ঢাকা, ১৮ অক্টোবর শুক্রবার, ২০১৯ || ২ কার্তিক ১৪২৬
LifeTv24 :: লাইফ টিভি 24
৯৮

সাংবাদিকদের নিবন্ধন দরকার

নতুন ওয়েজ বোর্ডে চাকরিচ্যুতির উস্কানি

প্রকাশিত: ২৩:১০ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯  


আইনজীবীদের মত সাংবাদিকদেরও নিবন্ধন থাকা দরকার। আইনজীবীরা যেভাবে বার কাউন্সিলে নিবন্ধন নেন, তেমনই প্রেস কাউন্সিল সাংবাদিকদের নিবন্ধন দিতে পারে।

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘গণমাধ্যমের বিদ্যমান সঙ্কট ও সাংবাদিকদের স্বার্থ সুরক্ষা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় উঠে আসে এ প্রস্তাব।
অনুষ্ঠানে তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মিজান উল আলম বলেন, ‘সাংবাদিকদের রেজিস্ট্রেশন করা উচিত। তেমনই সাংবাদিকদের সংজ্ঞা আরো সুনির্দিষ্ট করা উচিত। কারণ সোশ্যাল মিডিয়ার এ যুগে আমিও সাংবাদিক। ফেসবুক চালাই, সংবাদ পরিবেশন করি। যদিও প্রেস কাউন্সিলে সাংবাদিকদের সংজ্ঞা নির্ধারণ করা আছে, তারপরও সেটা আরো সৃনির্দিষ্ট করা উচিত মনে করি।’
তথ্য মন্ত্রণালয়ের এই অতিরিক্ত সচিব বলেন, গণমাধ্যমবান্ধব সরকার সাংবাদিকদের কল্যাণের জন্য গণমাধ্যম আইন করছে। এটি এখন আইনমন্ত্রণালয়ে ভেটিং এ আছে। আইনটি বাস্তবায়িত হলে পত্রিকার জন্য, ইলেকট্রনিক মিডিয়া কিংবা নিউ মিডিয়া, অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বেতার ইত্যাদির জন্য আলাদা আলাদা ওয়েজবোর্ড গঠন করা হতে পারে। শ্রম আইন-২০০৬ ধারা মোতাবেক শুধু পত্রিকার ওয়েজবোর্ড এর কথা বলা হয়েছে। সেখানে ইলেকট্রনিক মিডিয়া নেই। তাই এই আইন থেকে বেরিয়ে যুগোপযোগী গণমাধ্যম আইন করা হয়েছে। এটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তিনি বলেন, এ আইনের সঙ্গে আগের শ্রম আইনের কোন বিষয় নিয়ে সাংঘর্ষিক আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এজন্য একটি মিনি কমিটি রয়েছে। সেটি এখন কাজ করছে।

সাংবাদিকদের স্বার্থ সুরক্ষা পরিষদ আয়োজিত এই গোল টেবিল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ডিইউজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস আফ্রাদ।
আলোচনায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ও অবজারভার পত্রিকার সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী, সিনিয়র সাংবাদিক অজয় দাশ গুপ্ত, বিএফইউজের মহাসচিব শাবান মাহমুদ, ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী, জাতীয় প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি ওমর ফারুক, বিএফইউজের সাবেক মহাসচিব আবদুল জলিল ভুঁইয়া, সাবেক ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব জাকারিয়া কাজল,জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক স্বপন সাহা, বিটিভির উপ-মহাপরিচালক (বার্তা) অনুপ খাস্তগীর, বিএফইউজের নির্বাহী কমিটির সদস্য খায়রুজ্জামান কামাল, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ইলিয়াস হোসেন, ডিইউজের সাবেক সভাপতি কাজী রফিক, ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের (বিজেসি) ট্রাস্টি রাশেদ আহমেদ, ডিআরইউর সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু, লেবার রাইটস সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি কাজী আবদুল হান্নান, বাংলাদেশ সাংবাদিক অধিকার ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান, খাইরুল আলম, অমীয় ঘটক পুলক। 

আলোচনায় সংবাদপত্র ও বার্তা সংস্থার কর্মীদের জন্য নবম ওয়েজ বোর্ড রোয়েদাদ ঘোষণা করা হলেও তা সাংবাদিক ও কর্মচারিদের স্বার্থের অনুকুলে নয় বলে ক্ষোভ জানান  সাংবাদিক নেতারা। অবিলম্বে তা সংশোধনের দাবি জানান তারা। 

