ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার, ২০২০ || ৭ আশ্বিন ১৪২৭
good-food
৯১

করমজলে ৪৪ ডিমে ফুটেছে ৪ ছানা

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ০৯:২৯ ৬ সেপ্টেম্বর ২০২০  

সুন্দরবনের একমাত্র বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র করমজলের কুমির পিলপিলের ৪৪টি ডিমে মাত্র চারটি ছানা ফুটেছে। শনিবার সকালে নতুন ইনকিউবেটরে রাখা ১১টি ডিম থেকে মাত্র চারটি বাচ্চা জন্ম নেয়। ৪৪টি ডিম থেকে মাত্র চারটি কুমির ছানা ফোটায় হতাশা প্রকাশ করেছেন প্রাণীদের রক্ষণাবেক্ষণে নিয়োজিত বনকর্মীরা। তবে প্রাণীসম্পদ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বয়স বেড়ে যাওয়ায় করমজলের মা কুমির দুটির ফার্টিলিটি (বাচ্চা উৎপাদনের ক্ষমতা) অনেক কমে গেছে। এর আগে এ বছরের ১২ জুন দুপুরে প্রজনন কেন্দ্রের পুকুরপাড়ে নিজের বাসায় ৪৪টি ডিম দেয় পিলপিল। ডিমগুলোর মধ্যে ২১টি ডিম পিলপিলের নিজে বাসায়, ১২টি পুরনো ইনকিউবেটরে এবং ১১টি নতুন ইনকিউবেটরে রেখে বাচ্চা ফোটানোর চেষ্টা করেন বন কর্মীরা। এর মধ্যে নতুন ইনকিউবেটরে রাখা ১১টি ডিমের মধ্যে চারটি ডিমে বাচ্চা ফুটেছে। এছাড়া এ বছরের ২৯ মে অন্য কুমির জুলিয়েট ৫২টি ডিম পেরেছিল। সেগুলোর মধ্যে ১৪টি ডিম জুলিয়েটের বাসায়, ২৬টি পুরনো ইনকিউবেটরে এবং ১২টি নতুন ইনকিউবেটরে রাখা হয়েছিল। কিন্তু জুলিয়েটের ৫২টি ডিমে কোনো বাচ্চা ফোটেনি।

আজাদ কবির বলেন করমজল দেশের একমাত্র সরকারি কুমির প্রজনন কেন্দ্র। এখান প্রজননের জন্য দুটি মা কুমির রয়েছে। আমরা খুব যত্নের সঙ্গে এ কুমিরের প্রজননের চেষ্টা করি। কুমির ডিম পাড়ার পর থেকে বাচ্চা ফোটানোর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। কিন্তু জুলিয়েট ও পিলপিল দুটি কুমিরেরই অনেক বয়স হয়েছে। ফলে তাদের ডিমে ফার্টিলিটি হার খুবই কম।

তিনি আরো বলেন, এখানে বর্তমানে পুরনো যে ইনকিউবেটর রয়েছে, সেগুলো অনেক সেকেলে। নতুন যে ইনকিউবেটরটি তৈরি করা হয়েছে, তার ধারণক্ষমতা মাত্র ২৪টি। এ ধরনের আরো দু-একটি ইনকিউবেটর তৈরি করা গেলে সফলতা এলেও আসতে পারে।

বাগেরহাট জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. লুত্ফর রহমান বলেন, কুমির খুবই সেনসিটিভ প্রাণী। এর ডিম থেকে বাচ্চা ফোটাতে অনেক কিছু মানতে হয়। আর মা কুমির পূর্ণবয়স্ক হওয়ার পর থেকে বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তাদের বাচ্চা উৎপাদনক্ষমতা কমে যায়।