবার, ২০২৬ || ৫ আষাঢ় ১৪৩৩
good-food
৫০

ইরান যুদ্ধে ২৫ নয়, যুক্তরাষ্ট্রের খরচ ৪০ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলার

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৪:২৭ ৩০ এপ্রিল ২০২৬  

দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এ যুদ্ধে উভয়পক্ষেরই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও ব্যয় হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগন জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মোট ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ২ হাজার ৫০০ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে অবগত রয়েছেন এমন একাধিক সূত্র বলছে, এই খরচের পরিমাণ আরো বেশি হবে। তাদের মতে, ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সার্বিক খরচ দাঁড়াবে ৪০ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলার বা ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার কোটি ডলার। 

নাম প্রকোশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকটি সূত্র যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে ইরান যুদ্ধে মার্কিন ব্যয় নিয়ে কথা বলেছেন। এর মধ্যে কমপক্ষে তিনটি সূত্র জানিয়েছে, পেন্টাগন ইরান যুদ্ধের যে ব্যয় দেখিয়েছে সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক স্থাপনা পুননির্মাণ এবং ধ্বংস হয়ে যাওয়া সামরিক সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনের ব্যয় যুক্ত করা হয়নি। এসব যোগ করলে মোট খরচ ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার কোটি ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।

যুদ্ধের শুরুর দিকে ইরানের হামলায় মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলে কমপক্ষে ৯টি মার্কিন সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাহরাইন, কুয়েত, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও কাতারে অবস্থিত এসব ঘাঁটি হামলার শিকার হয় বলে সিএনএনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাডার সিস্টেম ও সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস হয়েছে। এর মধ্যে জর্ডানে মোতায়েন করা মার্কিন থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রাডার এবং ইউএইর দুটি স্থাপনায় থাকা অনুরূপ রাডার সিস্টেমও ধ্বংস হয়েছে। সৌদি আরবের একটি বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর ই থ্রি সেন্ট্রি বিমানও ধ্বংস হয়েছে।

পেন্টাগনের হিসাবরক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা জুলস জে হার্স্ট তৃতীয়বারের মতো বুধবার হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটিকে জানান, তিনি যে ২ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের হিসাব দিয়েছেন সেটার বেশিরভাগই ব্যয় হয়েছে গোলাবারুদে। তবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ এই হিসাবের মধ্যে ঘাঁটি মেরামতের খরচ অন্তর্ভুক্ত আছে কি না—সে বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

পেন্টাগনের এ বিষয়ে সিএনএন জানতে চাইলে সেখান থেকেও এখন পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। 

এদিকে ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেসম্যান রো খান্না পেন্টাগনের হিসাবকে ‘সম্পূর্ণ ভুল’ বলে অভিহিত করেন। তিনি শুনানিতে বলেন, “পেন্টাগনের দেওয়া ব্যয়ের পরিমাণ বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এর আগে পেন্টাগন কংগ্রেসকে জানিয়েছিল, যুদ্ধের প্রথম ৬ দিনেই প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে। এছাড়া চলমান যুদ্ধ পরিচালনার জন্য অতিরিক্ত ২ হাজার কোটি ডলারের বেশি সামরিক বাজেট অনুমোদনের আবেদন করা হয়েছে। 

গত সপ্তাহে বাজেট ব্রিফিংয়ে পেন্টাগন হিসাবরক্ষক হার্স্ট জানান, বিদেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত হিসাব এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। এগুলো কিভাবে পুন:নির্মাণ করা হবে তার ওপর ভিত্তি ব্যয়ের পরিমাণ নির্ভর করবে। 

তিনি বলেন, “এসব ঘাঁটি পুনর্গঠনের সম্ভাব্য খরচ ২০২৭ অর্থবছরের জন্য পেন্টাগনের প্রস্তাবিত ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। কারণ ভবিষ্যতে কিভাবে স্থাপনাগুলো পুন:নির্মাণ করা হবে সেসব নিয়ে এখনো হিসাব-নিকাশ চলছে।” 

হার্স্ট এ প্রসঙ্গে আরো বলেন, “আমাদের মিত্র দেশগুলোরও এই পুনর্গঠন ব্যয়ে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই আমাদের ঠিক কি পরিমাণ অর্থ খরচ করতে হবে তার নির্ভুল হিসাব এখনো আমাদের কাছে নেই।”

উল্লেখ্য, ২০২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট বর্তমানের তুলনায় প্রায় ৪২ শতাংশ বেশি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।