আলোচকরা সরকারের কাছে এ দাবি জানিয়ে আরও বলেন, নতুন ওয়েজ বোর্ড রোয়েদাদে সংবাদমাধ্যম মালিকদের স্বার্থ সংরক্ষণের পাশাপশি তাদেরকে চাকুরিচ্যুতির প্রতি উস্কানি দেয়া হয়েছে। এতে গণমাধ্যমে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে, উদ্বেগ-উৎকন্ঠা বিরাজ করছে। এরইমধ্যে, বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে ঢালাও চাকরিচ্যুতি ও ছাঁটাই শুরু হয়েছে।
ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকেরা কি চাইছেন, তা ইউনিয়নের নেতাদের উপলব্ধি করতে হবে। সাধারণ সদস্যদের প্রত্যাশা সংরক্ষণ না করা গেলে জবাবদিহি করতে হবে। ইউনিয়ন এসব বিষয় নিয়ে আলোচনার আয়োজন না করলেও উদ্যোগ কিন্তু বসে নেই। 
তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত গণমাধ্যম কর্মী আইনে ইলেকট্রনিক মিডিয়াকে স্বীকৃত দেওয়া হবে এবং সাংবাদিকদের স্বার্থ সংরক্ষণেও একটি আইনী কাঠামো হবে। সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। সত্যিকার সাংবাদিকরা যেন সাহায্য পান, তা নিশ্চিত করতে হবে। 
তিনি বলেন, সাংবাদিকদের ও কর্মীদের বাদ দিয়ে সংবাদপত্র বা ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বিকাশ সম্ভব নয়। অধিকার নিশ্চিত করতে না পারলে অসন্তোষ সৃষ্টি হবে এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় অসন্তোষের ছাপ পড়বে। এ শিল্পে মালিকরা যেন বেতনভাতা দিতে পারেন সরকারকেও সেরকম সরকারি প্রণোদনার ব্যবস্থা করতে হবে। টেলিভিশন ও সংবাদপত্রের অনেক লাইসেন্স দেওয়া যেমন আনন্দের বিষয়, তেমনি বেতন-ভাতা নিয়ে সংবাদ কর্মিদের মধ্যে যদি হতাশার সৃষ্টি হয় তাহলে শিল্পে অস্থিরতা বিরাজ করবে।
আব্দুল জলিল ভূইয়া বলেন, বর্তমানে যে সংকট এ ধরণের সংকট অতীতে কখনও দেখিনি। সাংবাদিকতায় যে ধার ছিল সেই ধারও আর নেই। নতজানু সাংবাদিকতা হচ্ছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের নিজেকে সাংবাদিক দাবি করার পরে যে নতুন ওয়েজবোর্ড দিয়ে সাংবাদিকদের অধিকার হরণ করলেন, এ বিষয়ে ইউনিয়নের প্রতিবাদ করা উচিত ছিল। 
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের সংগঠন ওয়েজবোর্ড নতুন রোয়েদাদকে যখন অভিনন্দন জানায়, তখন লজ্জা পাই। এতো নিচু পর্যায়ে তারা নিয়ে গেল। বর্তমানে সাংবাদিকদের ইউনিয়ন যে সক্রিয় আছে, আমার কাছে তা মনে হয় না। অথর্ব ইউনিয়ন দিয়ে কিছু হচ্ছে না।
বিএফইউজের সাবেক মহাসচিব ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি ওমর ফারুক বলেন, নতুন মজুরী কাঠামোর সুপারিশে গ্র্যাচুইটি দুইটির পরিবের্তে একটি করার মাধ্যমে চাকরিচ্যুতি আরও সহজ করা হয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের ওয়েজবোর্ড ঘোষিত রোয়েদাদ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের এবং আয়কর প্রদানের অনুচ্ছেদ বাতিলের দাবি জানান।
বাংলাদেশ সম্প্রচার সাংবাদিক কেন্দ্র (বিজেসি) ট্রাস্টি রাশেদ আহমেদ বলেন, টেলিভিশনগুলোর জন্য একটি নিয়ম থাকা দরকার। অনেক টেলিভিশনে বেতন হয় না, অন্যায়ভাবে চাকুরিচ্যুত করা হচ্ছে। টেলিভিশনের জন্য একটি ওয়েজবোর্ড গঠনের দাবি জানাই, এখনও পর্যন্ত এর কোনও ভিত্তি তৈরি হতে না দেখে আমরা হতাশ হই।
অনুপ কুমার খস্তগীর বলেন, বর্তমান সাংবাদিক ইউনিয়ন অথর্ব, যতদিন পর্যন্ত সঠিক নেতৃত্ব না আসবে, ততদিন অধিকার আদায় হবে না। সাংবাদিকদের ইউনিয়নের অধিকার নিয়ে কোন ডিবেট হয় না, পলিসি মেকারদের সাথে আলোচনা হয় না। মাথা উঁচু করার মত সাংবাদিকতা না থাকলে দেশ রসাতলে যাবে।
কাজী রফিক বলেন, তোয়াজ তোষামোদির সীমা ইউনিয়ন নেতারা লংঘন করেছেন । তাদের আরো সোচ্চার হতে হবে, নাহলে আপনারা নেতৃত্ব ছেড়ে দিন।
শাবান মাহমুদ বলেন, এ আন্দোলনে পূর্ন সমর্থন আছে। নোয়াব সাংবাদিকদের স্বার্থ ধ্বংস করতে যে অবস্থান নিয়েছে, তার জোরালো প্রতিবাদ করতে হবে। 
তিনি আরও বলেন, আমাদের সমালোচনা হবে সেটা মেনেই নেতৃত্বে এসেছি। মুখে যাই বলেন নেতা নির্বাচনের সময় বিবেকের রায়ে নেতা নির্বাচিত হয়। প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে আমাদের গালি দিয়েছেন,আমাদের সামনে আমাদের নেতাদের হুমকি দেন। যদি সাহস ও শক্তি থাকে তাহলে তাহলে আগাম নির্বাচনের যে হুমকি দিলেন তা স্বাগতম।
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী বলেন, গণমাধ্যমের বিদ্যমান সংকটে পুরো সাংবাদিক কমিউনিটি জড়িত। নবম ওয়েজবোর্ড ঘোষিত রোয়েদাদ সাংঘাতিক রকমের বাজে হয়েছে, সাংবাদিকতা সংকুচিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে রাষ্ট্র।
 


এই বিভাগের আরো খবর