ঢাকা, ১৯ জুন বুধবার, ২০২৪ || ৫ আষাঢ় ১৪৩১
good-food
৬০

টাইটান ট্র্যাজেডির পর টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ দেখতে যাচ্ছেন আরেকজন

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ০২:২৮ ৩১ মে ২০২৪  

এক বছর আগের স্মৃতি এখনও টাটকা। যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ ও অভিযান সংস্থা ‘ওশানগেট’-এর সাবমার্সিবল যানে চেপে আটলান্টিকের গভীরে টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ দেখতে গিয়েছিলেন একদল ধনকুবের। সমুদ্রের তলদেশে পানির স্তরের চাপে যানের ভেতরের দিকে প্রবল অন্তর্মুখী চাপ তৈরি হয়। এর জেরে ‘ইমপ্লোশন’ ঘটে। তাতে দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া যানের ভেতরে নৃশংসভাবে মৃত্যু হয় তাদের।

 

তবু আবার একই অভিযানে নামতে যাচ্ছেন মার্কিন শিল্পপতি ল্যারি কন্নর। বুধবার (২৯ মে) এই দুঃসাহসিক অভিযানের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। প্রভাবশালী ইউএস সাময়িকী ফোর্বসের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।

 

কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ডের উপকূলের কাছে উত্তর আটলান্টিকের গভীরে পড়ে রয়েছে টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ। গত বছরের জুনে সেটি দর্শনে পাড়ি দিয়েছিল ডুবোজাহাজ টাইটান। যানটিতে ছিলেন খোদ ওশানগেট সংস্থার সিইও স্টকটন রাশ, টাইটানিক বিশেষজ্ঞ তথা ফরাসি সমুদ্র-অভিযাত্রী পল-অঁরি নারজ়োলে, ব্রিটিশ ব্যবসায়ী হামিশ হারডিং এবং শাহজাদা দাউদ নামের পাকিস্তানি-ব্রিটিশ ব্যবসায়ী ও তার ছেলে সুলেমান।

 

মূল জাহাজ এমভি পোলার প্রিন্স থেকে সমুদ্রে ঝাঁপ দেওয়ার প্রায় পৌনে ২ ঘণ্টা পরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় টাইটান। ৪ দিন পরে টাইটানিকের কাছে এক জায়গায় সেটির ছিন্নবিচ্ছিন্ন অংশ পাওয়া যায়।

 

ওহায়োর শিল্পপতি ও ধনকুবের ল্যারি কন্নরের দাবি, টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষের কাছে পৌঁছনো সম্ভব। শুধু সেজন্য যথাযথ ইঞ্জিনিয়ারিং প্রয়োজন।

 

কন্নর হলেন ‘দ্য কন্নর গ্রুপ’-এর মালিক। তার সম্পত্তির পরিমাণ ২০০ কোটি ডলারের কাছাকাছি। পেশায় ব্যবসায়ী হলেও নেশায় একজন অভিযাত্রী। এর আগে মারিয়ানা খাত অভিযানে গিয়েছিলেন তিনি। ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনও ঘুরে এসেছেন।

 

গত বছর টাইটানের ঘটনার পরে ওশানগেটের প্রতিযোগী সংস্থা ‘ট্রাইটন সাবমেরিন’-এর সিইও প্যাট্রিক লাহে প্রকাশ্যে সংস্থাটির নিন্দা করেছিলেন। ওশানগেটের মৃত সিইও রাশকে ‘নরখাদক’ বলে আক্রমণও করেছিলেন তিনি।

 

তখনই প্যাট্রিকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন কন্নর। প্যাট্রিক দাবি করেছিলেন, টাইটানের থেকে ভালো সাবমার্সিবল তৈরি করে দেখাবেন। তিনি বলেন, আমাদের এমন একটা সাবমেরিন তৈরি করতে হবে, যা টাইটানিক যেখানে রয়েছে, সেই ৩৮০০ মিটার গভীরতায় নিরাপদে পৌঁছতে পারবে।

 

প্যাট্রিক ও কন্নর একসঙ্গে পরিকল্পনা করছেন। কন্নর বলেন, আমি গোটা পৃথিবীকে দেখিয়ে দিতে চাই, সমুদ্র ভয়ানক। কিন্তু একই সঙ্গে সুন্দর ও উপভোগ্য।