ঢাকা, ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার, ২০২৬ || ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
good-food
৭

নিউটনের ঢের আগে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টের পান দা ভিঞ্চি!

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ২১:০০ ১৩ অক্টোবর ২০২৬  

প্লেগের প্রাদুর্ভাবের মুখে ইংল্যান্ডের ঘরবন্দি জীবন এড়াতে বাগানের আপেল গাছের নিচে গিয়ে বসেছিলেন তরুণ আইজ্যাক নিউটন। হঠাৎ খসে পড়া এক আপেল দেখেই উদ্ঘাটিত হয়েছিল বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের গতি ও টান। সেই থেকে পদার্থবিজ্ঞানে মাধ্যাকর্ষণ সূত্রের জনক হিসেবে সমাদৃত তিনি।

তবে আধুনিক গবেষণায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর এক তথ্য—নিউটনের বহু আগেই মাধ্যাকর্ষণ শক্তির বিষয়টি টের পেয়েছিলেন পঞ্চদশ শতকের ইতালীয় মনীষী লিওনার্দো দা ভিঞ্চি। তার গোপন নোটবুকের নানা আঁকাঝোঁকা ও খসড়া অন্তত তেমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিশ্বজোড়া খ্যাতি মূলত প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী হিসেবে হলেও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির গবেষণায় অভাবনীয় নজির রেখে গেছেন দা ভিঞ্চি। 

ভিঞ্চির কথা উঠলেই সবার আগে ভেসে ওঠে ‘মোনালিসা’, ‘দ্য লাস্ট সাপার’ কিংবা ‘ভিত্রুভিয়ান ম্যান’-এর মতো চিত্রকর্মের ছবি। তবে শিল্পকলার বাইরেও মাধ্যাকর্ষণ শক্তি নিয়ে তার চিন্তা ও মস্তিষ্কের বোঝাপড়া তৈরি হয়েছিল অনেক আগে।

আজ থেকে প্রায় ৫০০ বছর আগেই কাগজ-পেন্সিলে বাইসাইকেল, হেলিকপ্টার, ট্যাঙ্ক এবং বিমানের নকশা ফুটিয়ে তুলেছিলেন তিনি। তার সৃষ্টির একটি বড় অংশ কালের গর্ভে হারিয়ে গেলেও যা সংরক্ষিত রয়েছে, তা বর্তমান গবেষকদের কাছেও বিস্ময় জাগায়।

ভিঞ্চির রেখে যাওয়া সেই চিন্তাভাবনা এবং পরবর্তীতে গ্যালিলিও গ্যালিলির ‘দ্য ল অব ফ্রি ফল’ (বাতাসমুক্ত স্থানে সব বস্তুর সমান গতিতে নিচে নেমে আসা এবং সমান ত্বরণ সৃষ্টি করা) তত্ত্বকে কাজে লাগিয়েই স্থান-কালের সমতা নীতি দাঁড় করিয়েছিলেন অ্যালবার্ট আইনস্টাইন।

নিজের মাধ্যাকর্ষণ সংক্রান্ত চিন্তা নিয়ে দা ভিঞ্চি ঠিক কতদূর এগিয়েছিলেন, তা নিশ্চিতভাবে বলা না গেলেও তার দূরদর্শিতা যে যুগের চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিল—সে ব্যাপারে একমত বর্তমান বিজ্ঞানীরা।

শুধুমাত্র বিশ্ববিখ্যাত চিত্রশিল্পীই নন, ভিঞ্চি একাধারে ছিলেন স্থপতি, উদ্ভাবক, প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী ও অঙ্গব্যবচ্ছেদ বিশেষজ্ঞ। প্রথাগত গণ্ডির বাইরে গিয়ে তিনি ছিলেন নিজের শিক্ষক নিজেই। সব আবিষ্কার, গাণিতিক নকশা ও গবেষণার রহস্যময় তত্ত্ব গোপন নোটবুকে সতর্কতার সঙ্গে টুকে রাখতেন এই পলিম্যাথ।

শিল্প-সাহিত্য বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর