ঢাকা, ১৫ মার্চ রোববার, ২০২৬ || ১ চৈত্র ১৪৩২
good-food

না খেয়েও বাড়তে পারে ব্লাড সুগার, জেনে নিন ৪ কারণ

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ১৮:২৬ ১৫ মার্চ ২০২৬  

অনেকেই মনে করেন, মিষ্টি বা বেশি কার্বোহাইড্রেট খাওয়ার পরই শুধু রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ে। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি এতো সরল নয়।

চিকিৎসকদের মতে, এমন কিছু দৈনন্দিন অভ্যাস আছে, যেগুলোর কারণে খাবার না খেয়েও শরীরে ব্লাড সুগার বাড়তে পারে।

কানাডার ন্যাচারোপ্যাথিক চিকিৎসক ডা. র‍্যাচেল ভং সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন, ঘুমের ঘাটতি, মানসিক চাপ, দীর্ঘ সময় না খাওয়া এমনকি সকালে খালি পেটে কফি পান—এসব কারণেও রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. চিরাগ ট্যান্ডন।

নিচে এমন চারটি অভ্যাস তুলে ধরা হলো, যেগুলো অজান্তেই ব্লাড সুগার বাড়াতে পারে।

১. পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া

ঘুমের অভাব শরীরের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে সরাসরি প্রভাবিত করে।

ডা. ট্যান্ডনের মতে, প্রতিদিন ছয় ঘণ্টার কম ঘুম হলে সকালে না খেয়েও ফাস্টিং ব্লাড সুগার বেড়ে যেতে পারে।

কারণ, ঘুম কম হলে শরীরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়। ফলে রক্তে থাকা গ্লুকোজ সহজে কোষে প্রবেশ করতে পারে না এবং দীর্ঘ সময় রক্তেই থেকে যায়।

এ ছাড়া ঘুমের ঘাটতি শরীরে কর্টিসল হরমোন বাড়িয়ে দেয়। এই হরমোন লিভারকে সংকেত দেয় রক্তে অতিরিক্ত গ্লুকোজ ছেড়ে দিতে।

তাই চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো- প্রতিদিন অন্তত ৭–৮ ঘণ্টা ভালো ঘুম নিশ্চিত করা উচিত।

ঘুমের অভাব শরীরের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে সরাসরি প্রভাবিত করে।

২. মানসিক চাপ

স্ট্রেস বা মানসিক চাপও ব্লাড সুগার বাড়ানোর বড় কারণ।

যখন মানুষ চাপের মধ্যে থাকে, তখন শরীর কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিন নামের হরমোন নিঃসরণ করে। এগুলো শরীরকে ‘ফাইট অর ফ্লাইট’ অবস্থার জন্য প্রস্তুত করে।

এই হরমোনগুলো লিভারে জমা থাকা গ্লুকোজ দ্রুত রক্তে ছেড়ে দেয়, যাতে শরীর তাৎক্ষণিক শক্তি পায়। ফলে খাবার না খেলেও রক্তে শর্করা বেড়ে যেতে পারে।

দীর্ঘদিনের স্ট্রেস আবার ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সও বাড়িয়ে দিতে পারে। পাশাপাশি এটি ঘুমের সমস্যা বা শারীরিক কার্যকলাপ কমিয়ে দেয়—যা পরোক্ষভাবে ব্লাড সুগার বাড়ায়।

স্ট্রেস কমাতে নিয়মিত ব্যায়াম, মেডিটেশন, শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন এবং পর্যাপ্ত ঘুম খুবই কার্যকর।

৩. দীর্ঘ সময় না খাওয়া বা খাবার বাদ দেওয়া

বর্তমানে ওজন কমানোর জন্য ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং বেশ জনপ্রিয়। তবে এটি সবার জন্য সমানভাবে উপযোগী নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক সময় দীর্ঘ সময় না খেলে শরীর শক্তির ঘাটতি পূরণ করতে লিভারে জমা থাকা গ্লুকোজ রক্তে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। এতে উল্টো ‘রিবাউন্ড ব্লাড সুগার স্পাইক’ দেখা দিতে পারে।

৪. সকালে খালি পেটে কফি পান

অনেকের দিন শুরু হয় এক কাপ কফি দিয়ে। কিন্তু খালি পেটে কফি পান কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ব্লাড সুগার বাড়িয়ে দিতে পারে।

ক্যাফেইন সাময়িকভাবে শরীরের ইনসুলিন সংবেদনশীলতা কমিয়ে দেয়। ফলে কোষগুলো রক্ত থেকে গ্লুকোজ শোষণ করতে কিছুটা ধীর হয়ে যায়।

এ ছাড়া ক্যাফেইন কর্টিসলও বাড়াতে পারে, যা লিভার থেকে আরও গ্লুকোজ রক্তে ছাড়তে উৎসাহিত করে। যদি কফিতে চিনি, সিরাপ বা ফ্লেভারড ক্রিমার যোগ করা হয়, তাহলে সুগার বাড়ার সম্ভাবনা আরও বেশি হয়।

দীর্ঘক্ষণ না খেলে ‘রিবাউন্ড ব্লাড সুগার স্পাইক’ দেখা দিতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিমিত পরিমাণে ব্ল্যাক কফি সাধারণত ক্ষতিকর নয়। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করে কফি পান করা উচিত।

সংক্ষেপে বলা যায়, শুধু খাবার নয়, ঘুম, মানসিক অবস্থা, খাবারের সময়সূচি এবং কফির মতো সাধারণ অভ্যাসও রক্তে শর্করার মাত্রা প্রভাবিত করতে পারে।

লাইফস্টাইল বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর